দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার লোকনাথ মন্দিরে পাচঁ প্রতিমা ভাংচুর

tyuiবাংলাদেশের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও লোকনাথ মন্দিরে পাঁচ প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ১৭ ডিসেম্বর, শনিবার ভোররাতে দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে  রবিবার সন্ধ্যায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেবাইত মানিক লাল দাস।
খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের সহকারি পুলিশ সুপার কানন কুমার দেবনাথ, দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও জেলা-উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোররাতে দুর্বৃত্তরা ব্রাহ্মণগাঁও লোকনাথ মন্দিরে পাঁচটি প্রতিমা ভাংচুর করে। রবিবার সকালে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেবাইত মানিক লাল দাস মন্দিরে ঢুকে দেখেন পাঁচটি প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে পুলিশ প্রশাসন মন্দির পরিচালনা কমিটি, গ্রামবাসী এবং উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ঘটনাস্থলে বৈঠক করেন।
লোকনাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেবাইত মানিক লাল দাস বলেন,‘জমি নিয়ে গ্রামের আবু তালিব ও শৈলেন দাসের সাথে আমাদের মামলা চলছে। আমার ধারণা এরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ একদিন আগে আবু তালেব বলেছে সে মন্দিরের ভেতর মৃত গরুর মাথা রেখে যাবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শৈলেন দাস ও আবু তালিব। শৈলেন দাস বলেন,‘আমি এই মন্দিরের জন্য ১০ শতক জমি দিয়েছি। আমি মন্দিরকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করি। আমি ও আমার পরিবারের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়।’
সুনামগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কানন কুমার দেবনাথ বলেন,‘গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে মন্দিরের জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে ও আদালতে মামলা চলছে। তাই প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা গ্রামের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।’