ঢাকায় ফের জঙ্গি ঘাঁটির খোঁজ, আতঙ্ক

ফের জঙ্গি ঘাঁটি ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল বাংলাদেশে। ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে ছ’তলা ভবনে সেই আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে খোঁজ মিলল জঙ্গি আবদুল্লার। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই জঙ্গির দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন মাজার রোডে ওই ভবনের পঞ্চম তলায় গা ঢাকা দিয়ে ছিল দীর্ঘদিন। ২০০৫ সাল থেকেই আবদুল্লা জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত। এদিন ফোনে RAB-কে  সে জানায়, তার ঘরে ৫০টির মত আইইডি আছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ রয়েছে।
RAB ওই বাড়ি ঘিরে ফেলার পর গত ৪ ই সেপ্টেম্বর  রাত ১টার দিকে আবদুল্লার ঘরের দিক থেকে পেট্রোল বোমাসহ চারটি বোমা ছোড়া হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ওই বাড়ি থেকে র্যা বের দিকে গুলিও ছোড়া হয়। রাতে ওই বিস্ফোরণের পর ফায়ার ব্রিগেডের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি হিসাবে ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় RAB সদস্যরা। ওই ভবন থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে এনে স্থানীয় একটি স্কুলের রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২৪ জন মহিলা ও ২৬ জন পুরুষ। যাদের সরিয়ে আনা হয়, তাদের মধ্যে আবদুল্লার এক বোনও রয়েছে। আবদুল্লাই তার বোনকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলে।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় ঘটনাস্থলের পুলিশ জানায়, আমরা আবদুল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছি। সে সময় চেয়েছে। যেহেতেু ভিতরে দুটি শিশু রয়েছে, আমরা তাকে সময় দেব। চূড়ান্ত অভিযানের জন্য আমরা প্রস্তুত। এখন তার সিদ্ধান্তের ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে। রাত পর্যন্ত চলে সেই আত্মসমর্পণের নাটক।
ওই বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জলসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পুরো এলাকা RAB (ৱ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন ) ঘিরে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একপ্রকার বন্দি অবস্থায় উৎকণ্ঠার মধ্যে গোটা দিনটা কাটায়। দারুস সালাম থানা এলাকায় মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছ’তলা ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লা বাহার আজাদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেও পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন ।
Advertisements