গোলাপী রানী মুসলিম যুবকে বিয়ে করে বিপাকে, চারিদিকে দেখছেন অন্ধকার

1.jpgকলেজের ছাত্রী গোলাপী রানী দাস এখন (মোছা. রেখা খাতুন ওরফে স্বপ্না,) হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঘর-সংসার করার পর গোলাপীকে ফেলে পালিয়ে যায় তার প্রেমিক। ফলে হতাশা নিয়ে অন্ধকার দেখছেন চারিদিকে ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রী গোলাপী রানী দাস আভিসিনা হসপিটালে নার্সের চাকরির পাশাপাশি পড়াশুনা করছে। এরই মধ্যে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেগনাই গ্রামের ডা. জয়নাল আবেদীনের ছেলে প্রতারক মাহবুব আলম নামে এক বিবাহিত যুবকের খপ্পরে পড়েন গোলাপী রানী দাস।মাহবুব গোলাপীকে চোখে ধুলা দিয়ে অবিবাহিত বলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরে তাদের মধ্যে অবৈধ মেলামেশা শুরু হয়। এমনকি দুইজনে বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে শুরু করেন।অপরদিকে গোলাপী রানী দাস এর পরিবার জানতে পারলে তাকে ভারতে তার নিকট আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু প্রতারক মাহবুব আলম গোলাপীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফোন করে স্বপ্নাকে ভারত থেকে নিয়ে আসে। স্বপ্না সিরাজগঞ্জ এলে তাকে বিয়ের কথা বলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায়।
এ বিষয়ে কলেজছাত্রী গোলাপী রানী দাস বলেন, আমি মাহবুব আলমকে নিয়ে মন্দিরে যাই এবং আমার ধর্ম অবলম্বনে আমাকে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। তখন থেকে আমরা দুইজন মেলামেশা শুরু করি। পরে সিরাজগঞ্জ এলে আমাকে বিয়ের কথা বলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় মাহবুব।গত ২১ জুলাই শুক্রবার দুইজনে ফুলকোচায় স্বপ্নার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এলে এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদেরের বাড়িতে রেখে দেয় এবং বিয়ের পরিকল্পনা করে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাইরে থাকায় দুইজনের বিয়ের কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। প্রতারক মাহবুব আলম শনিবার (২২শে জুলাই) গভীর রাতে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।গোলাপী রানী দাস তার প্রেমিককে পেতে ১১ দিন হলো ইউপি সদস্যের আব্দুল কাদেরের বাড়িতে ন্যায় বিচারের আশায় রয়েছেন। নিয়তি তাকে কোন পথে ঠেলে দেবে তা কেউ বলতে পারছে না।তবে পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এ ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে চূড়ান্ত বিচারের আশ্বাস দেন।এ বিষয়ে সামাজিক বিচারে কতটুকু সফলতা বয়ে আনবে তা নির্ভর করছে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর। বিষয়টি নিয়ে চলছে এলাকার মানুষের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা ।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, এলাকার লোকজন মেয়েটাকে আমার বাড়িতে স্থান করে দেয়ায় আমি সমস্যায় পড়েছি। আমি গোলাপীর সুন্দর ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি বিচারকদের কাছে। বিষয়টি অবগত করার জন্য আব্দুল কাদের সদর থানায় একটি অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Advertisements