গোলাপগঞ্জে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মহিলা ও শিশুকে মারধর

গত ২৭শে মার্চ, সিলেটের গোলাপগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ওই বাড়ির মহিলা ও শিশুকেও ছাড়েনি মুসলিমরা। প্রচন্ড মারধর করা হয় তাদের। শনিবার রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণের বারকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িঘরে হামলা ও মারধরের ঘটনায় রবিবার গোলাপগঞ্জ থানায় ১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঢাকাদক্ষিণ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু পুলিশ তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারকোট এলাকার বাসিন্দা নগেন্দ্র দেবের ছেলে রিপন দেবর সাথে প্রতিবেশি আকবর আলী গংয়ের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিলো। এনিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। এই বিরোধের জের ধরে শনিবার বিকেলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরপর রাতে এশার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদে আকবর আলী পক্ষ এ নিয়ে মিটিং করে। মিটিংয়ের পর মাইকে ঘোষণা দিয়ে রিপন দেবের বাড়িতে হামলা চালায় স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলা চালিয়ে তার ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কাজল দাশ বলেন, মসজিদের মাইকে হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর রিপন দেব ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে মারধর করে।
তিনি বলেন, মাইকে হামলার ঘোষণার দেওয়ার পর রিপন দেব মোবাইল ফোনে পুলিশকে এ খবর জানালেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
কাজল বলেন, রবিবার সকালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিসংযোগকৃত বাড়ির ধ্বংসস্তূপ দেখতে পাই। এসময় হামলায় আহত নারী ও শিশুর জন্য শুকনো খাবারেরও ব্যবস্থা করি।
অপরদিকে আকবর আলী পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, রিপন দেব শনিবার মসজিদের ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। এই ঘটনায় এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি বলেন, রিপন দেবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়েছে। তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে ১৫ জনকে আসামী করে রিপনের বাবা নগেন্দ্র দেব একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের অভিযোগ, রিপন মসজিদে ঢুকে তাদের মারধর করেছেন। ওসি বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।