একই কায়দায় আশ্রমের সেবককে হত্যা

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দেশের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যার মিল দেখছে পুলিশ।
গত ৯ই জুন, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় নিত্যরঞ্জন প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। আশ্রম সূত্র জানায়, নিত্যরঞ্জনের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদরে। তাঁর বাবার নাম রশিক লাল পান্ডে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে সেবাশ্রমটিতে সেবক হিসেবে কর্মরত ছিলেন নিত্যরঞ্জন।
আশ্রমের নির্বাহী পরিষদের সদস্য শ্রীবলাই কৃষ্ণ সাহা জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন ভোরে আশ্রম থেকে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন নিত্যরঞ্জন। মানসিক হাসপাতালের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা হয়। তাঁর ঘাড় ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আশ্রমের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
বলাই কৃষ্ণ সাহা বলেন, নিত্যরঞ্জন আশ্রমের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটছে, এটিকে তেমনই মনে হচ্ছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, নিত্যরঞ্জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। একই গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisements