আগুনে সর্বস্ব হারানো আদিবাসীদের পাশে হিন্দু সংহতি

এই বছরের ফেব্রূয়ারি  মাসে নদীয়ার পলাশিপাড়া থানার বার্নিয়া আদিবাসীপাড়ায় বিধ্বংসী আগুনে পাঁচটি আদিবাসী পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর আগে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল হিন্দু সংহতি। সেইসময় পরিবারগুলোকে রান্নার প্রয়োজনীয় বাসনপত্র এবং অর্থ সাহায্য করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। গতকাল ১৯ই মার্চ, মঙ্গলবার  ওই পাঁচটি পরিবারের হাতে মহিলাদের জন্য শাড়ি এবং পুরুষদের জন্য শার্ট দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী টোটন ওঝা।

Advertisements

এন্টালিতে জালনোটসহ গ্রেপ্তার তাফজুল হক

fake currency newমালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতার এজেন্টের হাতে তুলে দেবার সময় কলকাতা পুলিসের টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হলো মালদহের এক জালনোট কারবারি।  কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতের নাম তাফজুল হক। তাঁর বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। তাকে গত ১৮ই মার্চ, সোমবার রাতে এন্টালি থানা এলাকার সিআইটি রোড থেকে ধরা হয়। তাঁর কাছ থেকে দু লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগটাই দু হাজার টাকার নোট। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র মালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতা শহরে এজেন্টের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিসের হাতে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এর আগেই।এই নোট আসছে বাংলাদেশ থেকে। গোয়েন্দারা ধৃতকে জেরা করে আরও বিশদে জানতে চাইছেন।

গো-হত্যা নিয়ে কমিউনিস্টদের ভণ্ডামি

  • দেবাশীষ লাহা 
কম্যুনিস্ট স্বর্গরাজ্য কিউবাতে ১৯৭৯ সাল থেকে গোহত্যা তথা গোমাংস ভক্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। Article ২৮২ এবং ২৪১ এই নিষেধ নথিভুক্ত হয়েছে। Decree no ২৫৫ তে গোহত্যাকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল মাংস ভক্ষণ নয়,  গরু কেনা বেচা বা লেনদেন পর্যন্ত নিষিদ্ধ। গৃহস্থ কেবল দুধ দোয়াতে পারেন। অন্য কাজে লাগাতে পারেন। আইন ঠিকঠাক মানা হচ্ছে কিনা তা দ্যাখার জন্য নিয়মিত অনুসন্ধান ও গরু গণনা হয়। গোমাংস নিয়ে ধরা পড়লে দশ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এতে কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগছে কিনা জানা নেই। আর লাগলেও কিছু করার নেই। খাদ্যের স্বাধীনতা,  ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে কোনো আন্দোলনের কথাও শোনা যায় না। বিফ পার্টিও হয় না। দেশটা যে কিউবা। একটিই দল। কম্যুনিস্ট পার্টি। সে-ই ভাগ্যবিধাতা।  আর কোন রাজনৈতিক দল সেখানে নেই। থাকার প্রশ্নই নেই। কারণ সেটা বেআইনি। আর তাই নির্বাচনের ঝামেলাও নেই। পান থেকে চুন খসলে যে ফেসবুকে জানাবেন, প্রতিবাদ করবেন, তারও উপায় নেই। মাসের মধ্যে একদিন ইন্টারনেট পেলে আপনার সৌভাগ্য। নেতা টেতা হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।
যাচ্চলে!  এসব কি বলছি!  এ যে মহাপাপ!  চে গুয়েভরা থুড়ি গুয়েভারা, কাস্ত্রোর দেশ!  অর্থকরী দৃষ্টিভঙ্গিতে গোহত্যা নিষিদ্ধ হতেই পারে, সে মহান ব্যাপার। কিন্তু বৃহৎ ভাবাবেগে আঘাত লাগবে বলে গোহত্যা বন্ধ?  নৈব চ নৈব চ! শুধু কি তাই?  যে কোন সভ্য দেশে প্রাণিহত্যার ক্ষেত্রেও বিবিধ বিধিনিষেধ আছে৷ যেমন stunned করে হত্যা, ধর্মীয় হত্যার আগে অনুমতি নেওয়া,  ভেটেনারি সার্জনের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি ইত্যাদি ইত্যাদি। ও হরি তবে তো আবার হালাল হবেনা! ভাবাবেগে আঘাত লাগবে।   আর তাই দমদম এয়ারপোর্টে একটি বেআইনি মসজিদটি নিছক ভাবাবেগের কারণেই ভাঙা তো দূরের কথা, বাবা বাছা করে অন্যত্র সরানো পর্যন্ত যাচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু নতুন রানওয়ে তথা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজটি আটকে আছে।
কী বললেন?  আপনি আধুনিক ভারত নির্মাণের পক্ষে?  তাই ধর্ম নির্ভর খাদ্যাখাদ্য বিচার, কুসংস্কার ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে আসতে চান?  খাদ্য স্বাধীনতার পূজারি?  বাহ বেশ!  তা কমরেড কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকেই “সভ্য, আধুনিক” বানানোর টেণ্ডার নিলে যে আপনার জেণ্ডার চেঞ্জ হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে।  নিউজিল্যান্ডের হামলাটি কেন হল বলুন তো?  আধুনিক আইন কানুন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে মাথায় তুলে রাখলে পালটা প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম আপনি প্রকৃতই ধর্মনিরপেক্ষ।  আধুনিক জীবন যাপনে বিশ্বাস রাখেন। কথায় কথায় প্রথম বিশ্বের উদাহরণ দেন। কটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রে প্রকাশ্যে হিজাব পরা, কোরবানির অনুশীলন নিষিদ্ধ হয়েছে জানেন?  কোন দেশে কটি মসজিদ, কেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খবর রাখেন?  মসজিদ, মাদ্রাসায় যাতে বিদেশী টাকা না ঢুকতে পারে সেই উদ্দেশ্যে কোন কোন দেশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানেন কি?  হা হা হা!  আপনি যদি ধর্মনিরপেক্ষ হন, তবে ছাগলও মঙ্গলগ্রহের জীব।   ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে ভেবে আপনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির  প্রস্তাবে হেঁচকি তোলেন, রাস্তা আটকে নামাজ পড়লে সম্প্রীতি আওড়ান, “সুশিক্ষিততম” রাজ্যটিতেও বাল বিবাহের অনুশীলনে কাঁড়ি কাঁড়ি ছানা প্রসব হলে মুখে কুলুপ আঁটেন!  কেরালা মুর্শিদাবাদ, কোলন, বার্মিংহামে যে কোনো ফারাক নেই বেমালুম চেপে যান!  আর সেই আপনিই গোরু খাওয়ার স্বাধীনতা আছে বলে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তোলেন!  হে মহান বামাবতার!  কেবল সংখ্যালঘুদিগেরই কি ধর্মীয় অনুভূতি আছে?  সংখ্যাগুরুরা গরু পূজা করিয়া থাকে বলিয়াই কেবল পুচ্ছ নাচাইয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিবে?  ভরতের জন্মভূমিটি অদ্যপি কিউবা হইয়া ওঠে নাই, সুদূর ভবিষ্যতেও তাহা সম্ভব হইবে না, ইহা নরওয়ে সুইডেনও নহে।।এদেশের সিংহভাগ মানুষ অদ্যপি হিন্দু। ভাবাবেগ তথা ধর্মীয় অনুভূতি কেবল মুসলমানের সম্পত্তি নহে, হিন্দুদিগেরও তাহাতে সমান অধিকার। কবে কোন দেবতা গরু/ ষণ্ড ভক্ষণ করিয়াছিল তাহার “শাস্ত্র নির্ভর” ব্যাখ্যা প্রদান করিয়া এই হিন্দু ভাবাবেগকে দূরীভূত করা যাইবেনা। যেরূপ, দাড়ি, বোরখা, হিজাব, আকিদা ইত্যাদি লইয়াও ইসলামিক শাস্ত্রে অজস্র পরস্পর বিরোধী ব্যাখ্যা এবং বিশ্বাস বিদ্যমান।  শিয়া সুন্নী আহমেদিয়ার বিভেদ এবং বিভাজন এখন দিবালাকের ন্যায় পরিস্ফুট।  আপনি আমি কতটা মুক্তমনা, গোরু ভক্ষণ করি কি করিনা, তাহা অপেক্ষা অনেক বড় প্রশ্ন এদেশের সিংহভাগ মানুষ কোন ইচ্ছাটি পোষণ করেন। সংখ্যালঘুর ধার্মিক অনুভূতিকে সম্মান জানাইলে সংখ্যাগুরুর আবেগটিকেও শিরোধার্য করিতে হইবে। ইহাই বিজ্ঞান, ইহাই গণতন্ত্র।  খাদ্যনীতি অর্থনীতির দোহাই দিয়া যতই ইহার অন্যথা ঘটিবে গরুটি ততই লেজের ব্যবহার কমাইয়া শিং নির্ভর হইয়া পড়িবে।  তাহারই সূত্রপাত হইয়াছে।  প্রকৃতিদেবী কেন তাহাকে এক জোড়া শিং প্রদান করিয়াছে,নিরীহ চতুষ্পদটি উপলব্ধি করিয়াছে।  অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবেই এই গোঁতানোর কার্যক্রম।  অতএব হে বামাবতার, পশ্চাৎ দেশটি সামলাইয়া রাখুন।

বীরভূমের সিউড়ির সুরিতে জিহাদি হামলা, হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দিলো জিহাদি মুসলিমরা

 

বীরভূমে সিউড়ি শহরে আবার জিহাদি মুসলমান দ্বারা আক্রান্ত সিউড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দারা।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় শিবরাত্রি দিনে রাত্রি বেলায় সিউড়ি শহরের ৪নম্বর  ওয়ার্ডের কাঁটাবনি এলাকার কিছু মুসলমান সুরিপুকুর পাড়ার রাস্তায় যেতে যেতে রাস্তার কুকুর দের লাথি মারতে মারতে যায়। লাথি মারতে মারতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুরিপুকুর পাড়ার এক ছেলে বিশ্বজিৎ কাহার কে লাথি মারে। বিশ্বজিৎ লাথি মারলে কেন জিজ্ঞাসা করতে ওই মুসলমান ছেলে গুলি বিশ্বজিৎ কে মারধোর করে,পরে পাড়ার ছেলেরা এসে ঝামেলা মিটমাট করে দেয়।
 পরদিন সকালে বিশ্বজিৎ পৌরসভার ঠিকাদারের অধীনে  কাজ করছিল,  তখন ওই মুসলিম ছেলে গুলি বিশ্বজিৎ কাহার কে দেখে আবার মারধোর শুরু করে। পরে ঘটনাটি সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দারা পৌরসভার কাউন্সিলার কে জানায় এবং কাউন্সিলার পুরো ব্যাপার টি মিটমাট করে দেয়।
গতকাল ১৭ই মার্চ, সন্ধ্যা ছ’টা  সিউড়ি ৪নম্বর  ওয়ার্ডের কাঁটাবনির ওই মুসলিম ছেলে গুলি সুরিপুকুর পাড়ার রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্বজিৎ কে দেখতে পেয়ে আবার মারতে শুরু করে,এলাকার মহিলারা দেখতে পেয়ে ওই মুসলিম ছেলেদের হাত থেকে বিশ্বজিৎ কে ছাড়াই,এবং সুরিপুকুর পাড়ার এলাকাবাসী কাঁটাবনি পাড়ায় ওই মুসলিম ছেলেদের বাড়িতে বলতে গেলে কাঁটাবনি এলাকার মুসলিমরা সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দাদের পাথর ইট ছুড়তে থাকে মায়েদের মারতে শুরু করে, এবং সুরিপুকুর পাড়ায় এসে সুরিপুকুর পাড়ার বাসিন্দা দের বাড়ি ভাঙচুর চালায়,বাড়ি পুড়িয়ে দেয়,এবং সুরিপুকুর পাড়ার  পল্লী ক্লাব পুড়িয়ে দেয়,সুরিপুকুর পাড়ার হিন্দু মন্দিরে ইট পাথর ছোড়ে। এছাড়া পাড়ায় থাকা বেশ কয়েকটি খড়ের বাড়িতে আগুন দেয়।  মুসলিম জিহাদিরা নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়ির জানালা, দরজা ভেঙে দেয়। মুসলিমদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে যায়। অনেকে ইটের আঘাতে আহত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।  পরে ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল RAF ও পুলিসবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিউজল্যান্ডের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ৪০ জন মুসলিম, আহত ২০

new zealandনিউজল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে বন্দুকবাজের হামলায় নামাজ পড়তে আসা ৪০ জনের মৃত্যু এবং ২০জন আহত হয়েছে। সিএনএন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজ হামলা চালায়। সেই হামলায় অনেকের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হয়। অনুমান করা হচ্ছে যে এই ঘটনার পিছনে নিউজল্যান্ডের অভিবাসী বিরোধী, মুসলিম বিরোধী গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। কারণ বেশ কিছু বছর ধরেই নিউজল্যান্ডের ভূমিপুত্ররা দেশে মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এমনকি নিউজল্যান্ডের মানুষজনকে ক্রমাগত ইসলামে ধর্মান্তরিত করা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। এর ফলেই এই ঘটনা বলেই অনেকে মনে করছেন। এমনকি একজন হামলাকারী ঘটনার লাইভ করেন তার ফেসবুক একাউন্টে। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে আসার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের। তবে কিছুক্ষন আগেই হামলা হওয়ায় তড়িঘড়ি ক্রিকেট টিমের বাস থেকে দৌড়ে হোটেলে পালিয়ে যান। যদিও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

প্রিয়া সর্দারের অপহরণকারী মোক্তাউদ্দিন মোল্লা গ্রেপ্তার

গত ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখা থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের হিন্দু নাবালিকা প্রিয়া সর্দারকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় মোক্তাউদ্দিন। পরে মেয়েকে ফিরে পাবার আশায় মোক্তাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে মিনাখা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রিয়ার পিতা মাধাই সর্দার। প্রথমে পুলিস গুরুত্ব না দিলেও পরে হিন্দু সংহতি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে পুলিস সক্রিয় হয়। গত ১২ই মার্চ প্রিয়াকে উদ্ধার করে পুলিস। এবার অপহরনকারী মোক্তাউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। এই গ্রেপ্তারে প্রিয়ার পরিবার স্বভাবতই খুশি। সেইসঙ্গে হিন্দু সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসা একটি মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে পেরে হিন্দু সংহতি সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছে। হিন্দু সংহতি প্রথম থেকেই প্রিয়ার দরিদ্র পরিবারের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সেইসঙ্গে মিনাখা থানার পুলিস অফিসেরদেরকে ধন্যবাদ। 

চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব

ramdevভারতের মানুষকে চীনা পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানালেন যোগগুরু বাবা রামদেব। সেই আহ্বানসহ টুইট করেছেন গতকাল। সন্ত্রাস প্রশ্নে পাকিস্তানকে বরাবরই সমর্থন জানিয়ে আসছে চীন। এমনকি চীনের ভেটো দেওয়ার ফলে মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা বাধা পাচ্ছে বারবার। তাই এবার চীনা পণ্য বর্জন করার ডাক দিলেন রামদেব।  তিনি তাঁর টুইটে বলেন, ”মাসুদ আজহারের সমর্থক চীন এবং তাদের নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিকভাবে বয়কট করা উচিত আমাদের। চীন শুধু ব্যবসার ভাষা বোঝে। তাই ওদের অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করলে, তা ওদের কাছে যুদ্ধের থেকেও ভয়ঙ্কর হবে”।

চট্টেশ্বরী সড়কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দুদের

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মা চট্টেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার নাম পরিবর্তন করা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, রাতারাতি রাস্তায় থাকা ছ’টি নামের ফলক সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর জে এই মাদ্রাসা সড়ক নামের ফলক লাগানো হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় এবং পথ অবরোধ, মানববন্ধন করে।  চাপে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে শান্ত করতে  এমপি বিবৃতি দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে চট্টেশ্বরী রোডের নাম ফেরালে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

হিন্দু সংহতির প্রচেষ্টায় লাভ জিহাদের শিকার প্রিয়া সর্দার উদ্ধার

IMG-20181228-WA0033গত ২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের বাসিন্দা মাধাই সর্দারের নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মোক্তাউদ্দিন মোল্লা। সেইসময় প্রিয়ার বয়স মাত্র ১৫ বছর ৮মাস ছিল। প্রিয়ার পিত মাধাই সর্দার  মিনাখাঁ থানায় মেয়েকে ফিরে পাবার জন্যে এবং দোষীর গ্রেপ্তারের জন্যে অভিযোগ দায়ের করেনFIR নং -৩৮৪/১৮ । কিন্তু পুলিসের তৎপরতা না দেখে তিনি হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে প্রিয়াকে উদ্ধার করার জন্যে পুলিসের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, স্টেট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার দপ্তরে এবং প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে প্রিয়ার পরিবারের নিরাপত্তার দিকটিও হিন্দু সংহতির কর্মীরা লক্ষ রেখেছিলো। শেষপর্যন্ত গতকাল ১২ই মার্চ রাতে মিনাখাঁ থানার পুলিস প্রিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নাবালিকা প্রিয়া উদ্ধার হওয়ায়  হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মিনাখাঁ থানার পুলিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

হিন্দু সংহতির উদ্যোগে রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরে

গতকাল ১১ই মার্চ, সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বর্ধমান শহরে হিন্দু সংহতির এবং “ভাবনা”
সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরের শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনে অভিষেক বিয়ে বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন হিন্দু সংহতির কর্মী রক্তদান করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, প্রমুখ কর্মী টোটন ওঝা এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবাংশু ভঞ্জ, প্রশান্ত চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় সূত্রধর।

আতঙ্কে ঘর ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতি কর্মীরা

মুসলিমদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতির কর্মীরা। গত ১০ই মার্চ, রবিবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা মহিলাকে।সঙ্গে করে তাঁর বাড়িতে রেখে আসেন। ঘটনাটি হাওড়া জেলার অন্তর্গত বাগনান শহরের ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আশ্রম মোড়ের বাসিন্দা শুভ্রা মিত্রের একটি পৈতৃক জমি তার ভাই ওনার অজান্তে ইউনুস নামে একজন মুসলমানকে বিক্রি করে দেন। সেইমতো মুসলমানরা ওই জমিতে একটি টিনের বাড়িও তৈরি করেন।সেটা জানার পর শুভ্রা মিত্র কোর্টে মামলা করেন এবং কোর্ট ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় মুসলিমরা। এমতবস্থায় গত ৭ই মার্চ, বৃহষ্পতিবার ইউনুসের পরিবারের মহিলারা এবং তাঁর ছেলেরা শুভ্রা মিত্রের বাড়িতে এসে উনাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। উনাকে মারধর করে এবং কেস তুলে নেবার জন্যে শাসিয়ে যায় । এতে আতঙ্কিত হয়ে উনি ঘর ছাড়েন। এরপর ঘটনার কথা হিন্দু সংহতির কর্মীদের জানান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ওই মহিলাকে ওনার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।সেই সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা উনার নিরাপত্তার বিষয়টিও খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে যখন হিন্দু সংহতির কর্মীরা গিয়েছিলেন, সেই সময় ওই মুসলিমদের পরিবারের কেউ ছিল না, বাড়িটা তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। 

ভিডিও লিংক -https://www.facebook.com/hindusamhatibangla/videos/331598884151961/?t=3

আসামে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে প্রচার হিন্দু সংহতির

লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু মেয়ের গৃহ ত্যাগ এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু এই লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সংহতি তার প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে লড়াই করছে। সেই ধারা বজায় রেখে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে মানুষের সচেতনতা গড়ে তুলতে বাড়ি-বাড়ি অভিযান চালানো হলো আসামে।  হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের যুবক কর্মীরা লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় প্রচার চালাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাছাড় জেলার  শিলচর শহর, মালুগ্রাম প্রভৃতি এলাকার হিন্দু বাড়িতে গিয়ে হ্যান্ডবিল দেওয়াসহ প্রচার চালাচ্ছেন।  এই পর্যন্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা ২০০টি পরিবারে প্রচার চালিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বরাক ভ্যালির হিন্দু সংহতি প্রধান সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন, ”আমরা ১০০০ টি পরিবারে প্রচার চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। তাই আগামী দিনগুলিতে হিন্দু সংহতির এই প্রচার অভিযান চলবে”।

কলকাতায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় বসিরহাট থেকে গ্রেফতার রবিউল ইসলাম

বিস্ফোরকবোঝাই ম্যাটাডোর উদ্ধারের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। ধৃতের নাম রবিউল ইসলাম। বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এই নিয়ে মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হল।

পুলিস সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রবিউল ইসলামকে। ধৃত ম্যাটাডোর চালক ও খালাসিকে জেরা করে রবিউল ইসলামের খোঁজ পান তদন্তকারী অফিসাররা। জানা গিয়েছে, এই রবিউল ইসলাম-ই পটাসিয়াম নাইট্রেট-এর বরাত দিয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাতেই মজুত করা হত বাজেয়াপ্ত ১০০০ কিলোগ্রাম পটাসিয়াম নাইট্রেট। এসটিএফ-এর অনুমান, তারপর সেখানেই বানানো হত বিস্ফোরক।

পুলওয়ামা কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার জের কাটতে না কাটতেই শুক্রবার রাতে কলকাতায় উদ্ধার হয় বিস্ফোরকবোঝাই লরি। টালা ব্রিজের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই লরিটি উদ্ধার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। লরির ভিতর থেকে মোট ২৭টি ব্যাগে কমপক্ষে ১০০০ কেজি পটাশিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায় এসটিএফ। তখনই টালা ব্রিজের কাছে আটক করা হয় লরিটি। গ্রেফতার করা হয় লরির চালক ও খালাসিকে।

জেরায় ধৃতরা জানায়, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এই চক্র চালানো হত। ওড়িশার বালেশ্বর থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল বিস্ফোরক। উত্তর ২৪ পরগনার একটি জায়গায় এই বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এরপরই বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রবিউলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।

হাওড়ার কালী মন্দিরে মাইক দান হিন্দু সংহতির

হাওড়া জেলার বাগনান থানার অন্তর্গত মুর্গাবেড়িয়া গ্রাম। সেই গ্রামের শ্মশান কালী মন্দির খুবই জাগ্রত একটি মন্দির। গ্রামের বাসিন্দারা মন্দিরের পূজার সুবিধার জন্যে হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের কাছে একটি মাইক সেট দেবার আবেদন করেন। সেই মতো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে আজ ওই মন্দিরে মাইক সেট তুলে দেওয়া হয়। এই সময় মন্দির প্রাঙ্গনে  গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনান থানা এলাকার প্রমুখ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচিতে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন একজন সহৃদয় সমর্থক শ্রী তপন দেশপ্রেমী। মাইক সেট পাওয়ায় গ্রামবাসীরা স্বভাবতই খুশি এবং তাঁরা এই কাজে হিন্দু সংহতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বলিউডের ইসলামীকরণ

  • – অমিত মালী 

 

ভারতবর্ষের হিন্দি সিনেমা বলিউড নামে পরিচিত, যা এতদিন ভারতবর্ষের সাধারণ থেকে ধনী এলিট শ্রেণীর জনগণকে আনন্দ দিয়ে এসেছে। সত্যিই আজকের দিনে বলিউড একটি শক্তিশালী  মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে বলিউড ভারতের হিন্দুদের পিছনে যে বাঁশ দিয়ে আসছে  এবং তা আমাদের হিন্দুদের অজান্তে,অনেকের প্রতিভা থাকা সত্বেও হিন্দুদেরকে বঞ্চনা করা হয়েছে, অনেক হিন্দু অভিনেতা ও অভিনেত্রী ও গায়িকা মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে,হিন্দি সিনেমার গানের মধ্য দিয়ে উর্দু ভাষা ও ”আল্লা”  শব্দটিকে ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে, সেটাই এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়।

হিন্দি সিনেমার কথা যখনই আলোচনা করা হয়- তা সে খবরের কাগজ বা টিভি চ্যানেল হোক, প্রথম যে কথাটা উঠে আসে ( এটা  মাঝে মাঝে হেডলাইনও হয়) যে বলিউড শাসন করছে তিন খান। তিন খান বলতে শাহরুখ খান, সলমান খান এবং আমির খান। এই তিন খান দীর্ঘ বছরে তাদের সিনেমার মধ্য দিয়ে ভারতের মানুষের মধ্যে মুসলিম ধারা ও তাদের সংস্কৃতি, মুসলিমদের পক্ষে এবং হিন্দুদের বিশাল ক্ষতি করে এসেছে এবং এখনো পুরো মাত্রাতে করছে। এরা  ছাড়াও বলিউডের বেশ কয়েকজন প্রযোজক যারা সিনেমা তৈরিতে টাকা দেয় যেমন মহেশ ভাট( নাম হিন্দুর মতো হলেও একজন মুসলিম), সাজিদ নাদিদওয়ালা প্রভৃতি। এছাড়া সংগীত পরিচালক সেলিম মার্চেন্ট ও তার ভাই সুলেমান মার্চেন্ট, আনিস বাজমি,লাকি আলী,অনু মালিক ও আরো অনেকে।

প্রথমে এই তিন খানের কোথায় আসা যাক। তিন খানের সবাই হলো এক একটা ”লাভ জিহাদি”  এবং এরা  ভারতের লক্ষ্য লক্ষ্য লাভ জিহাদির কাছে একটি প্রেরণা এবং তারা নিঃসন্দেহে এদেরকে অনুসরণ করে।শাহরুখ খান গৌরীকে বিয়ে করে তাকে মুসলমান বানিয়ে দিয়েছে এবং তার ছেলে মেয়ে সকলে মুসলিম হয়েছে। মুখে হাজারবার আমি মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়নি বললেও,আমি বাড়িতে হিন্দুধর্ম মেনে চললেও, গৌরী খান তার তিন ছেলেমেয়ের একজনের নামও হিন্দু নাম দিতে পারেনি। তারপর শাহরুখ খান তার অভিনীত সিনেমার মধ্য দিয়ে মুসলিম চরিত্রগুলিকে বড়ো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। একটি সিনেমা হলো ”মাই নেম ইজ খান”। সলমন খানও লাভ জিহাদের চেষ্টা চালিয়ে এসেছিলো দীর্ঘদিন থেকে। প্রথমে ঐশ্চর্যা রাই, তারপর সোনাক্ষী সিনহা। কিন্তু কোনোটিই সফল হয়নি। তারপর সলমন খান মুসলিম উম্মাহ-কে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করলো তার ‘সুলতান’ সিনেমায়। তিনি এই সিনেমায় দেখালেন যে এক মুসলিম কুস্তিগীর হরিয়ানা থেকে  বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু বাস্তবে কি দেখা যায় ?  আজও পর্যন্ত হরিয়ানা থেকে একজনও মুসলিম কুস্তিগীর  আসেনি। কারণ সবাই জানে ভারতের মুসলিমরা মাওলানা-মৌলবী বা কাজী হয়, কুস্তিগীর নয়।

তবে একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে কারওর অজানা নেই যে বলিউডে মুসলমান ডন দাউদ ইব্রাহিম-এর টাকা ঘুরপথে ব্যবহার করা হয়। আর সেই টাকাতে এতবছর বলিউডের ইসলামীকরণ হয়ে চলেছে ; যদিও ED অনেক তদন্ত করে তার কোনো হদিস পায়নি। দাউদের বোন হাসিনা পার্কার-যে দাউদের অনুপস্থিতিতে মাফিয়া রাজত্ব চালিয়ে গিয়েছে, তাঁর নামে সিনেমা বানানো হলো এবং হাসিনা পার্কারকে নির্দোষ হিসেবে দেখানোহলো। বলিউডের প্রযোজকদের মধ্যে ইসলামিক মানসিকতা ও  পাকিস্তানের প্রতি  ভালোবাসা অতিরিক্ত বেশি।বলিউডের প্রথম সারির প্রযোজকদের মধ্যে মহেশ ভাট ও সাজিদ-ওয়াজিদ নাদিদওয়ালা বিখ্যাত মহেশ ভাট নিজে পূজা বেদিকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করেছে। তারপর নিজের ভাগ্নে ইমরান হাশমিকে সিনেমাতে নামিয়েছে। ইমরান হাশমি  কিছুটা জোকার-এর মতো দেখতে। একের পর এক ছবিতে তাকে সুযোগ  দেওয়া হয়েছে মহেশ ভাট -এর প্রযোজনায়।পর পর বেশ কয়কটি ছবি ফ্লপ করলেও পরে আবার সে মহেশ ভাট-এর প্রযোজনাতে সিনেমাতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছে একসময় ছবি হিট করানোর জন্যে  ছবিগুলিতে অতিরিক্ত সেক্স ঢোকানো হয়। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে তার প্রতিটা সিনেমার বিপরীতে হিন্দু নায়িকা। ভাবটা এইরকম যে আমরা আমাদের মেয়েকে ঢেঁকে রাখবো, কিন্তু হিন্দু মেয়েদের  সেক্স-এর অভিনয় করাবো। তাতে সিনেমাগুলি বেশ কিছুদিন চললেও বেশিদিন টেকেনি।কিন্তু হিন্দু অভিনেতা রণবীর সিং-এর একের পর এক সিনেমা ‘ব্যান্ড বাজা বারাত”, ”লেডিস ভার্সাস রিকিবহল”, ”গুণ্ডে”, ”বাজিরাও মাস্তানি”, ”পদ্মাবত” আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা সুপারহিট করলেও মহেশ ভাট-এর ব্যানারে সিনেমা করার সুযোগ পাননি। একটা ছবি করার জন্য যে রণবীর সিং-এর মত প্রতিভাবান অভিনেতাকে অপেক্ষা করতে হয় কখন হিন্দু প্রযোজক-পরিচালক রামগোপাল বর্মা বা সঞ্জয় লীলা বনশালীর কাছ থেকে অভিনয়ের ডাক আসবে।তারপরতো মহেশ ভাট এখন তার মেয়ে আলিয়া ভাটকে, 

যার মুখে এখনো বাচ্চা মেয়ের ভাব এখনও কাটেনি, সিনেমাতে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে ব্যাস্ত । পিতার দয়ায় হিন্দু অভিনেত্রী শাসিত বলিউডে সে  দ্রুত উঠে আসছে উপরের দিকে । যদিও ইমরান হাশমিকে ফিরিয়ে আনার একটা চেষ্টা ”আজহার (২০১৬)” সিনেমা দিয়ে করা হয়েছিল। এখানে সেই মুসলিম উম্মাহ-কে তুলে ধরাই  প্রধান উদ্দেশ্য। সিনেমাতে দেখানো হল সংগীতা বিজলানিকে বিয়ে করা, ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা, আজহার উদ্দিন  জাতীয় নায়ক-   এটা ভারতের জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু হাজার চেষ্টা সত্বেও, সিনেমাটা চলেনি একদম। এখানে মহেশ ভাট-এর প্রযোজনাতে হায়দার(২০১৪) সিনেমার কথা না বললেই নয়। এই সিনেমাতে কাশ্মীরের মুসলিমদের ওপর ভারতীয় সেনার অত্যাচার, তার ফলে এক কাশ্মীরি মুসলিম যুবকের পাগল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখানো হলো। পরিষ্কার ভাবে ভারতের সাধারণ  কাছে আমাদের দেশের গর্ব সেনাবাহিনীকে ছোট করে দেখানো হল। এই সিনেমাতে একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছিল যা হিন্দু ধর্মের অপমান। এই সিনেমার একটি দৃশ্যে কাশ্মীরের সূর্য মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ  দেখানো হয়েছিল। ওই দৃশ্যে পাগল হায়দার মন্দির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার সময় বলছে যে ওখানে নাকি শয়তানের বাস, ওখানে আগুন জ্বলছে, ওই শয়তান তার বাবাকে লুকিয়ে রেখেছে। পাগল হলেও কি হবে , মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে একজন জিহাদির মতো।  তারপর মহেশ ভাট ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে আসছেন যে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা ওখানকার স্থানীয় মুসলমানের ওপর অত্যাচার করছে, সাধারণ জনগণের মানবধিকার হরণ করছে। কিন্তু একজন সেনাও যে মানুষ এবং তারও যে মানবধিকার আছে সেটা ভুলে গেছেন মৌলবাদী মানসিকতার চাপে। বলিউডের আর এক অভিনেতা হৃত্তিক রোশনের কথা ভাবলে হিন্দুদের বঞ্চনার কথা আমার চোখের সামনে জলের মতো পরিষ্কার হয়। একজন অভিনেতা হওয়ার সব গুন তার মধ্যে থাকা সত্বেও  নতুন ছবি করতে হলে  পিতা  রাকেশ রোশনের প্রযোজনার ওপর নির্ভর করতে হয়। একজন আদর্শ অভিনেতা হবার সব গুন যেমন লম্বা, সুঠাম শরীর, অভিনয়ের দক্ষতা থাকা সত্বেও বলিউডের পাকিস্তান প্রেমী প্রযোজকদের নজর কোনোদিন এর ওপর পড়েনি। ”ধূম ২”  সুপারহিট হলেও কোনো এক অজানা কারণে ”ধুম ৩” থেকে বাদ পড়তে হয়। তার বদলে ধূম ৩ তে আমির  খানকে নেওয়া হলো। পুরো ছবিতে আমির খানকে একবারের জন্যেও নায়ক বলে মনে হয়নি-যেন একজন জোকার। কারণ নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফ অনেক লম্বা আমির খানের থেকে, তাই পুরো সিনেমাতে একবারের জন্যেও দুজনের একটিও ক্লোজ সিন্ দেখানো হয়নি। তারপর অনেক অপেক্ষা করার পর তার পিতার  প্রযোজনাতে হৃতিক রোশন ”ক্রিস ২” সিনেমাতে অভিনয় করলেন। সিনেমা হিট করলো, কিন্তু তা সত্বেও পাকিস্তান প্রেমী কোনো প্রযোজকের কাছ থেকে নতুন সিনেমা করার ডাক পেলেন না। এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে শুধুমাত্র হিন্দু  হবার কারণে ঋত্বিক রোশনের প্রতি এই বঞ্চনা। তাছাড়া ঋত্বিক রোশন বলিউডের একমাত্র অভিনেতা যে একজন মুসলিম সুজান খানকে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে করেছে। তাই তাঁর ওপর ক্ষোভ থাকাই স্বাভাবিক। কারণ এই প্রযোজকেরা প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত হিন্দু অভিনেতাকে বাদ দিয়ে সইফ আলী খান-এর মতো ফ্লপ অভিনেতা, আরশাদ ওয়ারসি-এর মতো আনকোরা অভিনেতা, পাকিস্তান-এর অভিনেতা ফাওয়াদ খান, আলী জাফরকে নিয়ে একের পর এক সিনেমাতে অভিনয় করিয়েছেন। পুরো দুই  বছর অপেক্ষা করার পর ২০১৭তে পিতার প্রযোজনাতে ”কাবিল” ছবিতে একজন অন্ধ ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করলেন। কিন্তু ঠিক একই দিনে আর মুসলিম শাহরুখ খানের ”রইস ” মুক্তি পেলো। এই সিনেমাতে শাহরুখ খান একজন মুসলিম ডন-এর ভূমিকায় অভিনয় করলেন, যে ডন অনেক হিন্দু ব্যবসায়ীদের ঠেকে তোলাবাজি করে,হিন্দু ডনকে খুন করে সে তার রাজ্ কায়েম করে। পুরো দেশের মানুষের মধ্যে এই ধারণাকে জোরদার করা হলো যে মুসলিমরা শুধু ডন হয়। শাহরুখ খান এই সিনেমাতে তার জন্যে ভারতে একটাও নায়িকা পেলেন না, পাকিস্তান থেকে মাহিরা খানকে নিয়ে এসে অভিনয় করালেন। এটা একটা চেষ্টা বলিউডের হিন্দু নায়িকাদের প্রাধান্য কমানোর।  সবথেকে যে ব্যাপার তা অবাক করে যে বেশ কয়েকবছর শাহরুখ খান মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করছেন। তিনি ”মাই নেম ইজ খান” সিনেমাতে দেখালেন মুসলিমরা কত হেনস্তার শিকার হয়। এর দ্বারা তিনি মুসলিম জনমানসে মুসলিম ‘উম্মাহ’ জাগিয়ে তোলার  কাজ করলেন। অনেক লেখালেখি ও প্রচার সত্বেও এই সিনেমা ফ্লপ করল। কিন্তু ঋত্বিক রোশনের কাবিল সিনেমা কিন্তু সুপারহিট হলো।

লিউডে হিন্দু অভিনেত্রীদের প্রাধান্য  বরাবর। রানী মুখার্জী, মাধুরী দীক্ষিত, কাজল, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাডুকোন, ঐশ্চর্য রাই,বিদ্যা বালান , কঙ্গনা রানাউত, অনুষ্কা শর্মা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্ করছেন।  কিন্তু এখানেও হিন্দু প্রাধান্য কমানোর চেষ্টা চলছে জোর কদমে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রেমী  অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এদের মধ্যে শাহরুখ খান এক নম্বরে রয়েছেন। তিনি নিয়ে এলেন হুমা  কুরেশি ও মাহিরা খানকে। এই মাহিরা খান যিনি ‘রইস’ সিনেমায় অভিনয় করলেন শাহরুখ খানের সঙ্গে।  সাজিদ নাদিদওয়ালা নিয়ে এলেন মওরা হুসেনকে,মহেশ ভাট নিয়ে এলেন বিনা মালিক, নার্গিস ফকরিকে। সলমন খান নিয়ে এলেন ক্যাটরিনা কাইফকে, কারণ জোহর  নিয়ে এলেন শ্রীলংকা থেকে খ্রিস্টান জ্যাকলিন ফার্নার্ন্ডেজকে। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে কোনোরকম মডেলিং ব্যাকগ্রাউন্ড  না থাকা  সত্বেও একের পর এক সিনেমাতে এরা অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে চলেছে। বোঝা  যায় এক্ষেত্রে পরিকল্পিত ভাবে পাকিস্তান থেকে অভিনেত্রিদের এনে হিন্দু প্রাধান্য  কমানোর জোর চেষ্টা চলছে।

বলিউডে হিন্দু গায়কদের প্রাধান্য দীর্ঘদিন। কিন্তু সেখানেও হিন্দুদের বঞ্চনা করা হয়েছে এবং এখনো করা হচ্ছে পাকিস্তান প্রেমী প্রযোজক ও পরিচালকদের  দ্বারা।পাকিস্তান থেকে আতিফ আসলাম, শাফাকাত আমানত আলী, রাহাত ফতে আলী খান, মুস্তাফা জাহিদ, মুহাম্মদ ইরফানদের দিয়ে একের পর এক ছবিতে গান গাওয়ানো হয়েছে।  নামকরা হিন্দু গায়করা যেমন-হিমাচল প্রদেশের মোহিত চৌহান, আসামের জুবিন গর্গ, উত্তর প্রদেশের অংকিত তিওয়ারি -এর মতো গায়কদের বঞ্চনা করা হয়েছে।মোহিত চৌহান ” রকস্টার” ছবিতে গানের জন্যে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন , তাকে আর নতুন করে ডাকা হয়নি। ”মার্ডার ২” সিনেমার গায়ক হরষিত সাক্সেনা, যার গান ‘হাল-এ -দিল’ কয়েক কোটি ডাউনলোড হয়েছিল; এইরকম একজন প্রতিভাবান গায়ক কিন্তু আর গান গাওয়ার সুযোগ পাননি। তার বদলে পাকিস্তান থেকে আসা এই সমস্ত গায়করা একের পর ছবিতে গান গেয়ে চলেছেন।   শুধুমাত্র অরিজিৎ সিং মারাত্বক প্রতিভাবান ও  জনপ্রিয়, তাই তিনি টিকে গিয়েছেন।  কারণ সিনেমা হিট করানোর জন্যে অরিজিৎ সিংকে দরকার।   অন্যদিকে আরমান মালিক, জাভেদ আলি  এরা গান গেয়ে চলেছে।জনপ্রিয় গায়ক শানও অনেকদিন কোন ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাননি, যদিও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গায়করা গান গেয়ে চলেছেন একের পর এক ছবিতে। আর এক জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম, যাকে বাদ পড়তে হয়েছে বলিউডের পাকিস্তান প্রেমের জন্যে। তবে কিছুদিন আগে তিনি বিরক্তিকর মসজিদের আজান নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তারপরে তিনি আর কোনো ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাবেন কিনা, সেটাই সন্দেহ।   সুনিধি চৌহান-এর মতো গায়িকা প্রযোজক আনিস বাজমিকে বিয়ে করলো, যদিও এখন ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে তাদের। কিন্তু ”মুন্নি বদনাম”-এর গায়িকা মমতা শর্মা নিজে বদনাম হয়ে গেলো। সে বিয়ে করলো তার সেক্রেটারি আশরাফ আলীকে আর ধর্মান্তরিত হলো ইসলাম ধর্মে, নতুন নাম হলো আসমা আলী। যদিও এই নতুন নামে সে খুব একটা বিখ্যাত নয়। তারপর বলিউডের গানের ভাষা যথেষ্ট জিহাদি টাইপ। যত দিন যাচ্ছে গানের মধ্যে প্রচুর উর্দু ভাষার ব্যবহার, ‘আল্লাহ’, ‘খুদা’, ‘রব’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার মারাত্বক হারে বেড়ে চলছে। এইসব হচ্ছে গীতিকার (গান লেখক ) ইরশাদ কামিল, কুমার, এলাহাবাদের অমিতাভ ভট্টাচার্য, সেলিম -সুলেমান -দের জন্যে। সিনেমার একজন হিন্দু চরিত্র গানের মধ্যে বলছে ”তওবা কেয়ামত হো গায়ি , আল্লাহ মাফ ক্যারো”, ‘মওলা’, ‘ইবাদত’, ইত্যাদি শব্দ। ”ফ্যাশন” সিনেমাতে একটি গান শুরু হচ্ছে ”শুকরান আলা -আলী হামদুলিল্লাহ” দিয়ে -যার দায়িত্বে ছিলেন সঙ্গীত  পরিচালক সেলিম -সুলেমান। ”রেস” সিনেমাতে হিন্দু চরিত্রের মুখে গান শুরু হচ্ছে ”আল্লাহ দুহাই হে”। শাহরুখ খান আর আলিয়া ভাট-এর নতুন ছবি ‘ডিয়ার জিন্দেগী’-তে একটি গানের লাইন হল  ”মেরে মহল্লা মে ঈদ যো  লায়া হে”।  আর এইসব গান কোটি কোটি হিন্দু যুবক-যুবতী শুনছে প্রতিনিয়ত। আর ধীরে এইসব তাদের মনের ভাষা ও মুখের ভাষাতে পরিণত হচ্ছে।  ইসলাম  নামক জিনিসটি তাদের কাছে সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। এর ভবিষ্যৎ ক্ষতি খুব মারাত্বক।

দীর্ঘ বছর ধরে বলিউড ইসলামী ধর্মান্তকরণের আখড়া হয়ে আছে। বর্তমানেও তার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নাসিরুদ্দিন শাহ নিকাহ করল রত্না পাঠক-কে আর জন্ম দিলো এক মুসলমানের, যার নাম ইমরান খান। ইমরান খান আবার নিকাহ করল দিল্লীর অবন্তিকা শেঠকে। নাসিরুদ্দিন-এর ভাগ্নে আমির খান আবার ডাবল সেঞ্চুরির মালিক। প্রথমে নিকাহ করল রিনা দত্তকে ; জন্ম দিলো দুই মুসলমানের- জুনেদ আর ইরা। যেসময় আমির খানের হাতে কাজ ছিল না, ট্রাভেল এজেন্সির মালিক রিনা দত্ত প্রযোজনা করেছিলেন ”লাগান” ছবিটির। এই ছবিটি আমির খানের জায়গা বলিউডে অনেক শক্ত করে তোলে। কিন্তু কোনো মুসলমান যেরকম উপকার মনে রাখে না, উল্টে তার ক্ষতি করে, আমির খানও তার ব্যতিক্রম নয়। ”লাগান”-এর সহপরিচালক কিরণ রাও-এর সঙ্গে প্রেম করলেন এবং কয়েক মাসের মধ্যে রিনা দত্তকে তালাক দিয়ে কিরণ রাওকে নিকাহ করলেন। মুসলমান কিরণ রাও জন্ম দিলেন আর এক মুসলমান আজাদ-এর। শাহরুখ খান নিকাহ করল গৌরিকে আর জন্ম দিল তিনটে মুসলমানের-আরিয়ান, ,সারা আর আবরামের। আর এক অভিনেত্রী অমৃতা  সিংহ , ২৫বছর বয়সে  আর ধৈর্য ধরল না , নিকাহ করল ১৯ বছরের সইফ আলি খানকে। তারপর জন্ম দিল দুটো মুসলমানের -ইব্রাহিম আলী খান আর সারা আলী খানের। তারপর তালাক দিল একদম সাচ্চা মুসলমানের  মত। তারপর তার মন গিয়ে পড়লো করিনা কাপুর-এর। তারপর নিকাহ করলো তাকে -জন্ম দিলো আর একটা মুসলমানের , তৈমুর আলি খানের। ফারহান আখতার নিকাহ করল অধুনাকে ,তারপর তাকে বাদ দিয়ে এখন আবার নতুন শিকার শ্রদ্ধা কাপুর -এর পিছনে। যদিও  শক্তি কাপুর-এর কড়া মনোভাবের জন্যে এ যাত্রায় বেঁচে গেলো একটি হিন্দু মেয়ে।

 বর্তমান ভারতে এক মারাত্বক বিপজ্জনক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তার ফল বলিউডের সিনেমাগুলিতে বিগত কয়েকবছর  ধরে দেখা যাচ্ছে। আমির খানের একটা ভারত বিরোধী মন্তব্য তার অনেক ক্ষতি যেমন সিনেমা ফ্লপ হওয়া, স্ন্যাপডিল-এর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর থেকে বাদ পড়া এইসব হয়েছিল।ঠেলায় পড়ে করণ জোহরকে লিখিত দিতে হয়েছে যে তিনি তার সিনেমাতে আর কোনোদিন পাকিস্তানী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করবেন না। কোনো সিনেমাতে পাকিস্তানী বা মুসলিম ভাব থাকলে তা এখন আর ঠিকমতো চলছে না সিনেমা হলগুলিতে বা লোকেরাও দেখতেও চাইছে না। তাছাড়া সিনেমা হল ভাঙচুর করছে হিন্দু জনতা।  তাইতো মুসলিম মুসলিম ভাব ছবি ”রইস” ফ্লপ করলেও ”বাহুবলি ২” মারাত্বক ব্যবসা করেছে। প্রতি সিনেমাতে কম করে একটা গনেশ পুজোর দৃশ্য বা হনুমান পুজোর দৃশ্য রাখা এখন কমন ব্যাপার দাঁড়িয়েছে। একের পর এক হিন্দু অভিনেতা যেমন-রণবীর সিং, বরুন ধাওয়ান, মনোজ  বাজপেয়ী, রাজকুমার রাও, অর্জুন কাপুর, সুশান্ত সিং রাজপূত-দের মতো হিন্দু অভিনেতারা দ্রুত গতিতে উঠে আসছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একই সঙ্গে সিনেমা মুক্তি পেলেও তিন খানকে এরা ছাপিয়ে যাচ্ছে, এটাই আশার আলো।