হিন্দু বান্ধবীর আপত্তিকর ছবি পোস্ট, হাইলাকান্দিতে গ্রেপ্তার মহম্মদ আফজল

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ডের ছবি পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক যুবক। গত ২০শে অক্টোবর, শুক্রবার পুলিশ মহম্মদ আফজলকে হাইলাকান্দি শহর থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক হিন্দু  যুবতীর সঙ্গে শহরেরই এক ব্যবসায়ী পরিবারের যুবকের পরিচয় ছিল বহুদিনের। তাঁদের এই পরিচিতি একসময় বন্ধুত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিছুদিন পর তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এভাবে কিছুদিন চলার পর যুবকটি তাঁর পূর্ব-পরিচিত যুবতীর আপত্তিজনক কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করে।

যুবতীর পরিবারের লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে তাঁরা এ ব্যাপারে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে নেমে হাইলাকান্দির পুলিশ অভিযুক্ত যুবকের ভাইকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। অভিযুক্তের ভাইকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ায় চাপ বাড়তে থাকে পুলিশের ওউপর। এর পর শনিবার অভিযুক্ত যুবক মহম্মদ আফজলকে আইটি অ্যাক্টে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবশ্য গ্রেফতারের আগে আফজল হাইলাকান্দি থানায় এসে আত্মসমর্পন করেছিল।

ফেসবুক কান্ডের ব্যাপারে হাইলাকান্দি সদর থানার ওসি সুরজিত চৌধুরী বলেন, ফেসবুকে যুবতীর আপত্তিজনক ফটো আপলোড করার অভিযোগে এই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

Advertisements

নিউ টাউনে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় হিলি সীমান্তে ধৃত বাংলাদেশি সফিকুল আলম

কলকাতার নিউ টাউনে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় গত ২১শে অক্টোবর, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সে বৈধ পাসপোর্টের মাধ্যমেই বাড়ি যাওয়ার তোড়জোড় করছিল। ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ প্রায় আট লক্ষ ভারতীয় টাকা উদ্ধার করেছে। ২১শে অক্টোবর, শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হিলি থানার পুলিশ তাকে ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সফিকুল আলম। তার বাড়ি বাংলাদেশের নওগা জেলায়। কলকাতার নিউ মার্কেটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাকাতি হয়। সিসি টিভি ফুটেজে ধরা পড়ে ওই ডাকাত দলের বেশ কয়েকজনের মুখ। রাজ্যের সমস্ত পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয়ে সজাগ করে দেওয়া হয়। শনিবার গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের উদ্দেশে হিলি সীমান্ত হয়ে রওনা দেবে। তার আগেই পুলিশ ওই ব্যক্তিকে নগদ টাকা সমেত গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।
হিলি থানার ওসি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকায় এক ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই চক্রে আর কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে।

দিল্লীতে গ্রেপ্তার নারী পাচারচক্রের মাথা মুসলিমা বিবি

আন্তঃ রাজ্য নারী পাচারকারী চক্রের প্রধান মাথা মুসলিমা বিবি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার,উত্তরপ্রদেশ জুড়ে মেয়ে পাচারের নেটওয়ার্ক চালায় সে। সে গত একবছরে শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০-এর বেশি মেয়েকে টোপ দিয়ে দিল্লী ও হরিয়ানার যৌনপল্লীতে বেচে দিয়েছে। গত কয়েকমাস আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার পাচার হয়ে যাওয়া ছ’টি মেয়েকে দিল্লির নিষিদ্ধপল্লী থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন সুন্দরবন জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। তখন উদ্ধার হওয়া মেয়েরা  পিঙ্কি পান্ডার নাম বলেন। এরপর  পিঙ্কি পান্ডার খোঁজে তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে মুসলিমা বিবির নাম – যা চমকে দেয় গোয়েন্দাদের। মুসলিমা বিবিই নিজের নাম পাল্টে হিন্দু নাম পিঙ্কি পান্ডা নিয়ে গরিব পরিবারের হিন্দু মেয়েদেরকে দিল্লিতে মোটা মাইনের কাজ পাইয়ে দেবার টোপ দিতো। আর সেই ফাঁদে পা দিলেই মেয়েদেরকে দিল্লী ও হরিয়ানায় যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিতো। গত শুক্রবার, ২০শে অক্টোবর রাতে সেই মুসলিমা বিবিকে দিল্লীর অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রূপ। এই বিষয়ে সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপার তথাগত বসু বলেন, ”ওই পাচারকারীকে ধরার কাজে দিল্লী পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শক্তিবাহিনী সাহায্য করেছে। প্রায় দীর্ঘ দশবছর ধরে মুসলিমা বিবিকে খোঁজা হচ্ছিলো”। কয়েকদিনের মধ্যে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। তাকে জেরা করে আরো অনেক পাচার হয়ে যাওয়া মেয়ের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

হিন্দু যুবতীকে অপহরণ, উধারবন্দে গ্রেপ্তার রিয়াজুল আহমেদ লস্কর

ঘটনাটি আসামের  উধারবন্দের। গত ১৯শে অক্টোবর, বৃহস্পতিবার হিন্দু যুবতীকে অপহরণ করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে যায় এক যুবক। ধৃত যুবক রংপুর চুতুর্থ খন্ডের বাসিন্দা মাখন উদ্দিন লস্করের ছেলে রিয়াজুল আহমেদ লস্কর (২৫)। তার বিরুদ্ধে উধারবন্দ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন যুবতীর ভাই, FIR নম্বর ২১৯/১৭। শনিবার ২১শে অক্টোবর ধৃতকে শিলচর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুল আহমেদ শিলচর কালীবাড়ি চরের এক হিন্দু যুবতীকে কালীপুজো দেখানোর নাম করে একটি ভাড়া করা অল্টো গাড়ি নিয়ে বের হয়। সারারাত ঘোরাঘুরি করার পর শুক্রবার রাট দেড়টা নাগাদ উধারবন্দ কালীবাড়ি রোডে  দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় ইয়ং বয়েজ ক্লাবের ছেলেদের নজরে পরে যায় গাড়িটি। তারা পিছু ধাওয়া করে কান্দিগ্রামে গাড়িটিকে আটক করে। ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় হিন্দু যুবতীকে পাওয়া যায়। ঘটনার খবর উধারবন্দ থানায় জানালে থানার এসআই আহমেদ হোসেন মজুমদার ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি যুবক-যুবতীকে থানায় নিয়ে যান। ২১শে অক্টোবর, শনিবার সকালে যুবতীর ভাই রাজু কর রিয়াজুলের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।

দেব-দেবীর পুজো করলে খোয়াতে হবে ধর্ম, ফতোয়া দারুল উলুমের

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা নিয়ে দিন দু’য়েক ফতোয়া জারির রেশ কাটার আগেই ফের একটি বিতর্কিত ফতোয়া জারি করল দারুল উলুম। ইসলামি এই প্রতিষ্ঠানটির নতুন ফতোয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্য দেব-দেবীর পুজো করলেই ধর্মচ্যুত হবেন মুসলিমরা। গত ২১শে অক্টোবর, শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে খোলাখুলি এই ফতোয়া জারি করেন দেওবন্দের ওই প্রতিষ্ঠানটির এক সদস্য। দিওয়ালি উপলক্ষে বারাণসীতে মুসলিম মহিলা সংগঠন এবং বিশাল ভারত সংস্থানের যৌথ উদ্যোগে শনিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে মুসলিম মহিলারাও আরতি করেন, রামের পুজো করেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই প্রসঙ্গেই এ দিনের ফতোয়া বলে জানিয়েছে দারুল।

মুসলিম মহিলা সংগঠনের এক নেত্রী নাজনীন আনসারি বলেন, ‘‘আমাদের পূর্বপুরুষ রাম। নাম, ধর্ম বদলে ফেলা যায়, কিন্তু পূর্বপুরুষ কি বদলানো যায়! রামের আরাধনা মুসলিম-হিন্দুদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে। এই অনুষ্ঠান মুসলিমদের উদারতার প্রতীক হয়ে উঠবে।’’কিন্তু তাঁদের এই সৎ ভাবনা ভাল ভাবে নেয়নি দারুল উলুম। ফতোয়া জারি করা হয় এই ধরনের আচারের উপর।

দিন দু’য়েক আগে মুসলিম পুরুষ, মহিলাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ছবি পোস্ট করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দারুল। এমনকী চলতি মাসেই ফতোয়া জারি করে দারুল উলুম জানিয়ে দেয়, মুসলিম মেয়েরা বিউটি পার্লারে যেতে পারবেন না। ভ্রু প্লাক বা চুল কাটা কোনও কিছুই করা যাবে না। কারণ এসব নাকি ইসলাম-বিরোধী।

দেগঙ্গাতে বস্ত্রবিতরণ করলো হিন্দুসংহতি

চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গাতে গত ২০ শে অক্টোবর,  শুক্রবার একটি বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান করলো হিন্দু সংহতি। প্রচুর ঝড়বৃষ্টি চলার কারণে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানটি খোলা মঞ্চে করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়ে কর্মীরা অনুষ্ঠানটি করার উদ্যোগ নেয় গিলাবাড়িয়া মোড়ের বিদ্যাসাগর ক্লাবে। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ জন মহিলাকে শাড়ি ও ১৫০ জন বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকে জামা-কাপড় তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়, কোষাধক্ষ্য শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয় এবং হিন্দু সংহতির আইনি পরামর্শদাতা শ্রী সুন্দরগোপাল দাস মহাশয়।

কালীপুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মুসলিমদের হামলা বীরভূমের মুরারইতে

 কালী প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের  জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের মুরারই থানার মহুরাপুর গ্রাম। এই ঘটনায় চারজন হিন্দু  আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে রাতের দিকে পুলিশের উদ্যোগে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।

পুলিশের অনুমতি নিয়ে গত ২২শে অক্টোবর বিকেলে কালী প্রতিমা নিরঞ্জন করছিলেন মহুরাপুর গ্রামের কালীপুজো কমিটির সদস্যরা। সেই সময়, এক সংখ্যালঘু মুসলিম  যুবক পাশ দিয়ে হর্ন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন। পুজো কমিটির সদস্যরা তাঁকে গাড়ি আস্তে চালাতে অনুরোধ করেন। এনিয়ে বচসা শুরু হয়।
অভিযোগ, এরপর সেই মুসলিম বাইক আরোহী নিজের পাড়ায় গিয়ে মারধরের মিথ্যা কথা বলেন। সেই কথা শুনে ওই পাড়ার মুসলিম বাসিন্দারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুজো কমিটির সদস্যদের উপর চড়াও হয়। কমিটির সদস্যদের মারধরের পাশাপাশি সাউন্ড বক্স ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হন সুজয় মাল নামে এক যুবক। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়। লাঠির আঘাতে জখম আরও তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সুজয় বলেন, “ওরা আচমকা আমাদের উপর হামলা চালায়। কিছু বোঝার আগেই মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। আমি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরি। গ্রামের মানুষ আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

এর প্রতিবাদে মহুরাপুর–শ্রীরামপুর রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি সাউন্ড বক্স ভাঙার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশসুপার জে বি  থমাস ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের মধ্যস্থতায় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে  গ্রেপ্তার করতে পারেনি ।

সেনাবাহিনী নয়, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা, বক্তব্য রোহিঙ্গা হিন্দুদের

আগে মায়ানমারের রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থীরা  বলেছিলেন, তারা মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণে মুসলমানদের সাথে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে যে কয়েকশো হিন্দু রোহিঙ্গা এসেছে তাদের কেউ কেউ এখন তাদের উপর নির্যাতনকারী হিসেবে সরাসরি রোহিঙ্গা মুসলমানদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন।

উখিয়ার হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরটির একাধিক বাসিন্দা বললেন, তাদের উপর হামলাকারী ‘কালো পোশাকধারীরা’ ছিল মুসলমান। এরা রয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিমপাড়ায়। এখানে ১০৮টি পরিবারের ৪৪০জন হিন্দু রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। জায়গাটা পাহাড়ি নয়, সমতল।

স্থানীয় এক হিন্দু পরিবারের বাড়ির উঠোন। পাশে আরো কয়েকঘর হিন্দু আছে। অধিকাংশ শরণার্থীর আশ্রয় হয়েছে একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে। অনেকটা হলঘরের মতো। সবাই এক ছাদের নিচে। তুলনামূলক ভালই আছে এরা। পাশেই শামিয়ানা টানিয়ে রান্না হচ্ছে।

এদের সবাইকে ভারতীয় একটি সংগঠন ‘ইউনাইটেড শিখ’-এর  সৌজন্যে তিন বেলা ভাত রেঁধে খাওয়ানো হচ্ছে। এখানে আমার এক মহিলা বলেন, “আমাদেরকে মুসলমান কালো পোশাকধারীরা সাতদিন ধরে বন্দী করে রেখেছিল। সাত দিন ধরে বের হতে দেয়নি। মোবাইলে কথা বলতে দেয়নি।এমনকি ওষুধ কিনতেও যেতে দেয়নি। তারপর এক পর্যায়ে সুযোগ পেয়ে পালাই। পালিয়ে বহু কষ্টে বাংলাদেশে আসি”।

যেমনটি ববিতা শীল নামে এক মহিলা বলেন, “তারা কালো পোশাক পরা। শুধু চোখ দেখা যায়। সবাই কালো নেকাব পরা। আমাদেরকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ঘিরে রাখে। বাজার করতে দেয় না। বাইরে গেলে ধমকায়”।

রাখাইনে মুসলমানদের সাথেই দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছিল ওই এলাকার জনসংখ্যার মোটে ১% এই হিন্দুরা। কিন্তু অবস্থা বদলে যায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলভেসন আর্মি যখন রোহিঙ্গা হিন্দুদের গ্রাম আক্রমন করে জ্বালিয়ে দেয়। অনেককে অপহরণ করে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গিরা।

বলরাম শীল নামে একজন বলছিলেন, “আমরা মুসলমানদের শিবিরে থাকবো না। প্রয়োজনে আমাদেরকে মেরে ফেলুন। তাও ওদের মধ্যে থাকবো না”।

শহিদ বিএসএফ কমান্ডান্ট দীপক মন্ডলকে শেষ বিদায়

bsf dipakশনিবার, ২১ শে অক্টোবর যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বিএসএফ কমান্ডান্ট দীপক মণ্ডলকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে৷ এদিনই সকালে তাঁর দেহ কফিনবন্দি হয়ে তাঁর বাড়ি নদীয়ার তারকনগরে অাসে৷ দীপক মণ্ডলের মৃতদেহ তারকনগর গ্রামে পৌঁছতেই পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ এলাকাবাসী শোকস্তব্ধ৷ ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচারকারীরা তাঁর উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল৷ গুরুতর জখম হয়েছিলেন বিএসএফ কমান্ডান্ট দীপক মণ্ডল৷ শুক্রবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়৷ শনিবার প্রয়াত দীপক মণ্ডলের দেহ কফিনবন্দি হয়ে তাঁর বাড়ি নদীয়ার তারকনগরে অাসে৷ দীপকবাবুর স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন। তাঁরা কল্যাণীতে থাকেন।

পশ্চিম ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় পোস্টিং হয়েছিল দীপক মণ্ডলের৷ গত রবিবার,১৫ই অক্টোবর গরু পাচারকারীদের রুখতে গিয়েছিলেন তিনি৷ তখনই পাল্টা হামলা চালায় পাচারকারীরা৷ দীপক মণ্ডলের দেহের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়৷ গুরুতর জখম দীপকবাবুকে কলকাতায় আনা হয়েছিল চিকিৎসার জন্য৷ দীপক মণ্ডলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়, যদিও ত্রিপুরার সিপিআইএম-এর মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার শোকপ্রকাশ করতে একটিও বাক্য খরচ করেননি।

মিনাখাঁয় শনিঠাকুরের মাথা ভেঙে দিয়ে গেলো গেলো দুষ্কৃতীরা

Minakhanগত রবিবার, ২২শে অক্টোবর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁয় শনি ঠাকুরের মূর্তি ভাঙলো দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত ঝিকরা গ্রামের লালপোল এলাকায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হিন্দুরা পথ অবরোধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময় ঝিকরার বাসিন্দাদের স্থানীয় এক সংখ্যালঘুর সঙ্গে বচসা হয়। সে পরে দেখে নেবার হুমকি দেয়। এই কাজ সেই ব্যক্তির বলে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকাবাসী সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ গত শনিবারই এই মন্দিরে অনেকেই পুজো দিয়ে গিয়েছেন। তারা এই ঘটনায় মর্মাহত। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হলো হিন্দু প্রেমিকার, গ্রেপ্তার মইজ আলি

গোপনাঙ্গ থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হল এক ছাত্রীর৷ তিনি পোদ্দারকোর্ট এলাকার একটি বেসরকারি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তেন৷ ঘটনায় ওই ছাত্রীর প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ৷পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না৷পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম মেঘা ভঞ্জ (২২)৷ তাঁর প্রেমিকের নাম মইজ আলি (২২)৷ দু’জনেরই বাড়ি হাওড়ার শিবপুর এলাকায়৷পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কলেজে পড়ার সূত্রে তাঁদের আলাপ পরিচয়৷ সেই সূত্রেই প্রেম৷ অনলাইনে আলিপুরের একটি গেস্ট হাউসের রুম বুক করে তাঁরা৷ আজ ২৩শে অক্টোবর, দুপুর ১টা নাগাদ তাঁরা ওই গেস্ট হাউসের রুমে ঢোকে৷ হোটেল সূত্রের খবর, ঘণ্টা খানেক পরে মইজ তাঁর প্রেমিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রুম থেকে বের করে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেয়েটির গোপানাঙ্গ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল৷ প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷সেখান থেকে বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় মেয়েটির৷ মইজ-ই টেলিফোন করে মেয়ের বাড়িতে খবর দেয়৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘যৌন মিলনের সময় কিছু ভুলভ্রান্তির জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে৷’’ পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

আসামের মাজুলিতে ৫০জনের বেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার, রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ

অবৈধ বাংলাদেশির আগ্ৰাসন থেকে বাদ পড়েনি সত্ৰভূমি মাজুলি। এখানে দলে বলে আসছে বাংলাদেশি মুসলমান। কোলে ছোট ছোট শিশু নিয়ে প্ৰায় অৰ্ধশতাধিক মহিলা-পুরুষ মাজুলিতে এসেছে।গত ২২শে অক্টোবর, রবিবার বিকেলে বাংলাদেশি এই দলকে মাজুলির ফুলনি চারালিতে দেখে চোখ ছানাবড়া স্থানীয় জনসাধারণের। কেউ কেউ এদের রোহিঙ্গা মুসলিম  বলে মনে করে আঁতকে উঠেন। মাজুলি মহকুমা ছাত্ৰ সংস্থার নেতৃত্বে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অর্ধশতাধিক সন্দেহভাজন পুরুষ-মহিলা এবং ছোট ছোট শিশু, বালক-বালিকাদের ধরে মাজুল জেংরাইমুখ থানার হাতে তুলে  দেওয়া হয়েছে।
প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিরা কোথা থেকে আচমকা এখানে এসেছে সে রহস্যের জট এখনও খোলেনি। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে মাজুলিতে।
তবে এক সূত্রের খবর, এরা বরপেটা জেলার কোথাও দীৰ্ঘ দিন গোপনে ছিল। এবার দিগবিদিগশূন্য হয়ে এই সব বাংলাদেশি মধ্য অসম পার হয়ে উজানের লখিমপুর জেলা হয়ে সত্ৰপীঠ মাজুলিতে দলে দলে আসছে। লক্ষ্যণীয়, এদের কেউই অসমিয়া ভাষা বোঝে না। সাংবাদিক বা পুলিশের অসমিয়ায় ভাষায় কোনও জিজ্ঞাসারাও উত্তর দিতে পারছে না তারা। এমতাবস্থায় এদের নিয়ে ফাঁপরে পড়েছে মাজুলির পুলিশ প্ৰশাসন।

নদীয়া জেলার তেহট্টে কালীপুজো উদ্বোধন করলেন হিন্দু সংহতির সহ-সভাপতি

নদীয়া জেলার তেহট্টের বার্নিয়া গ্রাম। এবছর গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা প্রথম কালীপুজো শুরু করলো। আর সেই পুজো শুরুর পিছনে এলাকার হিন্দু সংহতির কর্মীদের অবদানও উল্লেখযোগ্য। আর সেই পুজো উদ্বোধনের জন্যে গ্রামবাসীরা আমন্ত্রণ জানায় হিন্দু সংহতিকে। আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে পুজো উদ্বোধনের জন্যে ওই গ্রামে কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন হিন্দু সংহতির সহ-সভাপতি শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ রায় ও হিন্দু সংহতির কোষাধক্ষ্য শ্রী সুজিত মাইতি। পুজো উদ্বোধনের পর গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন  শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ রায় ও শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়।

কালীপুজো উপলক্ষে আমতায় বস্ত্র বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

হাওড়া জেলার আমতা ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম। গ্রামের ক্লাব অগ্রগামী ক্লাব বেশ কয়েকবছর ধরে কালীপূজা করে আসছে। ক্লাবের কম-বেশি সব সদস্যই হিন্দু সংহতির কর্মী। এই বছর ক্লাবের সদস্যরা সংহতি সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যকে পূজা উদ্বোধনের আমন্ত্রণ জানায়। সংহতি সভাপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং তিনি ক্লাবের সদস্যদের হিন্দু সংহতির সহায়তায় একটি বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান করতে বলেন। সেই মতো গত ১৯শে অক্টোবর কালীপূজার দিন  গ্রামে পূজা উদ্বোধন ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী  ঋদ্ধিমান আর্য, শ্রী সুন্দরগোপাল দাস ও বিশিষ্ট আইনজীবী শান্তনু সিংহ। গ্রামের প্রায় ৫০ জনের হাতে বস্ত্র তুলে দেন হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব।

জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

সেনাবাহিনীর জওয়ানরা যারা সীমান্তে অতন্দ্র পাহারায় থাকেন,যাদের পরিবারের সঙ্গে দীপাবলি পালন করার অবসর মেলে না, সেই জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জম্মু-কাশ্মীরের গুরেজ সেক্টরে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করলেন তিনি।তিনি পুরোদস্তুর সেনার পোশাকে উপস্থিত ছিলেন।  তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। মোদীজি নিজের হাতে জওয়ানদের মিষ্টিমুখ করান এবং সবাইকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। তিনি পরে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণও দেন। তিনি বলেন, ”আজ আমি আপনাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে এসেছি। আপনারা দেশের গর্ব।আপনারা আমার পরিবারের অংশ”। তাঁর বক্তব্যে জওয়ানরা উৎসাহিত হন।