দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রোহিঙ্গা কলোনী গড়ে উঠেছে

Dokkhin 24 Parganar Baruipure Rohinga Colonyদক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের কুলারি এলাকা। এই কুলারিতে স্থানীয় মুসলিম এবং একটি ইসলামিক এনজিও-এর সহযোগিতায় মায়ানমার থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে বসবাস করার সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ওই কলোনিতে প্রায় আটটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারের ২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১জন শিশু বাস করছে। এদের প্রত্যেকের UNCHR প্রদত্ত শরণার্থী কার্ড রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম এনজিও-এর তরফ থেকে ওই আটটি পরিবারকে টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের পুরুষরা আশেপাশের এলাকাগুলিতে শ্রমিকের কাজ করছে। রোহিঙ্গা শিশুরা স্থানীয় মাদ্রাসাগুলোতে পড়তে পর্যন্ত যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলা সত্ত্বেও ওই এনজিও-এর তরফে হুসেন গাজী জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আরো অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করবে।

Advertisements

দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ছক ফাঁস, গ্রেপ্তার ৩ কাশ্মীরি ‌যুবক

দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। মথুরা থেকে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পরেই বেরিয়ে এল হামলার নীল নকশা। রবিবার মথুরা থেকে বিলাল আহমেদ ওয়ানি নামের এক কাশ্মীরি যুবককে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাঁকে জেরা করেই জানা যায় অক্ষরধাম হামলার ছক। পুলিশের জেরায় ওয়ানি জানিয়েছে, সে ও তার আরও দুই সঙ্গী আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ছক কষেছিল। পাশাপাশি ২৬ জানুয়ারির প্যারেডেও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। অভিযুক্ত তিন জন গত ২ জানুয়ারি দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় আল রশিদ নামের একটি গেস্ট হাউসকে ডেরা হিসাবে ব্যবহার করেছিল। সেখান থেকে ওয়ানির দুই সঙ্গী মহম্মদ আশরফ ও মুদাসির আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ ও ইউপি এটিএস। হামলার ছক ফাঁস হওয়ার পরই দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেরায় জানা গিয়েছে, ওয়ানি দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা। গত ১৪ই জানুয়ারি, রবিবার সে মথুরা থেকে শতাব্দী এক্সপ্রেস ধরে দিল্লি আসার চেষ্টা করছিল। তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কালিয়াচকের কুখ্যাত দুষ্কৃতি পুকারী শেখ গ্রেপ্তার

kaliachoker kukhyato duskritiকালিয়াচক থানার পুলিশ গত ১৫ই জানুয়ারী, সোমবার রাতে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করেছে। মালদহ জেলার কালিয়াচকের বিবিগ্রাম থেকে ধৃত ওই দুষ্কৃতির নাম পুকারী শেখ। দীর্ঘদিন ধরে ওই দুষ্কৃতিকে পুলিশ খুঁজছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২৫টি জামিন অযোগ্য মামলা তার বিরুদ্ধে আছে। তার মধ্যে খুন, ডাকাতি, জালনোট পাচার, তোলাবাজির অভিযোগও আছে। সম্প্রতি নুরুল শেখ নামের এক যুবকের খুনের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে নতুন করে পুকারী শেখের নামে থাকা অভিযোগের তালিকা পুলিশের নজরে আসে। তারপরেই পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। সোমবার রাতে কালিয়াচকের বিবিগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে ধরা হয়।

পুঞ্চ সীমান্তে গুলিযুদ্ধে খতম পাকিস্তানী সেনা

গত ১৫ই জানুয়ারী, সোমবার সেনা দিবসে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাল্টা জবাবে সাত পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে চার জন। গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাজৌরিতে পাক সেনার গুলিতে এক ভারতীয় জওয়ানের প্রাণহানির ঘটনার জবাবে এই প্রত্যাঘাত করা হয়েছিল। এদিন নয়াদিল্লিতে সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘‘আমাদের যদি বাধ্য করা হয়, তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনীও প্রস্তুত, ওদের জন্য আরও কড়া দাওয়াই অপেক্ষা করছে।’’ এদিনই পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যাঘাতে পাক সেনার মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে পাক কর্তৃপক্ষও। তবে পাক সরকার ট্যুইট করে জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় অন্তত চার পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে।

হজের ভর্তুকি তুললো মোদি সরকার

প্রথমে তিন তালাক বিল। আর এবার হজের ভর্তুকি রদ। সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে আবারও সাহসী নীতি নিল মোদি সরকার।হজের ভর্তুকি তোলার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি জানিয়েছেন, তোষণ ছাড়া সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়নের নীতির অঙ্গই হল এই সিদ্ধান্ত। মোদি সরকার স্পষ্টই জানিয়েছে, হজে ভর্তুকি দিয়ে সংখ্যালঘুদের কোনও লাভই হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট ২০১২ সালেই এক রায়ে জানিয়েছিল, ২০২২ সালের মধ্যেই এই ভর্তুকি তুলে দিতে হবে। কিন্তু তৎকালীন ইউপিএ সরকার সেই রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে খুব একটা সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করতে তৎপর হয় মোদি সরকার। গত বছরের মে মাসে এই ভর্তুকি তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। গতকালই মোদি সরকার জানিয়েছিল, ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের মহিলারা পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই হজ করতে যেতে পারবেন। তারপর এদিন সরকার জানিয়ে দিল, হজের ভর্তুকি তুলে দেওয়া হল। এদিন নাকভি জানান, ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হল।

২০১৭ সালে ১০৭ জন হিন্দু খুন, ২৫জন হিন্দু নারী ও শিশু ধর্ষিত, ২৩৫টি মন্দির ভাঙচুর বাংলাদেশে

বাংলাদেশে গত ১লা জানুয়ারী, ২০১৭ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত মোট ১০৭ জন হিন্দু খুন, ২৫ জন হিন্দু নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছে মুসলিম মৌলবাদীদের দ্বারা। এছাড়াও গত বছরে বাংলদেশের মোট ২৩৫ টি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে মুসলিম জনতা। গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরলো বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট। বাংলাদেশের ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এবিষয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সম্পাদক পলাশ দে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭৮২ জন হিন্দু দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, ২৩ জনকে ইসলামে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তিনি এই সম্মেলনে দাবি করেন যে, প্রশাসনের অবহেলা ও ক্ষমতাশালী লোকেদের অত্যাচারের কারণে বাংলাদেশের হিন্দুসমাজ আজ বিপন্ন, সে যে সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন। তিনি আরো বলেন যে, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর যে অত্যাচার হয়, তা পৃথিবীর কোনো দেশে হয় না। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, নির্যাতিত ও ধর্ষিত ও দেশত্যাগী হিন্দুর সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।

হরিয়ানায় নিষিদ্ধ হলো ‘পদ্মাবত’

Hariyanay nisiddho padmabotহরিয়ানায় নিষিদ্ধ ঘোষণা হল সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘পদ্মাবত’। মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ জানান, হরিয়ানায় ‘পদ্মাবতী’ বা ‘পদ্মাবত’ রিলিজ হবে না। সম্প্রতি কয়েকটি পরিবর্তনের পর সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র দিয়েছে সঞ্জয় লীলা বনসালির ছবিকে। যদিও ছবির নাম ‘পদ্মাবতী’ থেকে পাল্টে ‘পদ্মাবত’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজস্থান সহ কয়েকটি রাজ্যে ‘পদ্মাবতী’র মুক্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। হরিয়ানার মনোহর লাল খট্টর সরকার প্রথম থেকেই ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। রাজ্যের কয়েকটি সম্প্রদায় ছবিটির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ এর আগেও বলেছিলেন, হরিয়ানায় তিনি ছবিটি মুক্তি পেতে দেবেন না। তিনি দাবি করেছিলেন, পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালি ঐতিহাসিক তথ্যকে ভুলভাবে পেশ করেছেন। শুধু তাই নয়, রানি পদ্মাবতীর চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে সিনেমাটিতে। যা লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগকে আঘাত করেছে। এদিন তিনি বলেন, রানি পদ্মাবতী ভারতীয় মহিলাদের প্রতীক। সেখানে পদ্মাবতীর চরিত্রের অপমান কোনওভাবেই হজম করা হবে না। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে ‘পদ্মাবত’কে হরিয়ানায় মুক্তি দেওয়া উচিত হবে না। এই সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর সহ রাজ্যের প্রতিটি মন্ত্রী সহমত পোষণ করেছেন। দীপিকা পাড়ুকোন, শাহিদ কাপুর এবং রণবীর সিং অভিনীত ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পাবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। গত ১ ডিসেম্বর রিলিজ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রবল বিক্ষোভের জেরে পিছিয়ে যায় সঞ্জয় লীলা বনসালি পরিচালিত ‘পদ্মাবতী’।

ত্রিপুরার ধর্মনগরে ৬ রোহিঙ্গা মুসলিম গ্রেপ্তার

Tripurar Dharmanagareগত ১৪ই জানুয়ারী ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৯২ কিলোমিটার দূরে ধর্মনগর এলাকা থেকে ৬ রোহিঙ্গা মুসলিমকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। এদের মধ্যে ৫ জনই নাবালক-নাবালিকা। এরা  সকলেই কাজের খোঁজে আসাম যাচ্ছিলো।এদের কাছ থেকে পুলিশ রাষ্ট্রসঙ্ঘ প্রদত্ত শরণার্থী কার্ড পেয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছ’জন রোহিঙ্গা মুসলিম হলো ইব্রাহিম আলম(১৭), মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম(১৭), মহম্মদ এহসান(১৬), নূর ফতেমা(১৫), জাহানা তারা(১৪) এবং দিলওয়ারা বেগম (২৭) । পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে যে এরা পূর্বে হায়দ্রাবাদে কিছুদিন থেকেছে। এমনকি তারা পুলিশকে জানিয়েছে যে তারা এদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চায়, মায়ানমারে ফিরতে চায় না তারা।

আলিপুর জেল থেকে পালিয়ে গেলো তিন বাংলাদেশী বন্দি, গাফিলতির জন্যে সাসপেন্ড কারারক্ষীরা

গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার ভোররাতের অন্ধকারে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের উঁচু পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল তিন বন্দি। এদের মধ্যে দু’জন বিচারাধীন, অন্যজন সাজাপ্রাপ্ত। পলাতকরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, খুন সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মোয়ার মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অন্য দুই বন্দিকে অচৈতন্য করে গরাদ কেটে তারা সেলের বাইরে বেরোয়। এরপর পড়ে থাকা লোহালক্কর দিয়ে আঁকশি বানায়। নিজেদের ব্যবহারের শাল দিয়ে দড়ি বানিয়ে সেই আঁকশির সাহায্যে রবিবার ভোররাতে পাঁচিল টপকায় তারা।

জেল সূত্রের খবর, কারারক্ষীদেরও ওই ঘুমের ওষুধ দেওয়া মোয়া খাওায়ানো হয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কারারক্ষীদের অচৈতন্য করার বিষয়টি মানতে চায়নি। যদিও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে তিনজনকে।পলাতকদের খোঁজে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের ছবিও পাঠানো হয়েছে সমস্ত জেলায়। বিষয়টি জানানো হয়েছে বিএসএফকেও। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশকে গোটা ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় জেলের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। জেল সূত্রে খবর, গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাতে কারারক্ষীরা শেষ টহল দিয়েছিলেন রাত ২টো নাগাদ। তারপর তাঁরা ঘুমটিতে ঘুমোচ্ছিলেন। তা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ভোর ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। কারাকর্তাদের বক্তব্য, তাঁরা কারারক্ষীদের অচৈতন্য অবস্থায় দেখেননি। তাঁদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হচ্ছে। তবে তাঁদের কাজে যে গাফিলতি ছিল, মানছেন তাঁরা। সেই কারণেই সাসপেন্ড করা হয়েছে তিনজনকে। অন্যদিকে, প্রশ্ন উঠেছে, সশস্ত্র পুলিশের অফিসাররাও তো জেলের বাইরে নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদেরও কেন বিষয়টি নজরে এল না? তাঁরাও ঘুমোচ্ছিলেন বলে বক্তব্য স্থানীয়দের।

তদন্তে জানা গিয়েছে, যে এলাকা দিয়ে তারা পালিয়েছে, সেখানে কোনও সিসিটিভি ছিল না। বোঝাই যাচ্ছে, বন্দিরা আগে থেকেই জানত, কোন এলাকা ক্যামেরার নজরের বাইরে রয়েছে। সেই কারণেই রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়া হচ্ছে।
পলাতক তিন বন্দির নাম ফিরদৌস শেখ, ইমন চৌধুরি ও ফারুক হাওলাদার। এদিন গুনতির সময়ে দেখা যায়, তিনজন জেলবন্দিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই বিষয়টি নজরে আসে কারাকর্তাদের। দেখা যায়, আদিগঙ্গার দিকে পড়ে রয়েছে বন্দিদের ফেলে যাওয়া শাল ও জ্যাকেট। তা থেকেই কারাকর্তারা বুঝতে পারেন, এই দিক দিয়েই তারা পালিয়েছে। এরপরই বিষয়টি জানানো হয় আলিপুর থানায়। ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের কর্তারা। আনা হয় পুলিশের কুকুরও।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফারুক সোনারপুরে একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় ২০১৩ সালে। ইমনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। ফিরদৌস ডাকাতি ও বেআইনি অনুপ্রবেশের ঘটনায় অভিযুক্ত। এরা ২০১৪ সালে ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ইমনের পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। এরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক।

কিন্তু জেলের সুরক্ষা ভেদ করে কী করে পালাতে সক্ষম হল এই তিন বন্দি? জেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিন বন্দির ঠিকানা ছিল সাত নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ৮০ থেকে ৯০ জন আসামি রয়েছে। ওয়ার্ডের পাশেই গরাদের ধারে তাদের শোয়ার ব্যবস্থা ছিল। ওই ওয়ার্ডে থাকা অন্য বন্দিরা কারাকর্তাদের জানিয়েছে, ফারুক বেশ কিছুদিন ধরেই জেল পালানোর ছক কষছিল। এজন্য বাংলাদেশি বন্দিদের নিয়ে সে আলাদা বৈঠকও করে।

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ওয়ার্ডে তারা থাকত, সেখানকার গরাদ বেশ পুরনো হয়ে যাওয়ায় তা যথেষ্ট নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। মরচেও ধরেছে। সেই কারণেই ওই জায়গাকেই তারা টার্গেট করে। জেলের মধ্যে থেকেই তারা করাত জোগাড় করে। যাতে কারও নজরে না আসে, সেজন্য কয়েকদিন আগে থেকেই তারা গরাদ কাটার কাজ অল্প অল্প করে শুরু করে। পাশাপাশি জোগাড় করা হয় লোহার স্ক্র্যাপ। যা ঘষেমেজে তৈরি করা হয় আঁকশি। যাতে তার সঙ্গে শাল দিয়ে তৈরি দড়ি বেঁধে সহজেই পাঁচিল বেয়ে নীচে নেমে আসা যায়। সমস্ত কিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর শনিবার রাতে তারা পরিকল্পনা করে গরাদ কেটে পালাবে। পরিকল্পনামাফিক গরাদের কাছে থাকা অন্য দুই বন্দিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তার জন্য জেল হাসপাতাল থেকে আগেই জোগাড় করা হয়েছিল ঘুমের ওষুধ। বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল মোয়া। তা খেয়ে গরাদের কাছে থাকা দুই বন্দি অচৈতন্য হয়ে পড়ে। অন্যরা তখন অঘোর ঘুমে। বাইরে নেই কোনও রক্ষী। এই সুযোগে জেলের গরাদ কেটে তারা বাইরে আসে। পাঁচিলের উপরে ওঠে। আঁকশির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় শাল। এরপর তা বেয়ে নীচে নেমে এসে তারা  অনায়াসে পালিয়ে যায়।

কলকাতার একবালপুরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিহারের মহম্মদ দিলসাদ

অস্ত্রসহ এক দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করল ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি অত্যাধুনিক পিস্তল, নগদ টাকা ও বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ দিলসাদ ওরফে মুন্না। সে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। কয়েকমাস ধরে সে একবালপুর লেনে থাকত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাতে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ মনসাতলা এলাকায় একজনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। পুলিশ এখন তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে, মুঙ্গের থেকে অস্ত্র এনে সে কলকাতায় কারবার চালাত কি না। শহরের বুকে যেভাবে গুলি চালনোর ঘটনা বেড়ে গিয়েছে, তাতে পুলিশকর্তারা নিশ্চিত, মুঙ্গেরের বাসিন্দারাই এই ধরনের অস্ত্র শহরে নিয়ে আসছে। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ অন্যান্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার এন্টালিতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধৃত ২ মুসলিম দুষ্কৃতি

খাস কলকাতায় দুষ্কৃতিরাজ বেড়েই চলেছে, তার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে ইদানিং। এবার এন্টালি থানার ছাতুবাবু লেন ও আনন্দ পালিত রোডের সংযোগস্থল থেকে গত ১১ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাত রাউন্ড কার্তুজ ও দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুই অস্ত্র বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা। ধৃতরা হল মহম্মদ ইলিয়াস ওরফে ইল্লু এবং আব্দুল আলি ওরফে তনভির। লালবাজার সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইজরায়েল যাওয়াতে আপত্তি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির

siddikullaইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ভারতে নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে ভাবে আতিথেয়তা দিচ্ছে, তার কড়া বিরোধিতা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে ইজরায়েলের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সে দেশে না যান, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি। সিদ্দিকুল্লা গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার বলেন, ‘‘সারা বিশ্বে অশান্তির বার্তা দিচ্ছে ইজরায়েল। রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকা ও ইজরায়েল ভোটে পরাস্ত হয়েছে। তাদের রাষ্ট্রপ্রধানকে এ দেশে প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে সাদর অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, তাতে ঠিক বার্তা যাচ্ছে না।’’ ইজরায়েলের একটি সংস্থা মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মহিলা নেতৃবৃন্দের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তা হিসাবে। কিন্তু মমতার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্যের বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বশীল হলে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন না, এটাই আমাদের বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও ওখানে অসম্মানিত হতে হয়েছিল।’’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে একই রাতে কালী, শীতলা ও মনসা মন্দিরে চুরি

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট এলাকা হিন্দুর ওপর অত্যাচার ও আক্রমণের জন্যে সুবিদিত। কারণ ওই থানা এলাকায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু। বিগত কয়েক দশক ধরেই ওখানে হিন্দুর ধর্মীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। তার রেশ ধরেই এবার একই রাতে তিনটি মন্দিরের দরজা ভেঙে একই গ্রামের কালী, শীতলা ও মনসা মাতার মন্দিরে চুরি হয়ে গেলো।ঘটনাটি গত ১১ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার মগরাহাট থানার অন্তর্গত মৌখালীর কালীতলা গ্রামে। মন্দিরের সেবাইতরা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানান যে, দুষ্কৃতিরা প্রতিমার গায়ের সোনার অলঙ্কার, রুপোর অলঙ্কার এবং মন্দিরের পিতলের বাসনপত্র চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে তাদের সন্দেহ পাশের পাড়ার মুসলিম দুষ্কৃতিরা এই কাজ করে থাকতে পারে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী,  এই নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি এখনো পর্যন্ত।

দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসুলডাঙায় হিন্দুগ্রামে মুসলিমদের তান্ডব, অপবিত্র করা হলো কালী মন্দির

গত ৭ জানুয়ারী ২০১৮ রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মন্ড হারবার থানার বাসুলডাঙার উত্তর অম্বলহাড়া গ্রামের মন্দিরতলার কালীমন্দিরের বারান্দায় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ওই গ্রামের বাসিন্দা এক মুসলিম যুবক হাবু নস্কর (বয়স – ২৮, পিতা – গোলাম নস্কর) কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে মদ্যপান করে ও মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করে। স্থানীয় হিন্দু যুবক ও দোকানদাররা আপত্তি করলে, ছোটোখাটো বাগবিতণ্ডা ও উভয়ের মধ্যে ছোটোখাটো মারামারি হয়। প্রাথমিকভাবে মার খেয়ে মুসলিমরা পালিয়ে যায়। কিন্তু, পরদিন সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হাবু নস্কর প্রায় ৭০-৮০জন সশস্ত্র মুসলমানকে নিয়ে হিন্দুদের গ্রামের মধ্যে ঢুকে আচমকা হিন্দুদের আক্রমণ করলে হিন্দুরা ভয়ে সব পালিয়ে গেলে কয়েকজন শ্রী মিঠু হালদার (বয়স – ২৮, পিতা – জয়দেব হালদার), পলাশ মন্ডল (বয়স – ২৩, পিতা – ভীম মন্ডল), কালিদাস (বয়স – ৩২, পিতা – রাজকুমার), সৌমিত্র হালদার (বয়স – ২২, পিতা – তপন হালদার) বিশেষভাবে ও অন্যানোরা কমবেশি আক্রান্ত হয়।এদের মধ্যে মিঠুর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করার ফলে তার মাথায় ৮টি সেলাই দিতে হয়, স্থানীয় পঞ্চগ্রাম হাসপাতালে। কিন্তু কোনো কেস বা ডায়েরি হয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত মেম্বার আল্পনা হালদার বলেন যে, ডায়মন্ড হারবার থানায় বসে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে। কিন্তু স্থানীয় যুবকরা বিষয়টি মেনে নিতে স্বীকার করেনি, পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা তৈরী হচ্ছে।

উত্তর দিনাজপুরে ৬ বাংলাদেশীসহ ১২ টি গরু আটক

গত ৯ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার পুলিশ সোলপাড়া থেকে ৬ বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় আব্দুল মালেকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি ওই বাংলাদেশী নাগরিকদের আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে কাঁটাতার কাটার যন্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের অনুমান, রাতে সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ধৃতরা গরুগুলি বাংলাদেশে পাচার করার পরিকল্পনা করেছিল। ধৃতেরা এদেশে আসার কোনও পাসপোর্ট দেখাতে পারেনি। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁয়।