নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ তরুণীকে, গ্রেপ্তার শেখ সাহিল

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের সময়ের নগ্ন ছবি তুলে রেখে দিয়েছিল প্রেমিক। পরে প্রেমিকা আপত্তি করলে তা দেখিয়েই দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল ও জোর করে সহবাসে বাধ্য করছিল প্রেমিক সেখ সাহিল। বারুইপুর থানার অন্তর্গত ফুলতলায় নিজের ফ্ল্যাটে আটকে রেখে দিনের পর দিন ওই তরুণীকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হতো বলে অভিযোগ। প্রেমিকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন প্রেমিকা। গত ১৭ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার রাতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা ঐ তরুণী। তরুণীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শেখ সাহিলকে গত ১৮ই জানুয়ারী গ্রেপ্তার করে পুলিস। জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে নির্যাতিতার সাথে বন্ধুদের মাধ্যমে আলাপ হয় সাহিলের। সময়ের সাথে দুজনের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কও তৈরি হয়। নির্যাতিতা তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তার সাথে সহবাসও করে সেখ সাহিল। অভিযোগ সহবাসের সময় ঐ তরুণীর নগ্ন ছবি সে মোবাইল ফোনে তুলে রাখে। পরবর্তী সময়ে সেই নগ্ন ছবি দেখিয়ে একাধিকবার ঐ তরুণীকে জোর করে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে সেখ সাহিলের বিরুদ্ধে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঐ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে নির্যাতিতা তরুণীকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও ঐ তরুণীর সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায় অভিযুক্ত। নির্যাতিতা তাতে বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপরেই বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঐ নির্যাতিতা তরুণী। তারপরেই তদন্তে নেমে শেখ সাহিলকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানার পুলিস। গতকাল ১৯শে জানুয়ারী, দুপুরে শেখ সাহিলকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

Advertisements

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের পঞ্চানন মন্দিরে লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা

jagatballavpurরাতের অন্ধকারে মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে প্রায় লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার চুরির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল জগৎবল্লভপুরের উত্তর মাজু পঞ্চাননতলা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন দুস্কৃতি উত্তর মাজু পঞ্চাননতলা এলাকায় পঞ্চানন্দ মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে থাকা বিগ্রহের সোনা ও রুপার সমস্ত অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার ভোরে স্থানীয় মহিলা মন্দির পরিস্কার করার জন্য মন্দিরে এলে চুরির বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে সমস্ত অলঙ্কার চুরির বিষয়টি তারা জানতে পারে। পরে পুলিশে খবর দিলে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চুরির ঘটনার তদন্তে নামে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীর গ্রেপ্তরির খবর পাওয়া যায়নি।  মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে এর আগেও দুস্কৃতিরা মন্দিরে চুরির চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতার কাটার চেষ্টা, বিএসএফ-এর গুলিতে মৃত্যু বাংলাদেশীর

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার কাটতে এসে বি এস এফের গুলিতে মৃত্যু হলো এক বাংলাদেশীর। গত ১৮ ই জানুয়ারী ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরদিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার শ্রীপুর বর্ডার আউট পোষ্টে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে এসেছে। মৃতদেহের পাশ থেকে দুটি কাটার ও ভোজালি উদ্ধার হয়েছে। মৃতের পরিচয় জানা যায় নি। গোয়ালপোখর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন ভোরে গোয়ালপোখর থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে শ্রীপুর বর্ডার দিয়ে এক ব্যাক্তি কাটাতারের বেড়া কেটে ভারত সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই সময় প্রহরারত বি এস এফ জোয়ান তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই ব্যাক্তির। মৃতদেহর পাশ থেকে উদ্ধার হয় দুটি কাটার ও একটি ভোজালি। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় ওলাইচন্ডি মন্দিরে আগুন দিলো মুসলিমরা, পুড়ে ছাই মন্দির, গ্রেপ্তার ১ মুসলিম

মকর সংক্রান্তির দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ওলাইচন্ডি মন্দিরে আগুন দিলো মুসলিমরা। আগুনে খড়ের ছাউনি দেওয়া মন্দিরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  এই ঘটনায় পিংলা থানার পুলিস মহম্মদ রফিক নামে স্থানীয় এক মুসলিমকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মকর সংক্রান্তির দিন ওই মন্দিরে পূজা চলছিল। সেই সময় পূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দুদের বচসা বেঁধে যায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলে একদল মুসলিম স্থানীয় মহম্মদ রফিক-এর নেতৃত্বে মন্দিরে আসে। এসেই মুসলিমরা মন্দিরের পুরোহিতকে মারধর করে মন্দিরটিকে ভেঙে দেয়। আতঙ্কে মন্দিরের কাছে থাকা হিন্দুরা পালিয়ে যায়। তখন মুসলিমরা মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মন্দিরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনার খবর আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ হিন্দুরা পরেরদিন দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে। চাপে পড়ে পুলিস মহম্মদ রফিককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পুলিস মাত্র ১ জনকে গ্রেপ্তার করায় পরেরদিন ক্ষুব্ধ হিন্দুরা পথ অবরোধ করে। তখন পুলিস ৩০জন হিন্দুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া হিন্দুদেরকে আজ কোর্টে তোলার কথা পুলিসের। এখনো পর্যন্ত  উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিস মোতায়েন রয়েছে।

হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় মনসা পূজার শোভাযাত্রায় বাধা- লাঠিচার্জ পুলিসের; হিন্দু জনতা এবং পুলিসের সংঘর্ষ

গতকাল ১৬ই জানুয়ারী, বুধবার হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া থানার সামনে মা মনসা ঠাকুরের শোভাযাত্রায় গান বাজানো নিয়ে থানার অফিসার আপত্তি করেন এবং হিন্দুদের  ওপর লাঠিচার্জ করার আদেশ দেন। পরে তা নিয়ে পুলিসের সঙ্গে হিন্দু জনতা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় জাঙ্গিপাড়া থানার কয়েকজন পুলিসকর্মী এবং কয়েকজন হিন্দু গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। স্থানীয় হিন্দু সংহতি প্রতিনিধি সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গিয়েছে যে গতকাল সকালে হুগলী জেলার জাঙ্গিপাড়ার চন্দনপুর কুলিপাড়ার হিন্দু যুবকরা মনসা পূজার ঠাকুর আনতে থানার সামনে দিয়ে গান(জয় শ্রী রাম) বাজিয়ে যাচ্ছিল।তখন পুলিশ ঐগান বন্ধ করতে বললে ছেলেরা কর্ণপাত না করে ঠাকুর আনতে চলে যায়। কিন্তু ঠাকুর নিয়ে ফেরার সময় শোভাযাত্রায় বাধা দেন এবং গান বাজানো বন্ধ করতে বলে পুলিসকর্মীরা, কিন্তু হিন্দু গ্রামবাসীরা তা না মানায়  ২জন পুলিশ ও ২ সিভিক ভলান্টিয়ার হিন্দু ছেলেদের লাঠি দিয়ে মারধর করে ।এই খবর গ্রামে পৌঁছালে গ্রামের হিন্দু জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।  কয়েক হাজার হিন্দুজনতা থানার সামনে এসে জড়ো হয় ।তখন থানার মেজোবাবু হিন্দু জনতার ওপর লাঠিচার্জ করতে নির্দেশ দেন ।পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে হিন্দুরা তখন থানায় ঢুকে পুলিশ এর উপর চড়াও হয়। সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।  এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়, সিভিক পুলিশরা ভয়ে লুকিয়ে পড়ে, শেষে পুলিশ থানার গেট বন্ধ করে হাত জোড় করে সন্মিলিত হিন্দু জনতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। পরে থানার সামনে ৩০মিনিট ধরে ঐ গান চালিয়ে লাঠিসোটা হাতে হিন্দু রা নাচানাচি করে। কয়েকজন আহত হিন্দু বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি, তাদের চিকিৎসা চলছে।

হালাল না ঝটকা: বিজ্ঞান কি বলে?

মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য পশুনিধনকে আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করার প্রয়াস সমস্ত পৃথিবীতেই প্রচলিত। এর কারণ মূলত দ্বিবিধ। প্রথমতঃ পশুনিধন প্রক্রিয়াটিকে যতটা সম্ভব মানবিক (humane) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করা,  দ্বিতীয়তঃ, পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত রাখা। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র [1, 2], বৃটেন [3] এবং ভারতের [4] মত গণতান্ত্রিক দেশসমেত বহু দেশে এই আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় রীতিসম্মত পশুহত্যা পদ্ধতিকে এই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। ধর্মমতের কারণে পশুহত্যার পদ্ধতিকে মানবিকতার আওতা থেকে বাদ দেওয়া পশুকল্যাণের ভীষণভাবে পরিপন্থী। ষ্টেট অফ গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমী নামক সংস্থার মোতাবেক [5], বিশ্বব্যাপী ‘হালাল’  শংসায়িত  (certified)  সামগ্রীর বাৎসরিক বাজার মূল্য ২.১ লক্ষ কোটি ডলারেরও অধিক। স্পষ্টতঃই পাঠক বুঝতে পারছেন যে হালালের বিস্তৃতি এবং তাদের শক্তি, যার কারণে আইনকেও তাদের দিকে চক্ষু মুদিত করে চলতে হয়। অবশ্য আইনী দুনিয়াতেও এই বিতর্ক চলছে যে চক্ষু মুদ্রিত করে থাকাটা যথোপযুক্ত [6, 7] কিনা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রচলিত ধর্মীয় রীতিসম্মত পশুহত্যার পদ্ধতি অন্যতম হল এই হালাল এবং কোশার (kosher)। দুটিই মূলতঃ একই পদ্ধতি কিন্তু ইহুদীরা বলে কোশার আর মুসলমানেরা বলে হালাল। শিখ এবং হিন্দু, এই দুই ভারতীয় ধর্মমতের অনুসারীরা পরম্পরাগত ভাবে যে পদ্ধতিটি পালন করে তাকে বলে ঝটকা। প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের বাসভূমি ভারতে প্রচুর পরিমাণে পশুকে সারা বছর জুড়ে তো বটেই, বিশেষতঃ বকরী-ঈদের সময়, হালাল করে বধ করা হয়। বলা হয় যে কেবল সম্পূর্ণরূপে সুস্থ পশুকেই ধর্মমত মোতাবেক হত্যা করা বিধেয়।

কোশার বা হালালের সময়, একটি ধারালো ছুরিকে প্রাণীটির গলায় (ventral neck) একটি খোঁচাতেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ছুরিটিকে না তুলে বারবার প্রবেশ করানো হয় যাতে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, মস্তকে রক্তসংবহনকারী স্কন্ধদেশের ধমনী (carotid arteries), স্কন্দদেশের শিরা (jugular vein) এবং ভেগাস স্নায়ু খণ্ডিত [8] হয়। এতে শরীর থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে এবং প্রাণীটি পরিণামে প্রাণ হারায়। এই পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে ventral neck incision (VNI)। এতে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীটির মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত অক্ষত থাকে।

অপরপক্ষে ঝটকা পদ্ধতিতে হত্যার সময়, ঘাড়ের পিছনের দিকে (dorsal neck) কর্তন করা হয় যাতে মস্তকের খুলিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ড (spinal cord) থেকে নিমেষে পৃথক করা হয়। কেবল ঘাড়ের কর্তন (cervical dislocation)-ই নয়, বরং এক আঘাতে মস্তকের শরীর থেকে বিখণ্ডিতকরণ এর উদ্দেশ্য। তাই এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত ভারী এবং ধারালো অস্ত্র।

আমরা বর্তমান বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আলোকে এই দুই পদ্ধতিকে তুলনা করে দেখব, কোন পদ্ধতি বেশি মানবিক এবং পশু কল্যাণের নিরিখে বেশি নীতিসম্মত।

ক) সাধারণভাবে আমাদের শরীরের, আরও সঠিকভাবে বললে সোমাটিক কোষগুলি থেকে কোন অনুভূতি কিছু বিশেষ প্রোটিন (বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, cognate receptor proteins) লাভ করে যারা সেই অনুভূতিকে স্নায়ুর মাধ্যমে প্রেরণ করে। স্নায়ু আসলে কিছু নিউরোণ কোষের সমষ্টি মাত্র। স্নায়ু অনুভূতিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিষ্ক এই অনুভূতির প্রতিক্রিয়া হিসাবে আপন বার্তা সেই সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোণের মাধ্যমেই প্রেরণ করে মাংসপেশীগুলিতে (effector muscles)। মাংসপেশীগুলি মস্তিষ্ক প্রেরিত বার্তাকে ক্রিয়াতে রূপ দেয়। হালালের সময় বার্তাপ্রেরণের স্নায়ু নির্দেশিত সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যস্থ এই পথটিকে কোন ভাবেই ব্যাহত করা হয় না। পক্ষান্তরে ঝটকার সময় এই পথটিকে নিমেষের মধ্যে ছিন্ন করা হয়। ফলে ঝটকার সময় বলিপ্রদত্ত প্রাণীটির ব্যথার অনুভূতি সেই মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। কিন্তু হালালের সময় এই ব্যথার অনুভূতি হালালপ্রদত্ত প্রাণীটির মস্তিষ্কে নিরবিচ্ছিন্ন প্রাণীটির মরণাবধি পৌঁছতে থাকে।

খ) ব্যথা পরিমাপের এক স্বীকৃত পদ্ধতি হল ইইজি বা ইলেক্ট্রো এনসেফ্যালোগ্রাম। এই যন্ত্রটি মস্তিষ্কের নিউরোণের বৈদ্যুতিক বার্তাকে পরিমাপ করে। গরু বা ভেড়ার মত শান্ত প্রাণীরা তাদের যন্ত্রণার অনুভূতিকে বাইরে সবসময় প্রকাশ করে না। কিন্তু ইইজি পদ্ধতিতে তাদের ব্যথা স্পষ্টতই প্রকাশ পায়। বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন [9] যে ঝটকা পদ্ধতিতে প্রাণীবধ করলে শিরশ্ছেদের ৫ থেকে ১০ সেকেণ্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কের (cerebral cortex) কার্য বন্ধ হয়।

ফরাসী পর্যবেক্ষকেরা অন্যদিকে দেখেছেন [10, 11], হালালের সময় অনুসৃত পদ্ধতিতে (VNI) বধ্য প্রাণীটি ৬০ সেকেণ্ড পর্যন্ত তো বটেই, অনেক সময় বহু মিনিটও ব্যথা অনুভব করে। কখনও কখনও কর্তন সফল না হলে প্রাণীটি অবর্ণনীয় যন্ত্রণা [12] অনুভব করে। এর কারণ  সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুপথ আর  মস্তিষ্কে রক্তসরবরাহকারী  কশেরুকার ধমনীগুলি (vertebral arteries) হালাল করার সময় অক্ষত [13] থাকে। অপরপক্ষে, ঝটকা পদ্ধতিতে বধের সময় স্নায়ু এবং রক্তপরিবাহী নালীগুলি নিমিষে বিচ্ছিন্ন [11] হয়। ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন যেতে পারে না এবং শিরশ্ছেদের প্রায় পরমূহূর্তেই প্রাণীটি সংজ্ঞা হারায়।

অষ্ট্রেলিয়ান এবং বৃটিশ গবেষকগোষ্ঠীগুলির গবেষণায় [15–19] প্রমাণিত যে হালালের সময় যে VNI পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয় তাতে প্রাণীটি ভীষণ বেদনায় (noxious stimulation) বিদীর্ণ [14] হয়।

গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পশু কল্যাণ নিবন্ধনকারী সংস্থা এক ঝটকায় গরু, শূকর এবং অন্যান্য গবাদি পশুকে বধ করতে নির্দেশ [1] দেয়। তারা এর সাথে আরও একটি সহায়ক পদ্ধতিকে  প্রাণীবধের উপযুক্ত মনে করে থাকে। এই দ্বিতীয় ব্যবস্থাতে stunning  (এক দ্রুত যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক পদ্ধতি যাতে সংজ্ঞা আশু লুপ্ত হয়) নামক পদ্ধতিতে [20] সংজ্ঞালোপের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারপর প্রাণীটিকে বধ করা হয়। গবেষণাগারে দেখা গেছে যে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে ইউথ্যানাশিয়াতে (নীতিসম্মত প্রাণীবধ) ইঁদুর জাতীয় প্রাণীরা [21] দ্রুত ব্যথাহীন ভাবে সংজ্ঞালুপ্ত হয়ে প্রাণ হারায়। এ ডব্লু এ (Animal Welfare Act) এবং পি এইচ এস (Public Health Service) মনে করে সুষুম্নাকাণ্ডের কর্তন সহ শিরশ্ছেদ এবং সংজ্ঞালুপ্ত করে শিরশ্ছেদ কোন প্রাণীকে বধ করার প্রকৃষ্ট নৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক উপায়। একমাত্র গ্যাস [22] দিয়ে সংজ্ঞালোপের পরেই কেবল VNI বা হালালে অনুসৃত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। গবেষণাগারের প্রাণীদের জন্য সমস্ত পৃথিবীর বিজ্ঞানীকুল এই নিয়মগুলি মেনে চলে।

ঘ) বিভিন্ন গবেষক গোষ্ঠীরা বারংবার প্রমাণ করেছেন যে কোশার বা হালাল পদ্ধতিতে প্রাণীবধের সময় প্রাণীগুলি ভীষণ বেদনা বা স্নায়ুমণ্ডলীর ধকল (stress) অনুভব করে। গরু-ষাঁড়, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর ক্ষেত্রে এর ফলে তিনটি ষ্ট্রেস হরমোন (stress hormones), যথা  কর্টিসোল (cortisol), নর-এড্রিনালিন (nor-adrenaline) এবং ডোপামাইন (dopamine) ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত [23–25] হয়। কারণটি খুবই সরল, এই তিনটি হরমোন সমেত আমাদের বেশির ভাগ হরমোনের নিঃসরণই মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলের  দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমেরিকান বৈজ্ঞানিক টেম্পল গ্র্যাণ্ডিন দেখিয়েছেন [26–27] যে প্রাণীদের সংজ্ঞাশূন্য করে (stunning) হত্যা না করলে রক্তে কর্টিসোলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মাংসপেশীর তাপমাত্রাও বাড়ে। সাধারণত স্নায়বিকধকলের কারণে এড্রিনালিন হরমোনের পরিমিত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। ফলে মাংসের পিএইচ কমে (অর্থাৎ  মাংস অম্লভাবাপন্ন হয়)। তার ফলে মাংস যে কেবল গোলাপী এবং নরম থাকে তাই নয়, উপরন্তু মাংসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না।

অপরপক্ষে প্রাণীটিকে যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে হত্যা করলে স্নায়ুর ধকল বাড়ে। ফলে এড্রিনালিন হরমোনেরই অতিরিক্ত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন শীঘ্রই নিঃশেষিত হয়। ফলে মাংস যথন বিক্রীত হয় ততক্ষণে তাতে কোন আর ল্যাকটিক অ্যাসিড অবশিষ্ট থাকে না। ফলে মাংসের পিএইচ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত হয়। মাংস হয় [28] শুষ্ক, গাঢ় এবং শক্ত। এড্রিনালিন ছাড়া বাকী সব ষ্ট্রেস হরমোনগুলি রাসায়নিক ভাবে দেখলে ষ্টেরোয়েড মাত্র। তাই তারা কোষের ঝিল্লিকে ভেদ করে ডিএনএর সঙ্গে জুড়ে কোষের স্থায়ী  পরিবর্তন [29–30] সাধন করে। মৃত প্রাণীর শরীর থেকে রক্ত সরিয়ে দিলেও প্রভাব বজায় থাকে। গবেষকরা ভেড়ার মাংসের ক্ষেত্রে [31] দেখেছেন যে ষ্ট্রেস হরমোনগুলিকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করালে মাংসের গড়ন এবং স্বাদ বিনষ্ট হয়। আমেরিকার ন্যাশানাল ইনষ্টিটিউট এফ মেণ্টাল হেল্থের গবেষণায় এনাস্থিসিয়া ছাড়াই [32] ইঁদুরের শিরশ্ছেদ (ঝটকা) করলেও রক্তে এই হরমোনগুলোর পরিমাণ সবসময় কমই থেকে যায়। এর কারণ বোধহয় এটাই যে ঝটকার সময় সাধারণ স্নায়বিক ধকলের অনুভূতি অত্যল্প হয়।

ভারতে প্রাণীহত্যার নিষিদ্ধকরণের আইন কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি ছাড়া সব জায়গাতেই আছে। আইন অনুসারে বধের আগে প্রাণীকে সংজ্ঞাবিহীন করা (stunning) আমাদের দেশের কসাইখানাগুলির অবশ্য পালনীয়  (২০০১ সালের স্লটারহাউস আইনের (slaughterhouse Act) ৬নং ধারা)। কোন প্রাণীকে অন্য কোন প্রাণীর সামনে হত্যা করাও নিষিদ্ধ যাতে প্রাণীদের মধ্যে ষ্ট্রেসের আধিক্য না হয়। ২০১১ সালের Food Safety and Standard Regulations আইনের ৪.১ ধারার ৪(ক) উপধারা মোতাবেকও [33] বধের আগে প্রাণীকে সংজ্ঞাবিহীন করা অবশ্য পালনীয়।

বাস্তব অবশ্য অন্য কথাই বলে। পেটার (PETA  অর্থাৎ People for the Ethical Treatment of Animals)  প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে  ভারতের কসাইখানাগুলি প্রাণীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার দায়ে অভিযুক্ত। কসাইখানার কর্মীরা ভোঁতা ছুরি দিয়ে প্রাণীদের হালাল করে রক্তপাতের মাধ্যমে  হত্যা করে। প্রাণীদের চামড়া জীবন্ত অবস্থাতেই [34] ছাড়ানো হয় এবং জীবন্ত অবস্থায় তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ওয়েষ্ট বেঙ্গল এলিম্যাল স্লটার এক্ট ১৯৫০ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রাণীহত্যার ক্ষেত্রে যে নিয়মগত শিথিলতা দেয়, তাকে সুপ্রীম কোর্ট বেআইনী বলে ঘোষণা [4, 2] করেছে। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট রাজ্য সরকারগুলিকে বেআইনী কসাইখানা বন্ধ  করতে আদেশ দিয়েছে। কোর্ট আরও বলেছে পশুদের প্রতি ব্যবহারের উপর নজর রাখতে উপযুক্ত সংস্থা গড়তে হবে যারা মাংস এবং চামড়ার জন্য যেসব প্রাণীহত্যা করা হয়, তাদের উপর নৈতিক আচরণকে নজরে রাখবে। কোর্ট আরও বলেছে [35] যে ভারতীয় সংবিধান ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে বলে। এর জন্য রাজ্যগুলিকে যত্নশীল হতে হবে।

দুনিয়াব্যাপী ধীরে ধীরে আইন যত্নশীল হচ্ছে যাতে হালাল-কোশার ইত্যাদি ধর্মমত মোতাবেক বধের নামে প্রাণীদের দুর্দশা বর্ধিত না হয়। প্রাণীকে সংজ্ঞাশূন্য না করে হালাল করা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে, যেমন ডেনমার্ক, নেদারল্যাণ্ড, সুইডেন, সুইজারল্যাণ্ড এবং লাক্সেমবার্গে [36, 37] নিষিদ্ধ। ইহুদী এবং মুসলমান ধর্মমতের প্রবক্তাদের বক্তব্য ছিল যে সংজ্ঞাশূন্য করে প্রাণীহত্যা করলে প্রাণীদের মস্তিষ্ক আঘাত প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ সে আর সুস্থ থাকে না। ফলে সেই প্রাণী আর হালাল বা কোশারের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই বক্তব্যকে আজ বহু দেশ খারিজ করে দিচ্ছে। ২০১৫ থেকে হালালের পূর্বে সংজ্ঞাশূন্য করা বৃটেনে চালু হয়েছে যদিও পূর্ণ সাফল্য হয়তো এখনও আসে নি। কিছু আন্তর্জাতিক হালাল শংসাপত্র প্রদানকারী সংস্থা এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশই তা মানে নি [38] যেমন সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার বেশির ভাগ হালাল মাংস আমদানিকারী সংস্থা। তাই দেখা যাচ্ছে আজও ধর্মমতই প্রাণীদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, বৈজ্ঞানিক যুক্তি নয়। যেহেতু এই ধর্মমতে বিশ্বাসীরা লক্ষ কোটি ডলারের ব্যবসা প্রদান করে, তাই পশুদের কল্যাণ অনায়াসেই লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু ধর্মমত বা অর্থনীতি নয়, পশুকল্যাণের ক্ষেত্রে মানবতাবাদ এবং বিজ্ঞানেরই শেষ কথা বলা উচিত।

সৌজন্যে : http://Bangodesh.com

খ্রিস্টানরা বাইবেল বিতরণ করছে গঙ্গাসাগর মেলাতে

Evangelical Church Of India গঙ্গাসাগর মেলাতে বাইবেল বিনামূল্যে বিতরণ করছে ।গঙ্গাসাগর মন্দিরের কাছে যে হেলিপ্যাড আছে, তার পাশেই হচ্ছে এই বিতরণ। গঙ্গাসাগরের বাসিন্দা হিন্দু থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া বরুণ প্রামানিক এবং তাঁর স্ত্রী সুলোচনা প্রামানিক এই কাজ করছেন।পেটি পেটি বাইবেল নিয়ে আসা হয়েছে। হিন্দি এবং বাংলা এই দুই ভাষায় বাইবেল দেওয়া হচ্ছে।হিন্দুদের বোকা বানাবার জন্যে হিন্দি বাইবেলের নাম দেওয়া হচ্ছে, “পবিত্র শাস্ত্র” এবং বাংলা বাইবেলের নাম দেওয়া হয়েছে “নতুন নিয়ম” ।কয়েকজন অবাঙালি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নজরে আসে বিষয়টি এবং প্রতিবাদ করায় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে চলে যায় তারা।তারা জানিয়েছে যে গত ৩ বছর ধরে গঙ্গাসাগর মেলায় বাইবেল বিতরণ করছে।প্রায় ৩ লক্ষের বেশি বাইবেল বিতরণ করেছে এই পর্যন্ত।হিন্দু নাম কেন জিজ্ঞেস করায় তারা বলেছে যে খ্রিস্টান হয়েছেন তারা এবং নাম পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন নেই।

পশ্চিমবঙ্গের ইসলামীকরণ : বারাসাতের হাতিপুকুর হলো সিরাজ উদ্যান

siraj udyanপশ্চিমবঙ্গের ইসলামীকরণ চলছে পুরোদমে, কিন্তু তা চলছে নীরবে। এর আগেই কলকাতার হলদিরাম বাস-স্টপের নাম পাল্টে হজ হাউস বাস-স্টপ করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের চাঁপাডালি মোড়ের বাস স্টপের নাম পাল্টে ‘তিতুমীর বাস টার্মিনাস’ করা হয়েছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বারাসাতের সিরাজ উদ্যান। বারাসত শহরে জেলাশাসকের অফিসের পাশেই এই হাতিপুকুর অবস্থিত। কিন্তু পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাতিপুকুর মজে গিয়েছিল। আবর্জনা জমতে জমতে পুকুরের জল কালো হয়ে দুর্গন্ধ বের হতো। এই হাতিপুকুরের সঙ্গে সিরাজদৌল্লার স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। অনেকে বলেন, সিরাজদৌল্লা এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হস্তী বাহিনীকে এখানেই বিশ্রাম দিতেন। এই পুকুরেই হাতিরা জল খেত বলে নাম হয়েছে হাতিপুকুর। আড়াই বছর আগে বারাসতের সংসদ সদস্য ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার এই হাতিপুকুর সংস্কার করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যানের কাজের শুভারম্ভও করেন। নিজের সংসদ তহবিল থেকে ৫০ লক্ষ টাকা অনুদানও দেন। গত ১২ই জানুয়ারী, শনিবার ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার এর উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্যান সংস্কার করার পর  আগের নাম হাতিপুকুর উদ্যান রাখা হলো না কেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কোচবিহারে কীর্তন অনুষ্ঠানের মাইক বন্ধ করলো প্রশাসন, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ হিন্দুদের

kirtanব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে কীর্তন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল ১২ই জানুয়ারী,  শনিবার কোচবিহারের ধলুয়াবাড়িতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, গত ১১ই জানুয়ারী, শুক্রবার রাতে ধলুয়াবাড়িতে কীর্তনের আসর বসেছিল।  সেই সময় স্থানীয় বিডিও এবং পুলিস গিয়ে কীর্তনের মাইক বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। গভীর রাতে মাইকে কীর্তন হওয়ার জেরে বাসিন্দাদের ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে এই অভিযোগেই সেসময় কীর্তন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্লক প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগের জেরেই মাইক বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কোনওভাবেই কোনও ভাবাবেগে আঘাত করার অভিপ্রায় ছিল না। এদিকে স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কীর্তন অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। সেইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন,  জেলার বিভিন্ন জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়। তখন কেন বন্ধ করা হয় না?  ঘণ্টাখানেক ধরে এই অবরোধ হয়। এতে দিনহাটা থেকে কোচবিহার যাওয়ার রাস্তায় ব্যাপক যানজট হয়। পরে বিডিও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা, পুলিস গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, বিডিও গিয়ে আমাদের কীর্তন বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা আমরা কোনওভাবেই মানব না।

যশোরে মা মনসা প্রতিমা ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ইয়াসিন

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জিহাদি মনোভাবাপন্ন মুসলিমদের আক্রমণ অব্যাহত। খুন, জমি পর এবার হিন্দুদের  ভাঙচুর।  গতকাল  ১২ই জানুয়ারী, বাংলাদেশের যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার মহাকাল গ্রামের মৃত হরিপদ দাসের বাড়ির দুইশত বছরের পুরোনো মনসা প্রতিমা ভাঙচুর করলো স্থানীয় একজন মুসলিম যুবক। জানা গিয়েছে, ঐদিন ভোরের বেলায় বাড়ির মন্দিরের বেদিতে থাকা মা মনসার প্রতিমা ভেঙে ফেলে দেয় এক মুসলিম যুবক। কিন্তু ভাঙচুরের আওয়াজে বাড়ির সদস্যরা জেগে যায় এবং একজন মুসলিম দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে বাড়ির লোকেরা। তাঁর নাম ইয়াসিন।  চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের হিন্দুরা ছুটে আসে এবং ওই  দুষ্কৃতীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আমতায় দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

গতকাল বীর হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ছিল  সেই পুণ্য তিথিতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য সহ দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ করা হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানটি হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত দক্ষিণ হরিশপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। তারপর হরিশপুর গ্রাম এবং আশেপাশের গ্রামের ২০০ জন দরিদ্র বৃদ্ধ, মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কলকাতার Magnum পরিবার।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে, উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে এবং কলকাতার Magnum পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীমতি মীনা আগারওয়াল, সঞ্জীব তান্ঠিয়া এবং শ্রী বীরেন্দ্র মোদীজি। 

শবরীমালার ঐতিহ্য ধ্বংসের চেষ্টার প্রতিবাদে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

কেরালার হিন্দুদের আবেগবিজড়িত শবরীমালা মন্দিরের ঐতিহ্য ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে রাজ্যের বাম সরকার । জোর করে , পুলিস-প্রশাসন দিয়ে মন্দিরের সম্মান ও পবিত্রতা ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেরালার বাম সরকার। তারই প্রতিবাদে আজ হিন্দু সংহতির বারুইপুর জেলা ইউনিটের কর্মীরা কলকাতার ঢাকুরিয়ায় অবস্থিত কেরালার ট্যুরিজম অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।এই বিক্ষোভে হিন্দু  সংহতির কয়েকশ কর্মী অংশ নেয়।হিন্দু সংহতির কর্মীরা শবরীমালা মন্দিরের ঐতিহ্য ধ্বংসের প্রতিবাদে এবং কেরালার হিন্দুদের ওপর বাম সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কেরালার স্টেট ট্যুরিজম অফিসের সামনে শ্লোগান দেয়। মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে, হাতে হিন্দু সংহতির পতাকা নিয়ে হিন্দু সংহতির কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। হিন্দু সংহতির কর্মীরা ট্যুরিজম অফিসের কর্মীদেরকে বের করে অফিসের শাটার নামিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। তারপর ওই অফিসের সামনে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের ছবি পোড়ানো হয়।এ শবরীমালা রক্ষায় কেরালার হিন্দুদের সমর্থন জানাতে আগামীদিনেও হিন্দু সংহতি পথে নামতে কুন্ঠাবোধ করবে না। 

বালুরঘাটে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

শীতের প্রকোপে নিতান্ত অসহায় হতদরিদ্র আদিবাসী ভাই বোনেদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে তাদের বাড়ীর উঠোনে পৌছে গেলো হিন্দু সংহতি।বাস রাস্তা থেকে চার কিলোমিটার ভেতরে বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা অঞ্চলের প্রত্যন্ত মাধবপাড়া গ্ৰামে আদিবাসী ভাইদের বাড়ীর উঠোনে গিয়ে তাদের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে এলেন হিন্দু সংহতির কার্যকর্তা শ্রী প্রমিত লাহা এবং শ্রী রজত রায়। এখনো ঐ গ্ৰামে লাঙ্গল দিয়ে চাষ হয়। বহু মানুষ সেখানে সম্পূর্ণ অসহায়, নিঃস্ব। তাদের পাশে থাকার বার্তা দিতে হিন্দুসংহতির এই প্রয়াস।

লোকসভায় পাশ হলো নাগরিকত্ব বিল

তুমুল বিতর্ক এবং বিরোধী দলগুলির বিরোধিতা সত্বেও লোকসভায় পাশ হয়ে গেলো নাগরিকত্ব বিল।  এর ফলে  বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। গতকাল ৮ই জানুয়ারী লোকসভায় এই বিল পাশ হয়। বিল পেশের আগে সব বিরোধী দলগুলি বিতর্কে অংশ নেয়। তামাম বিরোধী দলগুলি এই বিলের বিরোধিতায় বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে কয়েকটিদল এই তালিকায় বাংলাদেশী মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান। এই নিয়ে দীর্ঘসময় পর্যন্ত সংসদে বিতর্ক চলতে থাকে। এর উত্তরে সংসদে রাজনাথ সিংহ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যে যারা ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হচ্ছেন, তাঁরা সেদেশে সংখ্যালঘু এবং তাদের ভারত ছাড়া যাওয়ার আর কোনও জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন যে এই  তিন দেশের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেওয়া কোনও ভাবেই সংবিধান-বিরোধী নয়। এই আইন পাশের ফলে বৈধ নথি না থাকলেও নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু লোকসভায় পাশ হলেও, রাজ্যসভায় পাশ করাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হতে পারে মোদী সরকারকে।

দিনে ফেরি,রাতে নাবালিকাকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই মুসলিম যুবক

ফাঁকা রাস্তা থেকে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা এবং তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভিনজেলার দুই ফেরিওয়ালা মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানার পুলিস। গত ৬ই জানুয়ারী, রবিবার রাতে কাঁথি থানার বেণীচক গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের অটোতে ভাঙচুর চালায় এবং তাদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিস উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই কিশোরীর আত্মীয়র অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই দুই মুসলিম যুবক অটোতে করে বিভিন্ন জিনিস ফেরি করতো।  রবিবার রাতে দেশপ্রাণ ব্লকের পেটুয়া থেকে ফেরি করে কাঁথি ফিরছিলো। সেই সময় কাঁথি-রসুলপুর রাজ্য সড়কের শ্যামপুরের কাছে বাড়ি আসার জন্যে অটো ধরতে দাঁড়িয়ে ছিল এক কিশোরী তাঁর মা। তারা যাত্রীবাহী অটো মনে করে হাত দেখায়, তখন তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেয়।  গাড়ি একটু এগিয়ে যেতেই কিশোরী ও তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে দুই যুবক। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই কিশোরীর মাকে ঠেলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আনিস ও হাসিবুল ওই কিশোরীকে মুখ চাপা দিয়ে তাদের গাড়িতে করে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বিপদ বুঝে ওই কিশোরী কোনওরকমে মুখের কাপড় সরিয়ে চিৎকার শুরু করতেই স্থানীয় পথচলতি মানুষজন দৌড়ে আসেন। তাঁরা পিছু ধাওয়া করে ওই গাড়িটিকে ধরে ফেলেন। পাকড়াও করা ওই দুই যুবককে। শুরু হয় গণধোলাই। গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়েই পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের শেখ হাসিবুল ও নদীয়া জেলার নবদ্বীপের বাসিন্দা শেখ আনিস। ধৃতরা এই ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। মঙ্গলবার দু’জনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কাঁথি থানার আইসি সুনয়ন বসু বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।