ডিটেনশন ক্যাম্পে বাঙ্গালী হিন্দুর মৃত্যু মানেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা

রজত রায় 

rajat royযে হিন্দুরা দেশভাগের বলি, পাকিস্তানে (আজকের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকতে যাদের বাধ্য করা হয়েছিলো, তাদের দুঃখ বেদনাকে যিনি প্রাণ দিয়ে অনুভব করতেন, তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। পাকিস্তানে হিন্দুদের প্রতি নিপীড়নের প্রতিবাদেই যে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন সেটি তার পদত্যাগ পরবর্তী সংসদের প্রথম ভাষনেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। The circumstances that have left to my resignation are primarily concerned with the treatment of minorities in Pakistan, specially in East Bengal.
    ডঃ মুখার্জী জোরের সঙ্গে দাবী করতেন যে ওপার বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করতে ভারত দায়বদ্ধ। কারণ তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আত্মত্যাগ করেছে। নিজেদের জন্যে নয়, ভারতবর্ষের জন্যে। তিনি সংসদে বলেছিলেন, Let us not forget that the Hindus of East Bengal are entitled to the protection of India not on humanitarian considerations alone, but by virtue of their sufferings and sacrifices,made cheerfully for generations, not for advancing their own parochial interests, but for laying the foundations of India’s political freedom and intellectual progress.
    পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইসলামিক চরিত্রের কারণে হিন্দুরা সেখানে নিরাপত্তার সঙ্গে বাস করতেই পারবে না। এ বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ ছিলেন। সেটা তিনি জোরের সঙ্গে সংসদে ব্যক্ত করেছিলেন। The establishment of a homogenous Islamic state is Pakistan’s creed and a planned extermination of Hindus & Sikhs and expropriation of their properties constitutes it’s settled policy. As a result of this policy life for the minorities in Pakistan has become nasty, brutish and short.
         তার সবচাইতে বেশী উদ্বেগ ছিলো পূর্ব পাকিস্তান(আজকের বাংলাদেশ) নিয়ে‌।বাঙ্গালী হিন্দুদের নিয়ে। তার আশঙ্কা কতোটা বাস্তব ছিলো বাংলাদেশে দশকের পর দশক ধরে হিন্দু বাঙ্গালীর উপর ঘটে চলা নারকীয় নিপীড়ন সেটা প্রমাণ করেছে। তারা দলে দলে পালিয়ে এসে মূলতঃ পঃ বঙ্গ, আসামে আশ্রয় নিয়েছিলেন।সংবিধানে শরনার্থী কথাটার ব্যাখ্যা নেই। তাদের মধ্যে অনেকেই অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত। ওপারে মালাউন, এপারে অনুপ্রবেশকারী। অদৃষ্টের পরিহাস!অনেকের স্থান হয়েছে আসামের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে(জেলখানা)।অতি সম্প্রতি এইরকম একটি ক্যাম্পের অধীনে থাকা দুলাল পালের মৃত্যু একটা প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে। এই ব্যক্তির অপরাধ কি ছিলো? ডাকাতি? খুন? ধর্ষণ? অন্য কোন এইধরনের অপরাধ? না। তাহলে? তিনি বিদেশী বলে চিহ্নিত। এই হিন্দুস্থানে। তার বাবা,কাকারা হয়তো ভারতের স্বাধীনতার জন্যে প্রাণ দিয়েছিলেন ব্রিটিশ ভারতের জেলে। স্বাধীনতা সংগ্ৰামী হিসেবে। বিদেশীদের এই দেশ থেকে বিতাড়নের জন্যে। আর,তার প্রাণ গেলো ভারতীয় জেলে, বিদেশী হবার অপরাধে,অনুপ্রবেশের তকমা নিয়ে। অদৃষ্টের কি করুণ পরিহাস!প্রধানমন্ত্রী আসামের জনসভায় জোরের সঙ্গে বলেছিলেন, ভারত পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের হিন্দুদের ন্যাচারাল হোম। দুলাল পালের মৃত্যু কি প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসবানীকে উপহাস করছে না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল অর্থ, হিন্দুদের চিন্তার কিছু নেই। নিহত দুলাল পালের পরিবারের কাছে সেই বক্তব্যের আদৌ কোন মূল্য আছে কি? ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর কন্ঠস্বর সংসদের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হতো, মথিত হতো  পূর্ব বাংলার বাঙ্গালী হিন্দুর অসহায়তার কাহিনীতে। এই প্রসঙ্গে নেহরুর উদাসীনতাকে তীব্র আক্রমণ করে তার বিভিন্ন বক্তব্য সংসদের রেকর্ডে লিপিবদ্ধ আছে। তার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার ছিলো যে তার মনোমত দল সরকারে থাকলে অথবা তার মতো মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের কর্ণধার হলে পূর্ব বাংলা থেকে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসা হিন্দু বাঙ্গালীরা এদেশের অন্য সবার মতো ভারতীয় নাগরিকত্বের সমান মর্যাদা নিয়ে বাস করার অধিকারী হবে।     তার হাতে তৈরী দল আজ সরকারে।কেন্দ্রে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য আসামে। তারপরেও ডিটেনশন ক্যাম্পে দুলাল পালদের মৃত্যু কেনো? প্রতিশ্রুতির বন্যা। অথচ বাস্তবে ফল শূন্য। কেন্দ্র এবং আসাম সরকার মিলে এই দিশাতে একটাও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছে কি? ২০১৫ এর ৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের জারী করা নোটিফিকেশন (যাতে বলা হয়েছে যে পাশের তিন ইসলামিক রাষ্ট্র থেকে ২০১৪ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসা অমুসলিমদের গ্ৰেপ্তার বা ফেরত পাঠানো চলবে না) পর্যন্ত আসামে প্রযোজ্য হচ্ছে না। এটা বাঙ্গালী হিন্দুদের রক্ষাকবচ হতে পারতো।তাদের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তির রাস্তা করে দিতে পারতো। সাড়ে তিন বছর ধরে আসাম এবং কেন্দ্রে বিজেপি র সরকার। পূর্ণ গরিষ্ঠতা নিয়ে। তারপরেও এই লক্ষ‍্যে আলোচনাই শুরু হয়নি। কেনো? কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর? বাকী দলগুলি তো ভোটলোলুপতার কারণে মুসলিম তোষনে বিশ্বাসী। কেবল হিন্দুদের জন্যে রক্ষাকবচের বিরোধী। কিন্তু হিন্দু ভাবাবেগের স্বার্থরক্ষার কথা বলা বিজেপি র কাছ থেকে সদর্থক ব্যবস্থা নেই কি কারণে?  দুলাল পালের মৃতদেহ কি চীৎকার করে বিজেপি কে বলছে না যে তোমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রকৃত উত্তরাধিকারি নও।তোমরা হিন্দু বাঙ্গালীর প্রতি,শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ করছো। তোমরা বিশ্বাসঘাতক!
      বাঙ্গালী হিন্দুকে পরিত্রানের পথের সন্ধান করতে হবে। সেদিন বাঙ্গালী হিন্দু দল বেধে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পিছনে দাড়ায়নি। ফল, আজকের বাঙ্গালী হিন্দুর করুণ পরিনাম। এখনো কি বাঙ্গালী হিন্দু একই ভুল করবে?ময়দানে লড়ার মতো সঠিক সংগঠনের পিছনে দাড়াবে না? বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই নিজেদের সুরক্ষার উপায় সন্ধান করবে? তার দ্বারা ভবিষ্যত প্রজন্মের করুণ পরিনতির রাস্তা নিজেরাই তৈরী করে যাচ্ছে না তো?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s