হাওড়ায় হিন্দু দেব-দেবী নিয়ে কটূক্তি মুসলিম দুষ্কৃতীদের,প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

আমতা থানার পূর্ব গাজীপুর গ্ৰাম। বালক সঙ্ঘের পরিচালনায়( সেখানে প্রায় সবাই হিন্দু সংহতির সঙ্গে যুক্ত) প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও দুর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে। গত পরশু মানে ১১/০৯/১৯, সন্ধার পর থেকে রাস্তার পাশে ছেলেরা চাঁদা তুলছিলো। আনুমানিক ৯-৩০ নাগাদ সেখান দিয়ে তিনটি বাইকে পাঁচটি মুসলিম যুবক যাচ্ছিলো। তাদের কাছে চাঁদাও চাওয়া হয়নি। তারা বাইক থামিয়ে বলে, পয়সা নেই তো ভিখিরির মতো অর্থ সংগ্ৰহ করে পূজো করার কি দরকার? মূর্তি পূজা এবং দেবী দুর্গা সম্বন্ধেও কটুক্তি করে। সাথে সাথে হিন্দু সংহতির ছেলেরা রুখে দাড়ায়। কথা কাটাকাটি হাতাহাতির রূপ নেবার আগে আরো কিছু স্থানীয় মানুষ এসে বিষয়টি মিটমাট করে দেয়। ওরা যাবার সময় কিছুটা দূরে এক হিন্দু বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে থাকে এবং দেখে নেবার হুমকি দিতে থাকে। খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির ছেলেরা ওখানে পৌছলে ওরা বাইক নিয়ে স্থানত্যাগ করে। গতকাল, ১২ তারিখ হাজার হাজার মুসলিম ওখানে বাজার সন্নিকটস্থ আমতা-বাগনান রোড অবরোধ করে। রাজ্যটা মনে হয় ওদের সম্পত্তি। ওদের বক্তব্য ওদের মহরমের তাজিয়ার পতাকা নাকি হিন্দুরা ছিড়ে দিয়েছে।একটা বাচ্চাও বুঝবে, কতোটা মিথ্যা অভিযোগ। অবরোধ চলাকালীন ওরা হিন্দু গ্ৰামে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করে। কিন্তু একটা বিষয় ওরা বুঝতে পারছিলো, গ্ৰামটিতে হিন্দু সংহতির যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী আছে। অন্য হিন্দু গ্ৰামে যেমন প্রতিরোধবিহীন তান্ডব চালানো যায়, এখানে সেটা সম্ভব নয়। হিন্দু সংহতির সঙ্গে মুখোমুখি টক্বরে যাওয়াটা যে নির্বুদ্ধিতা হবে, সেটা অনুধাবন করে ওরা হামলার পরিকল্পনা ত্যাগ করে। তারপর পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়। সন্ধার নমাজের পর আবার ওরা পথ অবরোধ করে। হিন্দু সংহতির চারজন ছেলের নাম করে তাদের গ্ৰেপ্তারের জন্যে পুলিশকে চাপ দেয়। পুলিশ ওদের দাবী মানার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ ওঠে। কিন্তু ওদের হুমকি এদিক ওদিক দিয়ে চলতে থাকে। গালিগালাজ করাটাও বন্ধ করে নি। কিন্তু মুখোমুখি বাহুবল দেখাবার সাহসটা পুরোপুরি অর্জন করে উঠতে পারেনি। কারন প্রতিপক্ষের নামও তো হিন্দু সংহতি। নাম আর কাজের সঙ্গে ওরা একদম অপরিচিত, তা তো নয়। পুলিশ হিন্দু সংহতির নেতৃত্বকে বলে ঐ চারজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে। একদম কাঠ কাঠ ভাষায় হিন্দু সংহতি জানিয়ে দেয় যে এটা মগের মুলুক নয়। ওরা যেটা চাইবে সেটাই করতে হবে নাকি? আমাদের ছেলেরা কোন অপরাধ করে নি। ফলে পুলিশের হাতে তুলে দেবার প্রশ্নই নেই। রাত্রিবেলা পুলিশ হিন্দু মহল্লায় রেইড করে। ঐ চারজন এবং আরো কয়েকজনের সন্ধানে। যদিও কাউকে পায়নি। সংবাদ পেয়ে আজ সকালে হিন্দু সংহতির হাওড়া জেলা নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে আসে। পূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসে। তাদের নেতৃত্বে পূর্ব গাজীপুর গ্ৰামের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মাঠে নামে। আমতা থানা ঘেরাও করে। দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও চলার পর হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পুলিশ আলোচনায় বসে। পুলিশ মীমাংসার প্রস্তাব রাখে। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে বলা হয়, মীমাংসায় বসতে আপত্তি নেই। কিন্তু ঐ চারজনের নামে অভিযোগ আগে তুলে নিতে হবে। ইতিমধ্যে হিন্দু মহিলাদের গালিগালাজ করা দুই মুসলিম যুবকের সন্ধানে পুলিশ জীপ যায়। একজন পালিয়ে গেলেও আরেকজনকে পুলিশ গ্ৰেপ্তার করে। নিজেদের দাবীতে অনড় হিন্দু মহিলারা এখনো রাস্তায় । হেস্তনেস্ত করে তবেই বাড়ী ফিরবেন। নেতৃত্বে যখন হিন্দু সংহতি থাকে, পরিস্থিতি তখন আর পাঁচটা হিন্দু এলাকার মতো হয় না। হিন্দু সংহতি “বীরভোগ্যা বসুন্ধরা” নীতিতে বিশ্বাসী।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s