কর্মীদের প্রতি হিন্দু সংহতির দায়বদ্ধতা এবং তাঁর পালন 

4হিন্দু সংহতি তার প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই তার কর্মীদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান  সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বেও হিন্দু সংহতি  সেই ধারা বহন করে চলেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার অন্তর্গত ৯নং কুমড়াখালী গ্রামের মিথ্যা খুনের অভিযোগে জেলে থাকা হিন্দু সংহতির ৪ জন কর্মীর পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে হিন্দু সংহতি। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭-এর। ওই বছর দুর্গাষ্টমীর রাতে  খুন হন গ্রামের মুসলিম বাসিন্দা সমীর শেখ এবং তাঁর স্ত্রী। রাতের অন্ধকারে তাদেরকে কে বা কারা গুলি করে খুন করে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনায় এলাকার ১০ জন হিন্দু সংহতির সক্রিয় কর্মীর নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিস খুনের অভিযোগে হিন্দু সংহতির ৪ জন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জন কর্মীর নাম হলো- ১) দেবদাস সাঁফুই, ২)ভোলানাথ সাঁফুই, ৩) পলাশ সরদার এবং ৪) প্রভাস সরদার। এই ৪ জন কর্মী বর্তমানে জেলবন্দি। এই কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করছে হিন্দু সংহতি। দেবদাস সাঁফুই জেলে থাকাকালীন তাঁর ছোট বোনের বিয়ে ঠিক হয় গত ২৯শে এপ্রিল, ২০১৯ তারিখে । কিন্তু পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলে দেবদাস জেলে থাকায় বিয়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়। পাশে দাঁড়ায় হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব দেবদাস সাঁফুই-এর বাড়িতে গিয়ে অর্থ সাহায্য তুলে দেয় তাঁর পিতার হাতে। বিবাহ অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। আর এক গ্রেপ্তার হওয়া কর্মী ভোলানাথ সাঁফুই। দরিদ্র পরিবারে ভোলানাথের পিতা প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। বিবাহিত ভোলানাথের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের শরীরে রক্তাল্পতার জন্যে প্রতিমাসে রক্ত দিতে হয়। হিন্দু সংহতি এই পরিবারের পাশে রয়েছে। ছোট ছেলের রক্ত দেওয়াতে এবং পরিবারটিকে অর্থ সাহায্য করে চলেছে হিন্দু সংহতি। আর এক কর্মী প্রভাস সরদার। বর্তমানে সে জেলে রয়েছে। তাঁর মা গত ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু পুত্র জেলে থাকায় পরলৌকিক কাজকর্মে প্রভাসের থাকা জরুরি ছিল। সেইমতো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে কোর্টে প্রবাসের প্যারোলের আবেদন জানানো হয়। কোর্ট সেই আবেদনে সম্মতি দিলে প্যারোলে মুক্ত হয় প্রভাস। গত ৩, ৪ এবং ৫ই সেপ্টেম্বর প্যারোলে মুক্ত থেকে সে তাঁর মায়ের পরলৌকিক কাজকর্ম সম্পন্ন করে। এইভাবে হিন্দু সংহতি তাঁর প্রতিটি কর্মীর প্রতি দায়বদ্ধ এবং তাদের বিপদে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s