মুর্শিদাবাদ জেলা আগ্নেয়াস্ত্র ওবোমা কারবারিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে

মুর্শিদাবাদ জেলায়  সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা। এমনকী, দিনমজুর ও সব্জি বিক্রেতার বেশে কারবার চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯২টি বোমা উদ্ধার হওয়ায় এমনই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা, লোকসভা ভোটের আগে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা জেলায় জাল বিস্তার করছে। এদের সঙ্গে মুঙ্গেরের অস্ত্র এবং বাংলাদেশের বোমা তৈরির কারিগরদের যোগাযোগ আছে বলেই মনে হচ্ছে। জেলার পুলিস সুপার মুকেশ কুমার অবশ্য বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিস সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বোমা ও অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪শে ডিসেম্বর, সোমবার রাতে মহম্মদ শাহনাওয়াজ ওরফে নাসিম নামে এক অস্ত্র কারাবারিকে গ্রেপ্তার করে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস। নিউ ডাকবাংলো মোড় থেকে ওই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত নাসিম এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। ধৃতের কাছ থেকে চারটি পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই রাতেই বেলডাঙা থানার পুলিস ঝুমকা মোড় থেকে সাকির শেখ নামে এক সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি মিলেছে। মির্জাপুরের নতুন পাড়ায় ধৃতের বাড়ি। গত শনিবার জলঙ্গি থানার পুলিস মাহাতাব কলোনি থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ডগুলি সহ আনিসুর মণ্ডল নামে এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম, একটি সেভেন এমএম, একটি ছয়ঘরা এবং দু’টি পাইপগান মিলেছে। শুক্রবার সকালে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর দক্ষিণপাড়া থেকে আনসার আলি ওরফে হাবল নামে এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আনসার এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। মির্জাপুরে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ডোমকল থানার পুলিস একটি নাইন এমএম পিস্তল সহ সাহারুল ইসলাম নামে আর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর দু’দিন আগে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর থেকে অস্ত্র সহ এক ইটভাটার মালিককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে সেভেন এমএম এবং নাইন এমএম পিস্তল সহ আটটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এর বাইরে রবিবার সূতি থানার ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন সাহাজাদপুর ও চণ্ডীতলা গ্রামে পাঁচটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮২টি বোমা উদ্ধার করে পুলিস। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন দিনমজুর ও একজন সব্জি বিক্রেতা। যার মধ্যে ৬২টি ‘টেপ বোমা’ ছিল। ধৃতদের মধ্যে দু’জন এর আগে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক মজুত আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই রাতেই ভরতপুর থানার গুন্দোরিয়া গ্রামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়ি থেকে ১০টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। এইসব গ্রেপ্তারির ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুর্শিদাবাদ জেলায় রমরমিয়ে চলছে বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার, যা নিয়ন্ত্রণ করাই পুলিসের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s