রোহিঙ্গা মুসলিম ও ভারতের নিরাপত্তা

শ্রী রজত রায়

যে কোন এলাকা যদি প্রাকৃতিক বিপ‍র্যয় বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে আক্রান্ত হয় বা সেখানকার মানুষ যদি স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতিবেশী এলাকার বাসিন্দাদের রোষের কারনে এলাকা থেকে উৎখাত হয়, তবে তারা পাশের বা সামান্য  কিছুটা দূর এলাকায় আশ্রয় নেয়। যদি আলিপুরদুয়ারের কোন এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে তবে তারা জলপাইগুড়ি না হলে খুব বেশী হলে মালদায় আশ্রয় নেবার চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি তারা হুগলি বা বর্ধমানে চলে আসে তবে ব্যাপারটা একটু অস্বাভাবিক।তবে বুঝতে হবে ওখানে ওদের আশ্রয়দাতা কেউ আছে অথবা অন্য কোন সন্দেহজনক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। মায়ানমার বা বার্মা ভারতের উত্তর পূর্ব সীমান্তে। ওদের লাগোয়া ভারতের রাজ্য আসাম।অথচ ওখান থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানরা আসাম,তারপর পশ্চিম বাংলা, তারপর বিহার, তারপর উত্তরপ্রদেশ, এমনকি পাঞ্জাব অতিক্রম করে , পাচটি রাজ্য, ২৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে গিয়ে কিভাবে উঠলো? ওদের আশ্রয়দাতা কারা? মূল উদ্দেশ্য কি? ভারতে সবচাইতে বেশী রোহিঙ্গা আছে জম্মুতে। রোহিঙ্গাদের মূল শিকড় বর্তমান বাংলাদেশে। কাশ্মীরের সঙ্গে ওদের ভাষাগত , সংস্কৃতিগত,খাদ্যাভ্যাসগত কোন মিল নেই। অথচ ২০১২ থেকে, রাখাইন প্রদেশের বুদ্ধিষ্টদের এবং প্রশাসনের আক্রোশের(যেটা শুরু হয়েছিলো রোহিঙ্গাদের দ্বারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী এক মহিলার গনধর্ষন এবং হত্যার পর থেকে)কারনে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গারা জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে গিয়ে আস্তানা গাড়লো। ওদের মধ্যে অনেকের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড হয়ে গেলো। এটা জম্মুর হিন্দুদের উপর ভবিষ্যত আক্রমনের পরিকল্পনার অঙ্গ নয়তো?
            বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ওদের ভারতে আশ্রয় দিতে রাজী নয়।স্বরাষ্ট্র দফতরের মতে ওরা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক।তার বিরুদ্ধে কপিল সিব্বাল, প্রশান্তভূষন, কলিন গঞ্জালভেসদের কোর্টৈ সওয়াল, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিবাদ।মুসলিম নেতা এবং সাংসদ  আসাউদ্দিন ওয়াইশির বক্তব্য,ভারতবাসী যদি তসলিমা নাসরিনকে বোন বলে গ্ৰহন করতে পারে  তবে রোহিঙ্গাদের ভাই বলে কেন গ্ৰহন করবে না? বুঝুন, তুলনার নমুনা এবং ধৃষ্টতা! কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের নেতা এবং কিছু রোহিঙ্গা সমর্থক রাজনীতিবিদ ও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ভারতীয় ধারার পরিপন্থী। বসুধৈব কুটুম্বকম্, অতিথিদেবো ভব, আমাদের দেশের সংস্কৃতি। যাক্, যারা ভারতের সংস্কৃতির মধ্যে ভালো কিছুই দেখে না, তারা অন্তত রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বার্থে ভারতীয় ধারার প্রশংসা তো করেছে।অথচ নারকীয় অত্যাচারের মুখে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া হিন্দুদের সময় এই মানবতাবাদীরা কোথায় থাকে?
         রোহিঙ্গা মুসলমানরা কেমন নিরীহ প্রকৃতির তার একটা উদাহরন দেখুন। The Gurdian, Amnesty International News, B B C news এর রিপোর্ট অনুযায়ী গতবছরের ২৬ আগস্ট রোহিঙ্গাদের একটা উগ্ৰপন্থী সংগঠন ARSA(Arakan Rohingya Salvation Army) রাখাইন প্রদেশের উত্তর সীমান্তে Maung daw শহরের লাগোয়া Ab Naik Kha Maung Sei এবং Ye Baik Khan গ্ৰামে হিন্দুদের উপর ছুরি, তরোয়াল, গাইতি, লোহার রড নিয়ে প্রানঘাতি হামলা চালায়। তাদেরকে হিন্দু থেকে মুসলিম  হতে বলে ।যারা স্বীকৃত হয়েছিলো তাদের প্রানভিক্ষা দেওয়া হয়। ইসলাম কবুল করতে অস্বীকৃত হওয়া পরিবারগুলিকে কুপিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়।মোট ৯৯ জন হিন্দুকে নারকীয় বর্বরতায় হত্যা করা হয়।যার মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সের ৮ টি বাচ্চা ছিলো। কয়েক ডজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ইসলাম কবুল করে,  ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া ঐ হতভাগ্য পরিবারগুলির জীবিত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর, এবং চারটি গনকবরের মৃতদেহগুলির ছবির ফরেনসিক প্যাথোলজিস্টদের বিশ্লেষনের পর Amnesty International ঐ হত্যাকান্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। একটি ১৮ বছরের মেয়ে সাক্ষ‍্য দেয় যে তার বাবা, কাকা, ভাইকে একসঙ্গে খুন করা হয়েছিলো।এই রোহিঙ্গাদের  আশ্রয় দেবার জন্যে কংগ্ৰেস, আম আদমি পার্টি, তৃনমূল কংগ্ৰেস, বামপন্থীদের কি ব্যাকুলতা! যদি এরা কেন্দ্রে সরকার তৈরী করতে পারে , তবে ভারতবর্ষে উগ্ৰপন্থীদের একটা নতুন ফ্রন্ট খোলার রাস্তা পরিষ্কার হবে।দেশ গোল্লায় যাক। মুসলিম ভোট পক্ষে আসলেই হলো।  ভি পি মেনন বলেছিলেন, No nation can afford to be said generous at the cost of its own integrity. কোন জাতি তার অখন্ডতার বিনিময়ে উদার হতে পারে না। আমাদের দেশের রোহিঙ্গাপ্রেমিরা দেশের নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে উদার, না উদার নয়,ভোটের লোভে উদারতার নাটক মঞ্চস্থ করছেন।  অথচ ১৯৮৯ এর শেষদিক থেকে ১৯৯০ এর প্রথমদিক পর্যন্ত প্রায় ১৫৬০০০ কাশ্মীরি পন্ডিতকে আমানুল্লার নেতৃত্বাধীন জে কে এল এফ(জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট)  কাশ্মীর উপত্যকা থেকে উৎখাত করেছে। খুন, ধর্ষন,লুন্ঠনের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া ঐ মানুষগুলো আজো নিজভূমে পরবাসী হয়ে ভিখিরির জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলার দরজা খোলা , এই আমন্ত্রন জানানো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কোনদিন কি একজন কাশ্মীরি হিন্দু পন্ডিতকে নিজের রাজ্যে থাকার আমন্ত্রন করেছেন? রোহিঙ্গা মুসলমানদের ক্ষেত্রে এত মানবিক মমতা ব্যানার্জী, কপিল সিব্বাল, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা কাশ্মীরি পন্ডিতদের ক্ষেত্রে এত অমানবিক কেন? ওরা মুসলমান আর এরা হিন্দু বলে? এই প্রশ্নই বর্তমানে হিন্দুদের ভাবার সময় এসেছে। (সমাপ্ত)
(বিঃ দ্রঃ- মতামত লেখকের ব্যক্তিগত। )

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s