নিত্য-নতুন পদ্ধতিতে গরু পাচার, ধরতে আসছে সিবিআই

যে লোকের নাম মহম্মদ ইমানুল হক , তার ব্যবসায়িক নাম যে বিশু শেখ , তিনিই আবার পরিচিত খুদে নামে , সেটা আর কী করে জানবেন সিবিআই অফিসারেরা! গত সপ্তাহে গরু পাচারের অভিযোগে ইমানুলকে গ্রেপ্তারের  পরে এ রাজ্যের বাকি পাচারকারীদের গ্রেফতার করতে এবার কোমর বেঁধে নামছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ এই তদন্তের জন্য বিশেষ দল তৈরি করে কাজ শুরু করছেন তাঁরা৷ সিবিআই কর্তাদের ধারণা, শুধু গরু পাচারই নয় – বাঁকুড়া, বীরভূম, আসানসোলের মতো এলাকায় কয়লা এবং বালি কারবারের একটা মোটা অংশ যাচ্ছে শাসকদলের নেতাদের কাছে৷ সূত্রের খবর, এই গরু পাচারের তদন্তে নেমে মুর্শিদাবাদ জেলার শাসকদলের এক যুবনেতার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট মহকুমার এক নেতার নাম জানা গিয়েছে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, এই গরু পাচারের মোটা টাকার অংশ বড়মাপের কিছু নেতার কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে৷ গতকাল ১৩ই মার্চ, মঙ্গলবার এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ‘এত দিন এই পাচারের ঘটনা ঘটছে অথচ জেলা পুলিশ কিছু জানে না, সেটা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমাদের কাছে খবর, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের কিছু জায়গায় অদ্ভুত কিছু মোবাইল ফোনের রিংটোন সেট করে রাখা হয়৷ যেমন পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে গরু বর্ডারের কাছাকাছি আনতে পারলে শাঁখ বাজানোর মতো আওয়াজ করা হয় মোবাইল দিয়ে৷ যাতে জনবহুল এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময় রাতের অন্ধকারে নির্বিঘ্নে পেরিয়ে যাওয়া যায়৷ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় পুলিশের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজও৷ ’ এক তদন্তকারীর বক্তব্য, বিভিন্ন এলাকায় যারা পাচারকারী, তারা ডামি নাম ব্যবহার করে এই ‘লাইন ’ খোলে৷ বিশু নিজের ক্ষেত্রেও তাই নিজের নাম ব্যবহার না করায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল খোদ সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের৷ ফলে তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে আসল লোককে চিহ্নিত করতেই কেটে যায় তিন মাস৷ সূত্রের খবর, এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে পুলিশের এই পাচার থামানোর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না৷ উদাহরণ হিসেবে তাঁরা সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি রিপোর্ট, যেখানে বলা হয়েছে দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া থানা এলাকায় উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে গরু পাচার বন্ধ করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ সেখানে থানার কাছে বাজেয়াপ্ত  করা গরুদের রাখার জন্য যে খোঁয়াড় চড়া দামে লিজ দেওয়া হয়েছে, তার খরচ পর্যন্ত তুলতে পারছেন না লিজ নেওয়া ব্যবসায়ী৷ গত ডিসেম্বরে সিবিআই আলাপ্পুজা স্টেশন থেকে বিএসএফের কাম্যান্ড্যান্ট জিবু ম্যাথুকে গ্রেপ্তার  করে নতুন পাঁচশো এবং দু’হাজার টাকার নোটের ৪৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে৷ তাঁকে গ্রেফতার করার পরে জানা যায় বিশু শেখের নাম৷ সিবিআই তাঁকে জেরা করে জানতে পারে, শুধু বিএসএফ বা জেলা পুলিশই নয় , শাসকদলের বেশ কিছু জেলাস্তরের নেতাকেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এই কারবার চলে৷

সিবিআই জানতে পেরেছে, ধৃত ইমানুল আগে নোটবদলের কাজ করত৷ তার পরে গরু পাচারে হাত পাকায়৷ বিশু শেখ নাম দিয়ে পুরো লাইনটি কিনে নেয়৷ এই ব্যবসা করতে গিয়ে তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়ে যায়৷ গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে কলকাতায় ফাইভ ষ্টার হোটেলে উঠলে সেখান থেকে ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত এই গরু পাচারকারীকে গ্রেফতার  করেন গোয়েন্দারা৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s