বীরভূমের পর মালদহ – বিয়ের ১মাস পর বিবিকে তালাক, থানায় অভিযোগ দায়ের

রাজ্যে আবার তিন তালাক৷ বীরভূমের পর মালদহে৷ স্বামী তিন তালাক দেওয়ায় ইংরেজবাজার থানায় গতকাল ১০ই মার্চ, শনিবার অভিযোগ দায়ের করলেন এক তরুণী৷ বিয়ের এক মাসের মাথায় তিন তালাক শুনতে হয়েছে তাঁকে৷ তার পরেও তিনি স্বামীর ঘর করতে চেয়ে চেষ্টা করেছেন প্রায় সাত মাস৷ কখনও শ্বশুরবাড়ির মতি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন৷ কখনও সমাজের মধ্যস্থতায় জট কাটানোর চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু  কোনও সুফল মেলেনি৷ শেষ পর্যন্ত শনিবার আফসানা অভিযোগ দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম ঢুকে গেল প্রতিবাদী মুসলিম মহিলা ইশরত জাহান , আফরিন রহমান , সায়রা বানো , গুলশন পারভিন, আতিয়া সাবরিদের তালিকায়৷ যদিও আফসানা সুবিচার পাবেন কি না , তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে আইনজীবী মহলের বক্তব্যে৷

মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি’। আফসানার পাশে দাঁড়াচ্ছেন নারীবাদী মহিলারা৷ কলেজ শিক্ষিকা তথা নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আইরিন সবনম বলেন , ‘আফসানা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন৷ অনেক মেয়েই এভাবে ভুগছেন৷ কিন্তু  সাহস করে তাঁরা প্রতিবাদের পথে হাঁটেন না৷ বলার জায়গাও এতদিন ছিল না৷ সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক বন্ধের রায় দেওয়ার পর অন্তত আমাদের বলার জায়গা হয়েছে৷ আমরা আফসানার পাশে আছি’৷ ইংরেজবাজারের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ইমাম কৌশার আলি আদালত প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন , ‘শরিয়তের বিধান অনুযায়ীও একবারে তিন তালাক দেওয়া যায় না৷ আফসানা যার নামে অভিযোগ করছেন , সে তালাক দিয়ে থাকলেও আফসানা আরও দু’বার সুযোগ পাবেন৷ ’আইনজীবী মহল কিন্তু  আশার কথা শোনাতে পারেনি৷ মালদহের বিশিষ্ট আইনজীবী বিপুল দত্ত বলেন , ‘প্রথমত , তিন তালাকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও এখনও নির্দিষ্ট কোনও আইন হয়নি ওই প্রথা রদে৷ ফলে এই ধরনের অভিযোগেও বধূ নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ ও ৪২০ ধারার মতো আইনে মামলা হয়৷ আর এই ঘটনাটি যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার আগে , তাই তরুণীটি তার সুবিধা পাবেন কি না , তা নিশ্চিত নয়৷ কেননা , সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় কবে থেকে কার্যকর হবে , তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়৷ ’ প্রায় একই অভিমত আফসানার আইনজীবী সুদীন্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের৷ তবে আফসানা এখন অনড়৷

ইংরেজবাজার থানার সাট্টারির বাসিন্দা আফসানার বক্তব্য , ‘আমি ওঁকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম৷ ওঁর সঙ্গেই ঘর করতে চাই৷ কিন্তু  ও যে মানসিকতা দেখাচ্ছে , তাতে বুঝতে পারছি , ওর সঙ্গে থাকা আর সম্ভব হবে না৷ তাই এ বার আমিও দেখাতে চাই , এভাবে একটি মেয়েকে দূর করে দেওয়া যায় না৷ আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব৷ ’ তালাক দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে আফসানার স্বামী ওয়েদুল৷ কিন্তু  তালাক কেন ? প্রশ্ন করতেই ‘ব্যস্ত আছি ’ বলে ফোন কেটে দেয় ওয়েদুল৷ একই গ্রামে ওয়েদুল ও আফসানার বাড়ি৷ সেই সূত্রে তাঁদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা৷ আফসানা বলেন , ‘ও আমাকে অনেক স্বপ্ন দেখাত৷ তাড়াতাড়ি বিয়ে করার জন্য চাপ দিত৷ কিন্তু  আমি মাধ্যমিকের আগে বিয়ে করতে চাইনি৷ তাছাড়া তখন আমার বয়স ১৮ হয়নি৷ ’শেষ পর্যন্ত মাধ্যমিক শেষ হতেই ২০১৭ -এর ৬ জুলাই ওয়েদুলের সঙ্গে আফসানার বিয়ে হয়৷ ভালোবাসার বিয়ে হলেও আফসানার পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা নগদ ও ৫ ভরি সোনা যৌতুক দিতে হয়েছিল৷ আফসানার অভিযোগ৷ এর পরেও পণের দাবিতে চলতে থাকে অত্যাচার৷ বিয়ের এক মাসের মাথায় ৭ অগস্ট আফসানাকে তিন তালাক শোনায় ওয়েদুল৷ অভিযোগ দায়ের করতে এত দেরি হল কেন ? আফসানার বাবা নূর কালাম মোমিন বলেন , ‘প্রথমে ভেবেছিলাম , ওদের বয়স কম৷ মাথা গরম করে এ সব করে ফেলেছে৷ আমি তাই নিজে জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলি৷ কিন্ত্ত ও একরোখা৷ দাবি মতো টাকা দিতে পারিনি৷ তাই তালাকের অন্যথা হবে না বলে জানিয়ে দেয় জামাই৷ তাই থানায় আসতে হল৷ ’বেআইনি হলেও পণ না -পেয়ে তালাক , সুবিচার নিয়ে সংশয়প্রতিবাদে অনড় আফসানা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s