আইনি সহায়তা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিন্দু মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণ মুসলিম কনস্টেবলের

আইনি সহায়তা দেওয়ার অজুহাতে এক মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর থানার এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে৷ অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম শেখ মোসারফ৷ এলাকায় মুসা নামে পরিচিত৷ তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বনগাঁয়। অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত মুসাকে রাতারাতি রামনগর থেকে সরিয়ে তমলুক থানাতে বদলি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার শ্বশুরবাড়ি রামনগর থানার পালধুইয়ে৷ তাঁর স্বামীর দু’টো বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় না হওয়ায় বালিসাইয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামীর সঙ্গে উঠেছিলেন ওই মহিলা৷ বছরদেড়েক আগে অশান্তি শুরু হলে তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যায় তাঁর স্বামী৷ মহিলার দাবি, ওই মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে রামনগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিচয় হয় মুসার সঙ্গে। সেই থেকে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্কে জোড়া লাগানোর কথা বলে মহিলার বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে কনস্টেবল মুসা৷ নির্যাতিতার অভিযোগ, অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় মুসা৷ বিয়েরও প্রস্তাব দেয় তাঁকে৷ প্রথমে রাজি না হলেও নিজের অসহায়তার কথা ভেবে সে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়৷ শুরু হয় অবাধ মেলামেশা৷ দিঘা থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন হোটেলেও মহিলাকে নিয়ে যায় সে৷ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাতও করানো হয়৷ মহিলার দাবি, মাস তিনেক আগে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বেঁকে বসে অভিযুক্ত মুসা৷ নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করে সে৷ প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে থানা যেতে চাইলে মুসা খুনের হুমকি দেয় বলে নির্যাতিতার দাবি৷ সেই থেকেই মহিলা আতঙ্কে ছিলেন৷ সম্প্রতি হুমকি বাড়তে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারী ডাকযোগে অভিযোগ পাঠান জেলার পুলিশ কর্তাদের৷ মহিলার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্ত মুসাই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল৷ আর সেই সুযোগ নিয়েই তাঁর স্ত্রীকে সে ধর্ষণ করেছে৷ হাতে পেলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি অভিযুক্ত কনস্টেবল শেখ মোসারফ ওরফে মুসাকে৷ উল্টে অভিযুক্তকে রাতারাতি অন্য থানায় বদলি করে দিয়েছেন রামনগর থানার ওসি৷’’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘আমি মহিলার অভিযোগ পেয়েই রামনর থানাকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি৷ আর বদলির ব্যাপার আমার অজানা৷ সম্প্রতি বদলির নোটিশও জারি হয়নি৷ আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি৷’’ রামনগর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এটা রুটিন বদলি৷ অনেক আগেই মুসার বদলির নির্দেশ এসেছিল৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s