মালদহে জালনোট পাচারের মাথাকে গ্রেপ্তার করলো এনআইএ গোয়েন্দারা

প্রশান্ত মণ্ডল নামের জালনোট পাচারের এক বড় চাঁইকে এনআইএ গোয়েন্দারা মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।বৈষ্ণবনগরের জৈনপুর সুকপাড়ার বাসিন্দা ওই চাঁইকে ধরিয়ে দিলে ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার মূল্য এনআইএ ঘোষণা করেছিল। ২০১৫ সালে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে জালনোট পাচারের একটি ঘটনায় ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই) ওড়িশার এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে। তখনই প্রশান্তর নাম প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় থেকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও ওই চাঁইয়ের খোঁজ মেলেনি। অবশেষে সোমবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এনআইএ গোয়েন্দারা প্রশান্ত মণ্ডলকে মালদহ থেকে ধরে কলকাতায় নিয়ে চলে যায়। এনিয়ে এআইএ কর্তৃপক্ষ রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

তবে এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে রাঁচি জেল থেকে এই জালনোট পাচারচক্রের সংগঠিত হওয়া শুরু হয়েছিল। বৈষ্ণবনগরেরই বাসিন্দা নিষ্ফল মণ্ডল ছিল এই চক্রের মাথা। ২০১৬ সালে এনআইএ-এর হাতে নিষ্ফল মণ্ডল ধরা পড়ে যায়। তারপর থেকেই জালনোটের মডিউলগুলিকে নতুন করে গড়া হয়। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রশান্ত মণ্ডলকে সেই রকমই একটি মডিউলের মাথায় বসানো হয়েছিল। যে কারণেই এনআইএ এই প্রশান্ত মণ্ডলকে ধরার জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন এনআইএ-এর চোখে ধুলো দিয়ে অবশেষে সোমবার রাতে প্রশান্ত ধরা পড়ে।

২০১৫ সালের মে মাসে ধুলিয়ানের ডাকবাংলো থেকে ডিআরআই ১০ লক্ষ টাকার জালনোট সহ সুশান্ত সাহুকে গ্রেপ্তার করে। ওড়িশার কান্তাবানিয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এলাকায় জালনোট ছড়ানোর কাজ করতো। ডিআরআইয়ের বহরমপুর রিজিয়নের তদানীন্তন কর্তা কে কে হালদার এনিয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলা এনআইএ নিয়ে নেয় এবং ২০১৬ সালে দিল্লিতে মামলা রুজু হয়। ওই ঘটনায় দু’জন বাংলাদেশীসহ ১১ জনকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একদফা চার্জশিট পেশ হয়েছে। এনআইএ গোয়েন্দারা তদন্তে নেমে জানতে পারে ২০০৫ সালে রাঁচির জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় নিষ্ফল মণ্ডল নামের এক মালদহবাসীর উদ্যোগে জালনোট পাচার চক্র তৈরি হয়। নিষ্ফল আগে থেকেই জালনোট পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলত। জেল থেকে বের হওয়ার পরেই নিষ্ফল মণ্ডলের নেতৃত্বে বিহার-ওড়িশা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জালনোট পাচারের কাজ শুরু হয়ে যায়। এনআইএ-এর তথ্য অনুসারে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকা ছড়ানো হয়েছিল। এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পরেই ২০১৬ সালে নিষ্ফল মণ্ডলের জন্য পুরস্কার মূল্য ঘোষণা করে। ওই বছরেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালদহ থেকে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তারপরেই নিষ্ফলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রশান্ত মণ্ডল জালনোট পাচার চক্রের মাথা হয়ে বসে। সম্প্রতি নতুন ২০০০ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট মালদহে প্রচুর পরিমাণে মজুত হওয়ার পেছনে এই প্রশান্ত মডিউলেরই হাত আছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছে। গত সপ্তাহেই বৈষ্ণবনগরে প্রশান্তর খোঁজে এনআইএ অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ধূর্ত এই চাঁইকে তারা ধরতে পারেনি। সোমবার রাতে ফের গোপন অভিযান চালিয়ে এনআইএ সাফল্য পায়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s