কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী ইসলামিক স্টেট জঙ্গি জাহিদ

মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে বাংলাদেশী এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জাহিদ নামের ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গত ৪ঠা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার রাতে ধরা হয়। সে বাংলাদেশের আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে সে সম্প্রতি বিদেশে পালানোর ছক কষছিল বলে জেনেছেন উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসাররা। এ রাজ্যে বসেই সে জেহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য সামগ্রী।

কয়েকমাস আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) এক সদস্য। তাকে জেরা করে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিরা ডেরা বাঁধছে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে। সেখানকার বিভিন্ন খারিজি মাদ্রাসায় জেহাদিদের প্রশিক্ষণ পর্ব চলছে। শুধু তাই নয়, এখানে এসে থাকছে নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক জঙ্গি। তাদের পাসপোর্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে এখানেই। ধৃত জঙ্গি জেরায় জানায়, সে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই জেহাদিরা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ জেরা করার পর ওই এবিটি সদস্য তদন্তকারী আধিকারিকদের জানায়, জাহিদ নামের এবিটির এক সদস্য কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে এ রাজ্যে এসেছে ওই জঙ্গি। তাকে সে জাল পাসপোর্ট করে দিয়েছে। কলকাতায় বসেই সংগঠনের কাজকর্ম দেখভাল করে জাহিদ। তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বিদেশে পালিয়ে থাকা এবিটির একাধিক সদস্যের। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম তার সম্বন্ধে খোঁজখবর করতে শুরু করে। জানা যায়, জাহিদ বাংলাদেশী। তার বিরুদ্ধে সেদেশে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এবিটির হয়ে কাজ করার পাশাপাশি সে আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের হয়েও কাজ করছে। এ রাজ্য থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের সুবিধা থাকাতেই সে এখানে ডেরা বেঁধেছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই সে সীমান্তের ওপারে গিয়েছে বলে খবর। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম বৃহস্পতিবার কলকাতায় হাজির হয়। জোড়াসাঁকো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদকে। শুক্রবার তাকে ব্যঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘন সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর জাহিদকে জেরা করে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারছেন, তার হাত ধরে উত্তরপ্রদেশ থেকে একাধিক জেহাদি কলকাতায় এসেছে। তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে সে। যারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে জেহাদি কাজকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত সীমান্ত এলাকাকেই বেছে নিয়েছে তারা। জাহিদ পুলিশকে জানিয়েছে, কলকাতায় থাকলেও সে সীমান্তের ওপারের জেহাদিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ওপার বাংলার জঙ্গিদের সীমান্ত পার করে নিয়ে আসার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নতুন জেহাদি নিয়োগের দায়িত্ব সে সম্প্রতি পেয়েছিল। সেজন্য সে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে জেহদি ভাবধারা প্রচার করে বেড়াচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এখান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক বাংলাদেশর জেহাদিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলেও খবর। তবে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে তার কাছে নির্দেশ আসে সৌদি আরবে চলে যাওয়ার। সেখানে সংগঠনের তহবিল দেখার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়, সৌদিতে কিছুদিন সংগঠনের কাজকর্ম করবে। পরে তাকে আবার ভারতে নিয়ে আসা হবে। সেই কারণেই তার ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় ধরা পড়া অন্য এক জঙ্গি। তা নিয়েই সে সৌদিতে যাবে বলে ঠিক করে ফেলে। এজন্য সমস্ত কিছুর ব্যবস্থাও হয়ে গিয়েছিল। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তার পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের কোন কোন নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s