রাজ্যে সংখ্যালঘুর মন জয়ে সক্রিয় বিজেপি

সামনেই পঞ্চায়েত ভোট৷ সেই লক্ষ্যে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয়ে আদা জল খেয়ে নামছে বিজেপি৷ আগামী ১১ জানুয়ারি কলকাতার ধর্মতলায় মুসলিমদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করছে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা৷ তাতে বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল রশিদ আনসারি ছাড়াও দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের মতো নেতারা হাজির থাকবেন৷ সেই মঞ্চ থেকে সংখ্যালঘু উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদী সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হবে৷ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির তুলনায় এ রাজ্যের মুসলিমদের অবস্থা যে খুব একটা সুখকর নয়, সেই বার্তা ছড়িয়ে দেবেন বিজেপি নেতারা৷ বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেনের দাবি, ‘‘ধর্মতলার সমাবেশে রাজ্যের সমস্ত জেলা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দেবেন৷ বিরোধীদের অপপ্রচারের কারণে বিজেপি সম্পর্কে অনেক সংখ্যালঘুর মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়৷ সেটা আসতে আসতে কাটতে শুরু করেছে৷ রাজ্যের মুসলিমরা যে আর বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে বসে নেই তার প্রমাণ ধর্মতলার সমাবেশ থেকেই রাজ্যবাসী জানতে পারবেন৷’’ গুজরাট ও হিমাচলপ্রদেশে সরকার গঠনের পর বিজেপির পরবর্তী নিশানা পশ্চিমবঙ্গ৷ সেই মতো রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে সংগঠন বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহরা৷ সেই লক্ষ্য পূরণের কয়েক মাসেই রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দলের মতো শাখা সংগঠনগুলিও ক্রমশঃ রাজ্যে জাল বিস্তার করছে৷ আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের দিকে বাড়তি নজর দেবেন তাঁরা৷ কিন্তু এত কাঠখড় পুড়িয়েও বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপির সামনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট৷ এ রাজ্যে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ -৩১ % মুসলিম৷ ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৭ % মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত৷

উত্তর দিনাজপুর (৪৯ .৯২ %), মালদহ (৫১ .২৭ %) এবং মুর্শিদাবাদ (৬৬.২৮ %) — এই তিনটি জেলায় মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসা কোনও দিনই সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অমিত শাহরা৷

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য এখন থেকে জেলায় জেলায় নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি নেবে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা৷

আরএসএসের যে শাখা সংগঠন মুসলিমদের নিয়ে কাজ করে, তারাও আলাদা ভাবে ময়দানে নামছে৷ মুসলিমদের মধ্যে বিজেপি-ভীতি কাটাতে সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবীদের বেশি করে দলে টানার চেষ্টা করা হবে৷ তৃণমূল সহ বিভিন্ন দলে যে মুসলিম নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ-অভিমান রয়েছে, তাঁদের সুকৌশলে দলে টেনে আনতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব৷

রাজ্য বিজেপি’র এক শীর্ষ নেতা জানান, বহু মুসলিম নেতার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে৷ রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে যত বেশি সম্ভব মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি৷ বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতেও গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে আরও বেশি করে মুসলিম প্রার্থী খাড়া করতে চাইছে বিজেপি৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s