সার্ভে পার্কের চুরির কিনারা করলো কলকাতা পুলিশ, গ্রেপ্তার বাংলাদেশিসহ দশ জন

সপ্তাহখানেক আগের ঘটনা। বড়সড় চুরি হয়ে গেল সন্তোষপুরের বাসিন্দা অনসূয়া দাসের বাড়িতে।  রাতে বাড়িতে কেউ ছিলেন না। পরের দিন সকালে অভিযোগকারিণী বাড়ি ফিরলেন এবং দেখলেন, প্রতিটি ঘর তছনছ, অনেক জিনিসপত্র উধাও।

গয়নাগাটি এবং অন্যান্য সামগ্রী চুরি গেছে বেশ কিছু।  দুটি সোনার এবং একটি হিরের আংটি, একটি বালা, একটি পেনডেন্ট, এক জোড়া কানের দুল, পনেরটি হাতঘড়ি, একটি স্যামসাঙ টিভি, নগদ কয়েক হাজার টাকা।  সব মিলিয়ে প্রায় লাখদুয়েক টাকার জিনিসপত্র লোপাট।  অভিযোগ দায়ের হল সার্ভে পার্ক থানায়, শুরু হল তদন্ত।

সূত্র এল আচমকাই, দিনদুয়েকের মধ্যেই।  কনস্টেবল বিশ্বজিত দে দুপুরবেলা টহলদারি চালাচ্ছিলেন সন্তোষপুরের থার্ড রোডে।  দুই যুবককে দেখলেন কাঁধে বস্তা নিয়ে ঘুরতে, কাগজ-টাগজ কুড়োচ্ছে, কিন্তু হাবভাব সন্দেহজনক।  এ বাড়ি সে বাড়ির আশেপাশে ঘুরছে, জরিপ করছে এলাকা।  সন্দেহ হল বিশ্বজিতের, খুচরো জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ আরো বাড়ল।  কাঁধের বস্তাতে বিশেষ কিছু নেই।  ঠিকানাও নির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না, আমতা আমতা করছে।  পাকড়াও করে দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হল থানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরলো।  এদের নাম মহম্মদ রেহান এবং মহম্মদ রাসেল।  বাংলাদেশি নাগরিক।  বছর দেড়েক আগে ভারতে অনুপ্রবেশ আরো কয়েকজনের সঙ্গে।  বনগাঁ থেকে বারাসত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় চুরির সক্রিয় গ্যাং গড়ে তুলেছিল স্থানীয় কয়েকজন চোরের সাহায্যে।  ইদানীং কলকাতার দক্ষিণ শহরতলীতে কাজের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল এবং অনসূয়া দেবীর বাড়িতে চুরি এদেরই কীর্তি।  জেরায় জানা গেল, দলের মাথা অবশ্য অন্য একজন, যার অঙ্গুলিহেলনে চলত কর্মকাণ্ড, যিনি ঠিক করতেন কোন এলাকায় কবে কখন ‘কাজে’ নামতে হবে।

কে? এক মধ্যবয়সী মহিলা! নাজিমা বিবি। নারকেলডাঙা থানার কাছেই বহু বছরের পুরনো একটা দোকান চালান নাজিমা। পুরনো কাগজ, মালপত্তর ইত্যাদি কেনাবেচার দোকান। এলাকায় বেশ দাপট রয়েছে মহিলার। বাংলাদেশি যুবকদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করে তাদের নিয়ে চুরির গ্যাং তৈরি করেছিলেন বছর দেড়েক হল। স্থানীয় দুষ্কৃতীরাও ছিল দলে। রেহান আর রাসেল কবুল করল সব।  নাজিমার কাছে চুরি করা সামগ্রী অল্প দামে বিক্রি করা, সঙ্গীসাথীদের নামধাম, গোপন ডেরা………সব।

বাকি কাজটা সম্পন্ন হল দিনচারেক আগে। নারকেলডাঙা থানার বিভিন্ন অঞ্চলে হানা দিয়ে গ্রেফতার হল আরো সাত। ইমতিয়াজ শেখ, মহম্মদ আলামিন, ধনি শেখ, মহম্মদ ইরসাদ, মহম্মদ মিজানুল, মহম্মদ সামিম শেখ, আলামিন মোল্লা। বিপদ আন্দাজ করে গা ঢাকা দিতে চেষ্টা করেছিলেন নাজিমা, পারেননি। ধরা পড়লেন বাঘা যতীন স্টেশনের কাছ থেকে।অভিযুক্ত দশজনের মধ্যে নাজিমা সহ তিনজন এ দেশের, বাকিরা ওপার বাংলার। সকলেই আপাতত পুলিশি হেফাজতে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s