বাংলাদেশিদের আধার কার্ড তৈরির চক্রের মাথা গ্রেপ্তার বাদুড়িয়ায়

ভারতীয় নাগরিকের নামে আসল আধার কার্ড তৈরির জন্য সীমান্তবর্তী গ্রামে ‘বাবা’ ভাড়া করছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। নকল ‘বাবা’ সহ এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে সপ্তাহখানেক আগেই এই চক্রের হদিশ পেয়েছিল বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। এবার ধৃতদের জেরা করে এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গত ১৭ডিসেম্বর, রবিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মোহন মোল্লা। আধার কার্ড তৈরির জন্য সে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এজেন্সি চালাত। সেই সুযোগেই সে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই অবস্থায় তার হাত দিয়ে কতজন বাংলাদেশি ‘বাবা’ ভাড়া করে এ দেশের নাগরিক হিসাবে আসল আধার কার্ড তৈরি করে ফেলেছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা। কারণ, অনুপ্রবেশকারী সেজে জঙ্গি সদস্যরাও ভারতীয় নাগরিকের নামে আসল আধার কার্ড তৈরি করে থাকতে পারে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাতে বাদুড়িয়ার কাঁকড়াসূতি এলাকা থেকে পুলিশ নায়াদ আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক এবং নুরুদ্দিন মোল্লা নামে বাদুড়িয়ার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছিল, নায়াদ পাসপোর্ট নিয়ে এ দেশে ঢুকেছিল। নুরুদ্দিনকে ‘বাবা’ ভাড়া করে সে আসল আধার কার্ড তৈরি করেছে। তার আধার কার্ড সহ বেশকিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি নায়াদের কাছ থেকে ৫৬০০ টাকার ভারতীয় জালনোটও উদ্ধার হয়। সে জালনোট কারবারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল বলে জানতে পারে পুলিশ।

ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নায়াদ ধৃত মোহন মোল্লার কাছ থেকেই আসল আধার কার্ড তৈরি করেছিল। মোহনের বাড়ি হাড়োয়ার মাদারতলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু আধার কার্ড তৈরির জন্য মোহনের সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এজেন্সি রয়েছে, তাই মোটা টাকা কামানোর জন্য এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়েই সে নায়াদকে আসল আধার কার্ড তৈরি করে দিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলের সিমকার্ড থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখন সবেতেই আসল আধার কার্ড লাগছে। কারণ, সেখানে আঙুল ছুঁইয়ে বায়োমেট্রিক ছাপ দিতে হচ্ছে। তাই নকল আধার কার্ড দিয়ে তা সম্ভব নয় বলেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এখন আসল আধার কার্ড তৈরির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই সীমান্তে ‘বাবা’ ভাড়া নেওয়ার কৌশল বেড়েছে।

এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি জঙ্গি সদস্যরা এভাবে আসল আধার কার্ড তৈরি করে নিলে তা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। কারণ, তাকে চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই এই আন্তর্জাতিক চক্রটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী, এই চক্রের পিছনে আরও কোনও বড় মাথা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, চক্রের সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s