রাজনৈতিক ইসলাম – একটি সর্বগ্রাসী মতবাদ (পর্ব – ২)

ড: বিল ওয়ার্নার

অনুবাদ : অমিত মালী।

গতকালের পর :-
সবশেষে রাজনৈতিক ইসলাম অন্য ধর্মের অস্তিত্বকেও অস্বীকার করে, অন্যধর্মের বিরোধিতা করে। কোরান মুসলিমদেরকে এই শিক্ষাই দিয়ে আসছে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কোরানের সূরা ২, আয়াত ১৯৩ তে বলা হয়েছে – কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ-এর সর্বময় কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার হাদিসে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম হাদিসের ১নম্বর হাদিস এবং ৩১ নম্বর হাদিসে মহম্মদ বলছেন যে ”আমাকে মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবাই স্বীকার করে যে এই পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং যেন স্বীকার করে নেয় যে একমাত্র আমিই আল্লাহ-এর নবী।” বুখারী হাদিসের ৪নম্বর, ৫২ নম্বর এবং ১৯৬নম্বর হাদিসে মহম্মদ বলছেন, ”আমাকে কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবাই স্বীকার করে নিচ্ছে যে এই পৃথিবীতে একমাত্র উপাস্য হলেন আল্লাহ।” আর এই মতবাদগুলি যেগুলি মহম্মদের জীবনের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে, এটা হলো জিহাদ – যা কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আর এই তত্ত্বের ফলে বিগত হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের সাধারণ মানুষ আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আর এই পরিকল্পনা বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রসারের জন্যে করা হয়েছে। তবে সবসময় জিহাদের দ্বারাই যে ইসলাম প্রসার পেয়েছে তা নয়। আর একটি কারণ হলো ইসলামিক দেশ থেকে মুসলিমদের অন্য দেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা এবং তাদের সংখ্যা বাড়ানো। আর ঠিক এই কারণে বর্তমানে পৃথিবীতে ইসলামের শক্তি দিন দিন বাড়ছে।
ইসলামকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা :-
প্রথমেই বলা হয়েছে যে ইসলাম প্রতিটি মুসলিমের ব্যক্তিগত জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে। আর একটি ইসলামিক মতবাদ হলো এই যে সমস্ত বিশ্বকে ইসলামের অধীনে আনতে  হবে। রাজনৈতিক ইসলামের আর একটি অংশ হলো শরিয়া আইন। এটা ইসলামের নিজস্ব আইন ব্যবস্থা, যাকে  হাতিয়ার করে মুসলমানরা যে দেশে থাকুক না কেন, সে দেশের প্রচলিত আইনকে অস্বীকার করে এবং শরিয়া মেনে চলতে চায়। মুসলিমরা দাবি করে যে এটা হলো মহান আল্লাহ-এর আইন এবং প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষ এই আইন মেনে চলতে বাধ্য। এই শরিয়া আইনে অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেমন – কিভাবে প্রাথর্না করতে হয়, বিবাহ, ব্যাংকের আইন, কিভাবে একজন আদর্শ স্বামী বা স্ত্রী হতে হয়, যৌনতা, কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত, কোন খাদ্য মুসলিমদের জন্য গ্রহণ যোগ্য আর কোনটি নয়, কোন পোশাক মুসলিমরা পরবে আর কোনটি পরবে না, কিভাবে শৌচকর্ম করতে হবে, ইসলাম ত্যাগ যারা করবে তাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে এইসব। আর শরিয়া আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল এই যে কাফিরদেরকেও শরিয়া আইন মানতে হবে।
হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর আবু বকর, তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী প্রথম খলিফা হন। খলিফা হয়ে তিনি প্রথমে আদেশ দেন যে যারা ইসলাম ত্যাগ করে চলে যেতে চায়, তাদের হত্যা করা হোক। কারণ মহম্মদের সময়কালে অনেক মানুষকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। তাই তারা ইসলাম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলো। আর এটাই রাজনৈতিক ইসলামের একটি অংশ। যদি কেউ একবার ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে আর সে কখনো ইসলাম ত্যাগ করতে পারবে না, তাকে মুসলিম হয়েই থাকতে হবে। আর যদি সে ইসলাম ত্যাগ করে, তাহলে তার জন্যে মর্মান্তিক মৃত্যু অপেক্ষা করে আছে। পরের খলিফা হন উমর, যিনিও ছিলেন মহম্মদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। তিনি মোট দশ বছর শাসন করেন। আর দশ বছরে তিনি আরবের পাশে থাকা খ্রিস্টান অধ্যুষিত সিরিয়া এবং জরাথ্রুস্টের অনুগামীদের দেশ ইরানের বিরুদ্ধে জিহাদ করে কাটিয়ে দেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না জিহাদের প্রথম এবং শেষ লক্ষ্য হলো অন্য ধর্মকে পরাজিত করে ইসলামের রাজত্ব কায়েম করা। আর এই কারণে আজ বিশ্বব্যাপী ইসলাম রাষ্ট্রের সংখ্যা এতগুলি। তুর্কির আগে নাম ছিল আনাতোলিয়া এবং একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র ছিল। কিন্তু ইসলামী জিহাদের সামনে পড়ে আজ তুর্কির শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম। আজ তার নামও পাল্টে হয়েছে তুরস্ক। উত্তর আফ্রিকা, মিশর, ইরাক, সিরিয়া এবং লেবানন এইসব দেশগুলি খ্রিস্টান দেশ ছিল। কিন্তু ইসলামিক জিহাদের ফলে আজ এই দেশগুলি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত। আফগানিস্তান বৌদ্ধ রাষ্ট্র ছিল, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়া হিন্দুরাষ্ট্র ছিল। কিন্তু ইসলামিক আক্রমণের শিকার হয়ে আজ এই দেশগুলি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর এই জিহাদের একটি বৈশিষ্ট্য হল যে ইসলামিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হলেই জিহাদ শেষ হয় না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবকটি  কাফিরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ততক্ষন জিহাদ চলবে। আর এই কারণে ইসলাম আজ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। আর ইতিহাসে ইসলাম হলো সবচেয়ে সফল সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক মতবাদ, কমিউনিস্ট এবং নাৎসি মতবাদের থেকেও।(সমাপ্ত )

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s