অস্ত্র পাচারেও ‘এগোচ্ছে’ আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ

Ostro pachareo egocche rajyoঅস্ত্র কারখানার হদিস পাওয়া যাচ্ছে৷ ধরাও পড়ছে অনেক অভিযুক্ত৷ কিন্তু  রাজ্য জুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও অস্ত্র কারখানা যে আদৌ কমানো যায়নি, সে তথ্যই উঠে এসেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকডর্স ব্যুরোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে৷ হিসেব বলছে, বেআইনি অস্ত্রের ক্ষেত্রে বিহার, ছত্তিসগড়, জম্মু-কাশ্মীরকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে এ রাজ্য৷ এনসিআরবি-এর তরফে ২০১৬ সালের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই বছর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার জন্য মোট ২৫২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল৷ অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ১১৯টি বেআইনি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়৷ পাশাপাশি ৫ হাজার ২১৯টি গুলি উদ্ধার করে পুলিশ৷

এই পরিসংখ্যান থেকেই উঠে এসেছে, অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবক’টি রাজ্য মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশের এবং মধ্যপ্রদেশের ঠিক পরে, তৃতীয় স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ৷ যদি কেবল অস্ত্র উদ্ধারের হিসেবই ধরা যায়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিহার থেকে উদ্ধার হয়েছে ২২১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ছত্তিসগড়ে ৩১২টি এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০টি৷ এর মধ্যে পুলিশের চিন্তা বাড়ানোর জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট৷ যেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বাজেয়াপ্ত হওয়া তিন হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি লাইসেন্সড প্রাইভেট গান৷ অর্থাৎ বাকি সবক’টিই কোনও না কোনও বেআইনি অস্ত্রাগার থেকে বানানো৷ কলকাতা পুলিশ এবং সিআইডি সূত্রের খবর, ২০১৬ সালে প্রায় পাঁচটি জায়গায় অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল৷ সেখান থেকে প্রচুর অস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত  করা হয়৷

২০১৫ সালের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর হিসেবে বলা হয়েছে, এ রাজ্যে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এক বছরে ৩৬ জন মারা গিয়েছেন৷ ২০১৫-য় রাজ্যে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত মোট ২৩৬৫টি মামলা দায়ের করা হয়৷ ৩২০৯টি বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়৷ আর কার্তুজ উদ্ধার হয় ৫০৭২টি৷ পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে মামলার সংখ্যা বাড়লেও বাজেয়াপ্ত অস্ত্রের পরিমাণ ২০১৬ সালে অনেকটা কমে গিয়েছে৷ সিআইডির এক কর্তা জানান, গত বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের চাপে কলকাতা এবং আশপাশের বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান শুরু হয়েছিল যাতে প্রায় ১৬০টি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়৷ কিন্তু শুধুমাত্র বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয় একমাত্র বীরভূমে৷ কারণ, সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নানুরসহ অন্যান্য ব্লক থেকে সমস্ত বেআইনি অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করার নির্দেশ দিয়ে এসেছিলেন৷ রাজ্য পুলিশের এক কর্তার ব্যাখ্যা, ‘‘গত কয়েক বছর ধরে অস্ত্র কারখানার পর্দা ফাঁক করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল সিআইডি৷ তাদের স্পেশ্যাল অপারেশনস গ্রূপ এই কাজ করলেও এখন তা বন্ধই হয়ে গিয়েছে৷ রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের খবর, একটা সময় বিহারের মুঙ্গের থেকে নিয়মিত অস্ত্র আনা হত কলকাতা, নদীয়াসহ বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলিতে৷ সঠিক নজরদারির অভাবে এখন সেই ব্যবসা ফের জাঁকিয়ে বসেছে৷ কিছুদিন আগেই কলকাতা পুলিশের এসটিএফ কলকাতা রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশের আনসারুল্লা বাংলা টিমের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে৷ যাদের মধ্যে মনোতোষ দে নামে বসিরহাটের এক বাসিন্দা অস্ত্র বিক্রি করার জন্য ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত৷ সেই অস্ত্র পাঠানো হত বাংলাদেশে৷ ওই ঘটনা থেকেই গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন, অস্ত্র ব্যবসার জাল ঠিক কতটা ছড়িয়ে পড়েছে শহর এবং আশপাশে৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s