পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার কৌশল জঙ্গিদের শেখাত মাহি

policeke dhoka dewar kousol ansarulla bangla team mahiআনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি)-এর সদস্য মাহি ওরফে মহম্মদ আফতাবকে কলকাতা স্টেশনে অল্পের জন্য ফস্কেছিলেন এসটিএফের কর্তারা। শুধু কলকাতা নয়, বাংলাদেশের পুলিশকেও দুবার বোকা বানিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে এই জঙ্গি। পুলিশকে কীভাবে ধোঁকা দিতে হবে, সেই কৌশল এবিটি জঙ্গিদের শেখাত সে। তার কাছ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এবিটির অনেকেই বাংলাদেশ পুলিশের নাগাল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বলে খবর। ধৃতকে জেরা করে এমনই তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। সেই কৌশল সম্পর্কেই আধিকারিকরা তার কাছ থেকে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।
এবিটি জঙ্গি মাহি পুলিশকে নাজেহাল করতে কতটা অভ্যস্ত, সেই তথ্য এবার গোয়েন্দাদের কাছে আসছে। তার বক্তব্য, এবিটিতে যোগ দেওয়ার পরই তাদের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তা হল পুলিশ কাছাকাছি পৌঁছে গেলে বা ঘিরে ফেললে, সেই জাল ভেদ করে কীভাবে পালাতে হবে। সেখানেই বলা হয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী তা মোকাবিলা করে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনও অবস্থাতেই পুলিশের কাছে ধরা দেওয়া যাবে না। এর জন্য সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে নকল মহড়া দিত। যাতে দেখে নেওয়া যায় কে কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই কাজ করতে পারছে। এই কাজে মাহির দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। সেই কারণেই এবিটিতে এই নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে। আর যদি কখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়েও যায়, তাহলে জেরায় কিছুই বলা যাবে না বলে সংগঠনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ফাঁস করা যাবে না সংগঠনের কোনও গোপন তথ্য। উল্টে তদন্তকারী আধিকারিককেই চাপে ফেলে দিতে হবে। তাদের লড়াই কী নিয়ে, সেই বিষয়টি তুলে ধরতে হবে গোয়েন্দাদের কাছে। প্রয়োজনে নিজেদের আদর্শ তুলে ধরে আধিকারিকদের এমনভাবে বিভ্রান্ত করতে হবে, যাতে মূল বিষয়টি ঘেঁটে দেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এই সংগঠন সম্পর্কে পুলিশের কাছে কী তথ্য রয়েছে, তা জেরা চলাকালীন বুঝে নিতে হবে। তার বাইরে একটি বাড়তি তথ্যও দেওয়া যাবে না।
এই কৌশলকে হাতিয়ার করেই দু’বার বাংলাদেশ পুলিশের নাগালের বাইরে চলে যায় মাহি। সে নিজেই আধিকারিকদের জানিয়েছে, মীরপুর কলেজের এক অধ্যাপককে খুন করতে এবিটি টিম গিয়েছিল। সেই দলে সেও ছিল। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মাহি জেনে যায়, পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে। এরপর কলেজের পিছন দিক দিয়ে সে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশ পুলিশ টিম বুঝেই উঠতে পারেনি, ওই রাস্তা দিয়ে সে পালাতে পারে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে একটি বিয়ে বাড়িতে। বাংলাদেশে তার এক আত্মীয়ের বিয়ে ছিল। পাত্র ছিল এবিটিরই সদস্য সাহাদ। পাত্রের জন্য সে অপেক্ষা করছিল বিয়েবাড়িতে। বিয়ে করতে আসার সময় মাঝপথেই বাংলাদেশ পুলিশ সাহাদকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করতে রওনা হয়। এই খবর পৌঁছে যায় মাহির কাছে। বিয়েবাড়িতে পুলিশ পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ড আগেই সে বেরিয়ে যায়। আর তৃতীয়বার সে কলকাতা পুলিশকে ধোঁকা দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এসটিএফের কছে খবর ছিল দুই এবিটি জঙ্গি রয়েছে কলকাতা স্টেশনে। সেইমতো আধিকারিকরা সেখানে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। এই সময়ই তনবীর ও রিয়াজ ধরে পড়ে যায়। কিন্তু পুলিশ যে কলকাতা স্টেশনে এসেছে, তা কোনওভাবে জেনে গিয়েছিল মাহি। পুলিশ যাতে ধরতে না পারে সেজন্য সে একটি কচুরির দোকানে কচুরি খেতে চলে যায়। এসটিএফের অফিসাররা ভেবেছিলেন দু’জন এসেছে। তাই তাদের নিয়েই চলে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের মাহি ওই স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, পুলিশ চলে গিয়েছে। তারপরই সে রওনা হয়ে যায় হাওড়ায়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s