জিন্নার স্বপ্ন ‘বৃহত্তর বাংলা’ তৈরি করার চক্রান্ত করছিল আনসারুল্লা বাংলা টিম

জেএমবি’র কায়দাতেই বৃহত্তর বাংলা গঠনের ছক কষেছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি)। সেই লক্ষ্যেই তারা বিভিন্ন জায়গায় ধীরে ধীরে ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে ছিল। মূলত বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও মায়ানমারকে নিয়েই তারা এই ঘুঁটি সাজিয়েছিল। ধৃত এবিটি জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ম্যাপ ও অন্যান্য কাগজপত্র ঘেঁটে এমন তথ্যই হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এ রাজ্যের কোন কোন এলাকাকে বৃহত্তর বাংলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সেই নকশাও তৈরি করে ফেলেছিল জঙ্গিরা। আসলে কোমর ভেঙে যাওয়া জেএমবি’র অসম্পূর্ণ কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল তারা। তাই অস্ত্র জোগাড় ও বিস্ফোরক তৈরি করতে শুরু করেছিল তারা। এদিকে, ধৃত পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ইউএপিএ ধারা যুক্ত করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। তদন্তকারী সংস্থা এদিন আদালতে তা জানায়। মঙ্গলবার নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয় জঙ্গি মাহি ওরফে মহম্মদ আফতাব খানকে। বুধবার তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

এবিটি’র লক্ষ্য কী ছিল, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। ধৃত জঙ্গি মাহি ওরফে মহম্মদ আফতাব খানের কাছ থেকে এরাজ্যের ম্যাপ সহ বেশ কিছু নথি মিলেছে। যা দেখে বোঝা যাচ্ছে, বড়সড় লক্ষ্য নিয়েই এগচ্ছিল তারা। সেই লক্ষ্যেই মাহি শিলিগুড়ি গিয়েছিল। যাতে উত্তরবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সংগঠন তৈরি করা যায়। যেহেতু উত্তরবঙ্গ দিয়ে নেপালেও পালিয়ে যাওয়া যায়, তাই ওই এলাকাকে বেছে নিয়েছিল তারা। বাংলাদেশে জেএমবি এখন পুরোপুরি কোণঠাসা। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের পর জানা যায়, বৃহত্তর বাংলা গঠনের জন্য তারা তৎপরতা চালাচ্ছে। সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন জেলা ছিল টার্গেট। কিন্তু সংগঠন ভেঙে যাওয়ায় তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সেই দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন এবিটি। জেএমবি’র সঙ্গে তাদের বহু পুরনো যোগাযোগ। জেএমবি’র সেই নকশায় সামান্য রদবদল ঘটিয়ে কাজ শুরু করেছিল এবিটি। তাই এবিটি’র একাধিক সদস্যকে ভারতে পাঠানো হয়। ধৃত জঙ্গিদের জেরা করে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্ত এলাকা নিয়েই বৃহত্তর বাংলা গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছিল তারা। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মায়ানমারের কিছু অংশকে তারা বৃহত্তর বাংলার নকশায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যাতে এই এলাকায় তাদের অবাধ গতিবিধি থাকে। সেই কারণেই রোহিঙ্গাদের দিয়েই স্লিপার সেলের কাজ করানো হচ্ছিল বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ লাগোয়া দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় তারা ফ্রি করিডর তৈরি করার কাজে নেমেছিল। তাদের কাছ থেকে এই সমস্ত এলাকার ম্যাপও পাওয়া গিয়েছে। তাতে বেশ কিছু এলাকাকে মার্ক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s