আনসারুল্লা বাংলা টিমকে টাকা যোগাচ্ছে এরাজ্যের মুসলিম ব্যবসায়ীদের একাংশ

আল-কায়েদার শাখা সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি)-এর সংগঠনকে টাকা দিয়ে সাহায্য করছে এরাজ্যের কয়েকজন মুসলিম ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে এদের বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিভিন্ন সামগ্রীর আড়ালে জঙ্গিদের কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য আসতে শুরু করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এবিটির শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এসে এখানকার স্লিপার সেলের সদস্যদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। এই ব্যবসায়ীদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। এরা এবিটির প্রতি শুধু সহানুভূতিশীল নন, সংগঠনের বড় নেতাদের সঙ্গে তাঁদের রীতিমতো যোগাযোগ রয়েছে। এই ব্যবসায়ীদের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেছেন আধিকারিকরা।

কলকাতা তথা রাজ্যে এবিটির তহবিলের উৎস কী, তা খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। টাকার সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়া গেলে জেহাদি কার্যকলাপ যে অনেকটাই কমিয়ে ফেলা যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তাঁরা। এর তথ্য খুঁজতেই ধৃত জঙ্গি তনবীর ও রিয়াজুলকে দীর্ঘ জেরা করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে টাকা তাদের কাছে বিভিন্ন উপায়ে আসছে। এক্ষেত্রে হাওলা ব্যবসায়ীরা যেমন রয়েছে, তেমনি অন্য ব্যবসায়ীরাও তাদের সাহায্য করছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের যে অংশ এবিটিকে সাহায্য করছে বলে অভিযোগ, তাদের বেশিরভাগ ট্রান্সপোর্ট এবং কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসার সূত্রেই তাঁদের বাংলাদেশে যেতে হয় প্রায়ই। এর বাইরেও গোরু পাচারকারী ও জাল নোট ব্যবসায়ীদেরও সাহায্য পাচ্ছে এবিটি। এই দুই ধরনের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবিটির সদস্যরা এখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, রাসায়নিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের পরিচিত পরিবহণ ব্যবসায়ীদের সাহায্য পাচ্ছে। যাতে পুলিশে খবর না পৌঁছয়। অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে লরিতে করে চলে যাচ্ছে এই সব জিনিসও। সীমান্তে চেকিংয়েও তা ধরা পড়ছে না। সূত্রের খবর, এবিটিকে সাহায্য করার জন্য তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বেশ কিছু ব্যক্তি সীমান্তে সম্প্রতি পরিবহণ ব্যবসা খুলে বসেছে। যাতে তাদের ‘জিনিস’ আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই জঙ্গি সংগঠনের সুবিধা হয়। কাপড়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসছে টাকা। যে টাকা এই ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিরা পৌঁছে দিচ্ছেন জঙ্গিদের ডেরায়। এই কায়দায় গত কয়েকমাসে মোটা টাকা এরাজ্যে এসেছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, গোয়েন্দাদের কাছে খবর, এখানে সংগঠন যাতে ভালোভাবে চলে, সেজন্য রাজ্যের বেশ কিছু ব্যবসায়ী তাদের তহবিলে নিয়মিত টাকা দিচ্ছে। ভিন রাজ্যের কয়েকজন ব্যবসায়ীও টাকা জোগাচ্ছে বলে খবর। জঙ্গিদের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ও থাকাখাওয়ার খরচ এই ব্যবসায়ীরাই বহন করছেন। তাঁদের পরিচিত কোনও হোটেলে এবিটির সদস্যদের রাখা হচ্ছে। যাতে পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস যাচাই করা না হয়। এই ব্যবসায়ীরা এবিটির জন্য বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার মাধ্যমে টাকা তুলছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পারছেন। এই ব্যবসায়ীদের নিয়েই এখন কাটাছেঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকজনের ভূমিকা রীতিমতো সন্দেহজনক মনে হয়েছে অফিসারদের কাছে। তাদের প্রয়োজনে জেরা করার জন্য ডাকা হতে পারে বলে খবর।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s