এরাজ্যে আনসারুল্লা বাংলা টিমের অস্ত্র ভান্ডারের খোঁজে গোয়েন্দারা

এ রাজ্যে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের মজুত ভাণ্ডারের খোঁজ করছেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র যে এখানে মজুত করে রাখা রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তাঁরা। জঙ্গি যোগে ধৃত মনোতোষের বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পর সেই সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয়েছে। এগুলি এ রাজ্যের এবিটির হয়ে কাজ করা এক জঙ্গির কাছে যাওয়ার কথা ছিল বলে খবর। তাকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে ফেলেছেন গোয়েন্দারা।

গত শনিবার বসিরহাটে মনোতোষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেন এসটিএফের অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের। তাঁদের অনুমান, নাইন এম এম পিস্তল ছাড়াও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করে রেখেছে এবিটি’র জঙ্গিরা। শুধু মনোতোষই নয়, আরও বেশ কয়েকজন আর্মস ডিলারের নাম অফিসারদের কাছে আসতে শুরু করেছে। এরা এবিটি’র জঙ্গিদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে বলে খবর। এরাও বিভিন্নভাবে সংগঠনের জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। তাদের মাধ্যমে জঙ্গিরা পরিচয়পত্রও পাচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকেই এইসব আগ্নেয়াস্ত্র এবিটি’র জঙ্গিরা কিনছে।

কিন্তু এত বেশি সংখ্যায় আগ্নেয়াস্ত্র কেনার উদ্দেশ্য কী? গোয়েন্দাদের মতে, আসলে বাংলাদেশে এবিটি এখন যথেষ্ট কোণঠাসা। সেদেশের পুলিশের তল্লাশিতে ডেরা ছেড়ে পালিয়েছে একাধিক জঙ্গি। এদের অধিকাংশই ব্লগার খুনে অভিযুক্ত। এবিটি’র জঙ্গিদের একটা বড় অংশ সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে চলে এসেছে। তারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এমনকী অন্য রাজ্যেও চলে গিয়েছে। সেখানে ঠিকা শ্রমিক বা রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়েছে। আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে জেহাদি কার্যকলাপ। জঙ্গিরা ডেরা থেকে পালানোর সময় যে সমস্ত অস্ত্র ফেলে গিয়েছে, তার বেশিরভাগই বাংলাদেশের পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এ রাজ্যে ঘাঁটি তৈরির পর তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে তারা। তাদের থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছে তারা। গোয়েন্দাদের দাবি, কয়েক মাসে লক্ষাধিক টাকার আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছে। এবিটি তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য একাধিক জেলায় প্রশিক্ষণ শিবির খুলেছে। তাদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন। তাই বেশি মাত্রায় আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ মজুত করা শুরু করেছে তারা। উন্নত মানের বন্দুক বা রাইফেল ব্লগার খুনে ব্যবহার করা হবে। আরও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য বা নিজেদের কাজে ব্যবহার করা হবে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে অন্তত পাঁচ থেকে ছ’টি জায়গায় তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের মজুত ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। এর খোঁজে গত শনিবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও চালান আধিকারিকরা। মনোতোষের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এবিটি’র যে সদস্যের কাছে যাওয়ার কথা ছিল, তার নাম হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। ওই জঙ্গিও এখানে লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর। তার সঙ্গেই আরও বেশকয়েকজন লুকিয়ে রয়েছে। এরা বাংলাদেশে ব্লগার খুনে অভিযুক্ত। গোয়েন্দা অফিসাররা তাদের ধরতে মরিয়া।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s