রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেনেড তৈরির কারখানা গড়ার পরিকল্পনা ছিল আনসারুল্লা বাংলা টিমের

বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজ্যে সংগঠন বাড়াচ্ছিল আনসরুল্লা বাংলা টিম (এবিটি)। তাদের নিয়েই গ্রেনেড তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল ধৃত জঙ্গি সামসেদ মিঞা ওরফে তনবীরের। জেএমবি’র কায়দাতেই যাতে জঙ্গিদের কাছে গ্রেনেড পৌঁছে দেওয়া যায়। এবিটির মূল মাথার নির্দেশে এরাজ্যে ঢোকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছিল তনবীর ও মনোতোষ। এমনই তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। একইসঙ্গে কলকাতায় তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এমন কয়েকজনের খোঁজও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। যারা নানাভাবে সাহায্য করছিল। পাশাপাশি এরাজ্য সহ গোটা দেশে এখনও এবিটি’র ২৫ জন সদস্য লুকিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তারা গোপনে সংগঠনের কাজ চালাচ্ছে।
আনসারুল্লার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগসূত্র ক্রমেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা পালিয়ে এদেশে আসতে শুরু করেছে। এদেরই টার্গেট করেছে এবিটি। তনবীর জানিয়েছে, সেদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। সংগঠনের নির্দেশমতো কাজ শুরু করার পর তাদের কোথায় রাখা হবে, তার ব্যবস্থা শুরু করে। সেজন্য বসিরহাট, বনগাঁ, দমদম, আগরপাড়া সহ আরও বেশ কিছু এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়। তাদের নিয়ে আসার জন্য এবিটি’র যে সমস্ত সদস্যের নৌকা রয়েছে, সেগুলি নেওয়া হয়। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, অন্তত একশোজন রোহিঙ্গাকে তারা বসিরহাট ও বনগাঁ দিয়ে নিয়ে এসেছে। একাধিক নৌকায় করে রোহিঙ্গারা যেহেতু এদেশে এসেছে, তাই সংখ্যাটা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, তাদের সীমান্ত থেকে নিয়ে আসে মনোতোষ। প্রথম কয়েকদিন তারা তার ডেরাতেই কাটায়। এরপর তনবীর তাদের নিয়ে গিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি গোপন ডেরায় রেখে আসে। যে জায়গাগুলির নাম ইতিমধ্যেই জেনেছেন আধিকারিকরা।
কিন্তু কী কারণে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করছিল এবিটি’র সদস্যরা? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আসলে অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে এগচ্ছিল বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠনটি। অসহায় রোহিঙ্গাদের কাজে লাগানো হত গ্রেনেডের মতো বিস্ফোরক তৈরির কাজে। এজন্য তাদের মগজ ধোলাই শুরু হয়ে যায়। তনবীর তাদের বিস্ফোরক তৈরি শেখানোর দায়িত্ব নেয়। কয়েকটি ব্যাচে ভাগ করে প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছিল বলে খবর। আসলে এবিটি চাইছিল, এরাজ্যে গ্রেনেড থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিস্ফোরক তৈরির কারখানা খুলতে। এই কাজের জন্য এমন লোকের প্রয়োজন ছিল, যাদের সহজেই মগজ ধোলাই করা যাবে এবং তাদের লাইফস্টাইল দেখে কারও যেন সন্দেহ না হয়। একইসঙ্গে তাদের ভাষার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন ভাষাভাষী মানুষও প্রয়োজন। সেই কারণেই অত্যন্ত কৌশলেই রোহিঙ্গাদের বাছা হয়েছিল। পরিকল্পনা মতো তাদের জন্য বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়া নিতে সাহায্য করে এবিটি’র প্রতি সহানুভূতিশীল কয়েকজন ব্যক্তি। এদের মধ্যে কয়েকজন আবার ব্যবসায়ী। যাদের সঙ্গে তনবীরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বাংলাদেশ থেকে এবিটি’র লোকজন এলে সেই বাড়িতেই এসে উঠত। এমনকী গোপন বৈঠকও সেখানে হত। কয়েকটি বাড়ি ভাড়া আবার সংগঠনের প্রতি সহানুভূতিশীল সেই ব্যক্তিদের নামেই নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। ভাড়া বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরির জন্য ল্যাব তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তনবীর। ঠিক হয়েছিল, প্রতিটি কারখানায় যাবে সে। মূল নকশা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু দেখিয়ে দেবে। এদেশে আসার পর রোহিঙ্গাদের যাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য তাদের পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। এজন্য সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল খালেক নামে এক ব্যবসায়ী তাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করছিল বলে খবর। এই বিষয়েই বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদ পুলিশের একটি টিম ধৃত তিন জঙ্গিকেই দীর্ঘক্ষণ জেরা করে। রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে পড়ায় এনআইএ’ও তাদের জেরা শুরু করেছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s