বহরমপুরে ছ’লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার তিনজন, পাওয়া গেলো জঙ্গি যোগ

প্রায় ছ’লক্ষ টাকার জালনোট সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বহরমপুর থানার পুলিশ। গত ১৭ই নভেম্বর, শুক্রবার বিকালে শহরের রানিবাগান এলাকায় অস্থায়ী ভুটিয়া মার্কেটে হানা দিয়ে পুলিশ জালনোট পাচারকারীদের পাকড়াও করে। ধৃত পাচারকারীদের মধ্যে একজনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জালনোট কারবারের পিছনে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে। তাই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বহরমপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটিয়া মার্কেটে জালনোট হস্তান্তর করার সময় পাচারকারীদের ধরা হয়। ধৃতদের নাম ওবাইদুল্লা ইসলাম, সুজয় মণ্ডল ও ইনতাজ আলি। ওবাইদুল্লার বাড়ি মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়া এলাকায়। অপর দু’জনের বাড়ি হরিহরপাড়ার শঙ্করপুরে। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃত ওবাইদুল্লার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র আছে। বাংলাদেশের এক ক্যারিয়ারের কাছ থেকে নোটগুলি এপারে আনা হয়েছে বলে সে জানিয়েছে। নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।

দু’সপ্তাহ আগে শহরের রানিবাগানে শীতের পোশাক নিয়ে অস্থায়ী দোকান খুলেছে ভুটিয়ারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জালনোট ছড়ানোর জন্য ভিড়ে ঠাসা অস্থায়ী মার্কেট জালনোট পাচারকারীরা বেছে নিয়েছে বলে থানায় খবর আসে। সেই মতো সকাল থেকেই পুলিশ ভুটিয়া মার্কেটে জাল বিছিয়ে রাখে। দিনভর ব্যাগ হাতে বাজারে ঘোরাঘুরি করলেও ওবাইদুল্লা কেনাকাটা করেনি। বিকেল নাগাদ সে সুজয় ও ইনতাজকে একটি ব্যাগ দেয়। তখনই তাদের ঘিরে ধরা হয়। ওবাইদুল্লা পালানোর চেষ্টা করে। কিছুটা ধাওয়া করে তাকে ধরা হয়। গোটা অভিযানের নেতৃত্ব দেন থানার আইসি সনৎ দাস। গত ১৮ই নভেম্বর, শনিবার ধৃতদের বহরমপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে ধৃতদের পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ২৯৮টি জাল ২০০০টাকার নোটে ৫লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার জালনোট মিলেছে। ধৃতরা বাইকে চেপে ভুটিয়া মার্কেটে এসেছিল। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও তিনটি বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের এক কর্তা বলেন, ওবাইদুল্লা দীর্ঘদিন ধরে এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলেই মনে হচ্ছে। জেরায় ওবাইদুল্লা জানিয়েছে, প্রতিবেশী মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকা থেকে সে ওই নোটগুলি সংগ্রহ করে। খোদ বাংলাদেশি ক্যারিয়ারের মাধ্যমে নোটগুলি এপারে আনা হয়েছে বলে সে জানিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, ধৃত ওবাইদুল্লার সঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন ও জালনোট কারবারীদের সরাসরি যোগাযোগ আছে। সুজয় ও ইনতাজেকে দু’লক্ষ টাকা দিয়েছিল ওবাইদুল্লা। সে আরও দু’লক্ষ টাকা অন্য কোনও পাচারকারীকে দিত বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s