এখন জালনোট ছাপা হচ্ছে মালদহে, ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সারাদেশে

akhono jal note maldaসীমান্তে কড়াকড়ি। ওপার থেকে জাল নোট আমদানির বিশেষ ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না। তাই এপারেই মালদহের কয়েকটি জায়গায় জাল নোট ছাপানোর কারখানা গজিয়ে উঠেছে। তারপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকা থেকে ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে। জাল নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া একটি হোটেলে এনআইএ এবং গোলাবাড়ি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পায়। নোট অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ধৃতরা এখানে এসেছিল বলে খবর।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা কিছুদিন ধরেই জানতে পারছিলেন, হাওড়া স্টেশন দিয়ে জাল নোট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মালদহের জাল নোটের কারবারিরাই এখানে আসছে। এজেন্টরা এখান থেকে নোট সংগ্রহ করছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেন। একইসঙ্গে গোলাবাড়ি থানাকেও বিষয়টি জানানো হয়। তারা এনআইএ’র সঙ্গে কাজ শুরু করে। তদন্তকারী দলের সদস্যদের কাছে খবর আসে, মালদহের ইংলিশবাজারের সাততারি গ্রামের চার বাসিন্দা এই কাজে জড়িত। তারাই ঘরে অফসেট মেশিন বসিয়ে জাল নোট তৈরি করছে। বাংলাদেশ থেকে নোট তৈরির কাগজ তারা নিয়ে আসছে। ওই চারজনের উপরই নজরদারি শুরু হয়। জোগাড় করা হয় তাদের ফোন নম্বর। সেই ফোনে আঁড়ি পেতেই জানা যায়, মঙ্গলবার তারা হাওড়ায় আসছে। সেখানকার একটি হোটেলে উঠবে। তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা কয়েকজন জাল নোট কারবারির। মালদহ থেকে আসা ওই নোট কারবারিদের সঙ্গে রয়েছে মোটা অঙ্কের জাল নোট। এরপর রাতেই গোলাবাড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়া স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই ধরা হয় বক্তার আনসারি, উৎপল চৌধুরি, ফইজুল মিঞা ও রাজ্জুল মিঞাকে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট। সবগুলি দু’হাজারের নোট বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এর আগে এরা মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে কলকাতায় এসেছে। তা পৌঁছে দিয়েছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। ধৃতদের নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াতও ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলি অফসেটে ছাপা হয়েছে। সেই কারণে গুণগত মান কিছুটা খারাপ। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে এখন কিছুটা কড়াকড়ি চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে নকল নোট এলেও তার জোগান কিছুটা কম। সেই ঘাটতি তারা মেটাতে চাইছে অফসেট মেশিনে জাল নোট তৈরির মাধ্যমে। কাগজ ও কালি বাংলাদেশ থেকেই আসছে। তা দিয়েই মালদহের বিভিন্ন জায়গায় এই নোট তৈরি করা হচ্ছে। এই নোট তৈরিতে খরচ কিছুটা হলেও কম পড়ছে। ওপার বাংলা থেকে আসা জাল নোটের বান্ডিলেও এই নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয় এবং সহজেই মার্কেটে চালিয়ে দেওয়া যায়। এই কৌশলে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ নোট এই রাজ্যসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। তাদের জেরা করে এই কারবারে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম হাতে এসেছে তদন্তকারী অফিসারদের। তাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s