রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এইডস আক্রান্ত ৫৯জন, চিন্তায় হাসিনা সরকার

এমনিতে ১১ লক্ষ শরণার্থীর থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার দায়িত্ব, তার উপর নতুন বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল একসঙ্গে ৫৯ জন রোহিঙ্গা এইডস আক্রান্ত শণাক্ত হওয়ায়। তবে যাঁরা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রেই এই মারণ রোগ শণাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য অধিকর্তা মিসবাহউদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেছেন, ‘এডসের থাবায় অসুস্থ হয়ে যন্ত্রণা নিয়ে শিবিরে আসার পরই আমরা এই ৫৯ জনকে জানতে পেরেছি। তবে ক্যাম্পে অন্যান্য অসুখ নিয়ে চিকিৎসা করতে যাওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট বলছে, আরও অনেক এইডস আক্রান্ত শরণার্থীদের ভিড়ে মিশে রয়েছেন।’

যে ৫৯ জন এইডস রোগীর সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে ৩৭ জন মহিলা এবং এদের প্রত্যেকের বয়স ৪০-এর নিচে। স্বভাবতই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কারণ, দালালচক্রের হাত ধরে রোহিঙ্গা নারীদের একটা অংশ প্রথমে কক্সবাজার ও পরে দেশের অন্য প্রান্তে যৌন পেশায় ঢুকে পড়ছেন। তাই একবার যদি কোনও এইডস আক্রান্ত তরুণী কক্সবাজারের কোনও হোটেল বা রিসর্টে এই পেশায় ঢুকে পড়েন তবে পর্যটকদের শরীরে অবলীলায় ঢুকে পড়বে। প্রথমে সেই পর্যটক বুঝতে না পারলেও পরে যখন অসুস্থতা ও যন্ত্রণা উপলব্ধি করবেন, ততদিনে অন্যের শরীরে প্রবেশে ভূমিকা নিতেও পারেন তিনি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মহম্মদ আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ‘আক্রান্তদের সম্পূর্ণ পৃথক ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি নজরদারির ব্যবস্থা হয়েছে। কারণ হাসপাতাল থেকে এই রোগীরা একবার পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে মিশে গেলে খুঁজে বার করা কঠিন হবে।’
গত তিন মাসে দফায় দফায় মায়ানমার থেকে সেনা নির্যাতনের জেরে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার লাগোয়া উখিয়া ও টেকনাফ জেলায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই শিশু ও নারী। কারণ পুরুষরা হয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন, নয়তো জখম অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়ে মায়ানমার জেলে বন্দি আছেন। উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণের কাজে অংশ নেওয়া ইউনিসেফের আধিকারিকরাও স্বীকার করেছেন, যে সংখ্যায় এইডস আক্রান্ত ধরা পড়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, শিবির চালু হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম একজন এইডস রোগী ধরা পড়ে। এরপর অক্টোবরের ২৪ এবং নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫৯ জন রোহিঙ্গাকে এইডস রোগী বলে শণাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। স্বভাবতই শরণার্থীদের তরফে দেশে নয়া মারণরোগের বার্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন শেখ হাসিনা সরকার।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s