অসমে বাঙালি হিন্দুরা হয়রানির শিকার

অসমে বাঙালি হিন্দুদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন সারা অসম বাঙালি যুবছাত্র ফেডারেশনের উপদেষ্টা চিত্ত পাল। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বি জে পি সরকার রাজ্যে ক্ষমতাসীন হবার পর হিন্দু বাঙালিদের হয়রানি করা হচ্ছে। ১৯৭১-এর আগে আসা প্রকৃত ভারতীয়দের নানা ভাবে হয়রানি করে নাগরিকত্ব হরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন ভাবে বিভিন্ন জেলার পুরনো হিন্দুদের বিদেশী সন্দেহে নোটিশ ধরিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ডিমাও হাসাও জেলার লাংটিং সহ অন্যান্য গ্রামের বর্ডার পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে অযথা হয়রানি করছে। হোজাই জেলার লামডিং শহরে কয়েকশো হিন্দু পরিবারকে বিদেশী নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি দীপক দে জানান, অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত পঞ্চায়েতের নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট ১৫ই নভেম্বর চূড়ান্ত রায় দেবে। এই রায় যদি আমাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে প্রায় ত্রিশ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং মুসলমানদের নাম নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পরবে। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে আসা নাগরিকদের নাম সন্নিবিষ্ট করে নতুন করে একটি নাগরিকপঞ্জীর খসড়া প্রকাশ পাবে। জাতীয়তাবাদী সংগঠন গুলো প্রকৃত বাসিন্দা বলে নাগরিকপঞ্জীতে শ্রেণী বিভাজন চাইছে। কিন্তু আমরা চাইছি ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ অবধি আসা নাগরিকদের নাম সন্নিবিষ্ট করে একটা শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী প্রস্তুত করা হোক।
চিত্তবাবু বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বরাক উপত্যকায় এসে ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর অবধি আসা হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের বি জে পি সরকার সেই প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী কাজ করছে। বাস্তবে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে আসা হিন্দু বাঙালিদের নানা ভাবে হয়রানি করে চলেছে। রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাগরিককে সন্দেহজনক বিদেশী বলে চিহ্নিত করেছে। এরইমধ্যে নব্বই শতাংশই হিন্দু বাঙালি নাগরিক। অসমে ৬-টি ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকাধীন নাগরিকদের মধ্যে আশি শতাংশ নাগরিক হিন্দু বাঙালি। এবং তাঁরা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত সংখ্যালঘু শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি সম্প্রদায়কে পরিত্রাণ দিতে ১৯২০ সালের পাশপোর্ট আইন এবং ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স আইন থেকে তাদের রেহাই দিয়েছে।
প্রয়াত শিল্পী ডঃ ভূপেন হাজিরিকার নামে টালিগঞ্জের একটা পথের নামকরণ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আর্জি জানান তারা। একই সঙ্গে হিন্দু বাঙালিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গুলো নিয়ে অচিরেই জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিল সহ জেনিভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনেরও দারস্থ হতে চায় ফেডারেশন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s