রাজনগরে সরকারি ছাত্রাবাসে মিলছে না খাবার, মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছে আদিবাসী পড়ুয়ারা

বাড়ি থেকে আনা শুকনো মুড়ি জল দিয়ে ভিজিয়ে খেয়েই কোনও রকমে দিন কাটাচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রাজু বাউরি, বিনয় হেমব্রমরা। সরকারি ছাত্রাবাসে থেকেও স্কুলের মিডডে মিল ছাড়া আর কোনও খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধপেটা খেয়ে জীর্ণ দশা ছাত্রদের। পড়াশুনা করার ইচ্ছার জোরেই খাবারের অভাবে অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বীরভূম জেলার সিউড়ি মহকুমার রাজনগর ব্লকের লাউজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ জন আদিবাসী  ছাত্র। ঘনিষ্ঠ মহলে ছাত্রদের দুর্গতির কথা স্বীকার করে নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দোষ চাপিয়েছেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের উপর। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। অনগ্রসর ছাত্রদের অভুক্ত অবস্থায় থাকার খবর পেয়েই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী চূড়ামণি মাহাত।

রাজনগর ব্লকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের কয়েকটি ছাত্রাবাস রয়েছে। লাউজোড়েও বেশ কয়েক বছর আগে একটি ছাত্রাবাস তৈরি করা হয়। আদিবাসী অধ্যুষিত ব্লকে প্রথমে ৯০ জনের বেশি ছাত্র থাকা শুরু করে। সেখানে রাজনগর ব্লক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দুবরাজপুর ব্লকের ছাত্ররাও ভরতি হয়। হস্টেলে থেকে ভালো পড়াশুনার আশায় অনেক দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানকে ভরতি করেন। কিন্তু যত সময় গিয়েছে হস্টেলের মানের অবনতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। খাবারের মান খারাপ হতে শুরু করে। এমনকী, খাবার দেওয়াও অনিয়মিত হয়ে যায় বলে অভিযোগ। একইভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ঢিলেঢালা। যার জেরে হস্টেলে ছাত্র সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে এখানে ২৫ জন ছাত্র রয়েছে। কিন্তু চলতি বছর থেকে ছাত্রদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে শুরু করে। খাবার দেওয়া ও রাতের জন্য হস্টেলে রান্না প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। খিদে পেটেই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হয় এই দরিদ্র পরিবারের ছেলেগুলিকে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ২০১৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলা ছাত্ররা। একদিকে পড়াশুনার চাপ, অন্যদিকে খাবারের সংকটে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা তাদের।

অন্যদিকে, হস্টেল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেলেও পড়তে হবে সমস্যায়। পুজোর ছুটি কাটিয়ে ২৫ জন ছাত্রের মধ্যে ৭ জন ছাত্র এসেছে হস্টেলে। তারা বেশ কয়েকদিন এলেও একদিনও তাদের জন্য রান্না হয়নি। স্কুলের মিডডে মিল খেয়ে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছে তারা। রবিবার ছুটি থাকায় মিডডে মিল হচ্ছে না। সেই দিনগুলোয় সমস্যা আরও বেশি। মনসা মুর্মু, রাজু বাউরিরা বলে পড়াশুনার জন্য বাধ্য হয়ে একপ্রকার না খেয়েই আমাদের এই হস্টেলে থাকতে হচ্ছে। আমাদের দেখাশোনার জন্যও কেউ নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সমস্যার কথা বললে তিনি বলেন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর থেকে টাকা দেয়নি বলেই রান্না হচ্ছে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ ডোম ঘনিষ্ট মহলে বলেন, ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ধার হয়েছে হস্টেল চালাতে গিয়ে। কোনও টাকা আসছে না, বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। যদিও এবিষয়ে প্রধান শিক্ষককে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন। পরে ফোন সুইচ বন্ধ করে দেন।

জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ আধিকারিক মলয় রায় বলেন, কোনও টাকা দেওয়া বাকি নেই। ছাত্ররা অভুক্ত থাকবে এটা মেনে নেওয়া হবে না। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাত বলেন, বিষয়টি জেলা আধিকারিককে দিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে, কোনও অবহেলা বা অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s