লন্ডনের হাউস কমন্স সভায় বক্তব্য রাখলেন হিন্দু সংহতির প্রাণ পুরুষ তপন ঘোষ

গত ১৮ই অক্টোবর লন্ডনের হাউস কমন্স-এ এক আলোচনাসভার প্রধান বক্তা ছিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। এই অনুষ্ঠানটির যৌথভাবে  আয়োজন করেছিল বৃটিশ বোর্ড অফ হিন্দু স্কলার্স এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ হিন্দু টেম্পলস (UK)।  এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি বব ব্লাকমান। আলোচনার বিষয় ছিল ‘Tolerating the Intolerant’ । তপন ঘোষ মহাশয় তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুর সহিষ্ণু হবার ফলে আজ বাঙালি হিন্দুর অস্তিত্ব বিপন্ন-কথা তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ” জমি দিয়ে দিলেই জিহাদি আগ্রাসন থেমে যাবেনা সেটা ১৯৪৭-এ দেশভাগের পরে প্রমাণ হয়ে গেছে। তৎকালীন নেতারা হয় অজ্ঞ ছিলেন বা ইচ্ছা করে আমাদেরকে সত্যটা বুঝতে দেননি। গান্ধার, সিন্ধ প্রদেশ,পশ্চিম পাঞ্জাব একসময় যা আমাদের ছিল,তা আজ আর আমাদের নেই। কারণ আমরা সহিষ্ণু। আজ বাঙালি হিন্দু সহিষ্ণু হবার ফলে আজ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর অস্তিত্বই বিপন্ন”। এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর সংখ্যা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন,”দেশভাগের পর ৮১ শতাংশ হিন্দুর রাজ্যে আজ হিন্দু ৭০শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে,যদিও দেশভাগের পর প্রচুর সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী বাংলায় আশ্রয় নিয়েছিল। আর এটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম অনুপ্রবেশের ফলে”। তিনি  বক্তব্যে গ্রাম বাংলার সাধারণ হিন্দুরা যে জিহাদি মুসলিমদের দ্বারা আক্রান্ত, সেকথা বলতে গিয়ে বলেন,”আজ আপনারা পশ্চিমের দেশগুলি লস্কর-ই-তৈবা নিয়ে আতঙ্কিত। কিন্তু আমাদের গ্রাম বাংলার সাধারণ হিন্দুরা তারা কোনোদিন লস্কর নিয়ে চিন্তিত নয়। গ্রামে লস্কর জঙ্গি নয়,তবু তারা আতঙ্কিত ও ভীত, তাদের বাড়িঘর আক্রান্ত । আর নির্বাচনী গণতন্ত্র এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।  তাদের বাড়ির মেয়েদেরকে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আমি এটাকে ফ্রড-জিহাদ বলতে চাই।কারণ হিন্দু মেয়েদেরকে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে ঠকানো হো।  আমি যখনই পশ্চিমি দেশগুলিতে আসি, তখনই আমি মানবধিকার লঙ্ঘনের কথা শুনি। কিন্তু আমরা যেখানে বাস করি, যেখানে  আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন,সেখানে মানবধিকার নিয়ে ভাবাই যায় না”। তিনি তার বক্তব্যে ইসলামিক জঙ্গি তৈরির কারখানা মাদ্রাসার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ”যদি কোনো ৫-৬ বছর বয়সের বালক বা বালিকাকে মাদ্রাসায় জিহাদ শেখানো হয়,তাহলে সে একদিন নিজেকে উড়িয়ে দেবে না কি ?”তিনি আরো বলেন যে তার সংগঠন হিন্দু সংহতি পশ্চিম বঙ্গে হিন্দু ডিফেন্স ফোর্স তৈরির কাজে হাত দিয়েছে, কারণ পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা কাশ্মীরের মতো হতে দিতে চাই না। হিন্দু সংহতি বাংলায় প্রতিরোধ মানসিকতার জন্ম দিতে চায়। তিনি প্রতিরোধ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বলেন,”বাংলার হিন্দুর পায়ের তলার মাটি,মা-বোনের ইজ্জত,মঠ -মন্দির বাঁচানোর জন্যে আজ লড়াই-এর প্রয়োজন। অনেকেই বলেন যে হিন্দু লড়াই করতে পারে না। আমি এই ধারণায় বিশ্বাসী নই। আমি বিশ্বাস করি যে  হিন্দু কোনোদিন লড়াইতে হারে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্ন শ্রেণীর যারা তারা যথেষ্ট লড়াকু। আমাদের কর্তব্য তাদেরকে সম্মান করা, তারা যে শ্রদ্ধা পাবার যোগ্য তা তাদেরকে দেওয়া”। তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন যে হিন্দু সংহতি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে রাজনীতি করে হিন্দুর ভালো করা যাবে না।  তারপর তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s