গোধরা ৫৯ জন হিন্দুকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা বদলে গেলো যাবজ্জীবনে

গোধরা কাণ্ডে (২০০২) মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনের ফাঁসির সাজা মকুব করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল গুজরাত হাইকোর্ট। পাশাপাশি আরও ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রইল। গত ৯ ই অক্টোবর,সোমবার গুজরাত হাইকোর্ট এই রায় দেয়। হাইকোর্ট জানিয়েছে, সেদিন রাজ্য সরকার এবং রেল কর্তৃপক্ষ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই, এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে (বা নিকটাত্মীয়কে) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাদেরই। ঘটনাটি ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির। অযোধ্যা থেকে করসেবকরা ফিরছিলেন সবরমতী এক্সপ্রেসে। গোধরা স্টেশনের কাছে ট্রেনের ‘এস-৬’ কামরায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে ৫৯ জন প্রাণ হারান। এর প্রেক্ষিতে গুজরাত জুড়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়। তাতে ১ হাজার ২০০ জন প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম। বিচারপতি অনন্ত এস দাভে এবং বিচারপতি জি আর উধওয়ানির বেঞ্চ সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ১১ জনের ফাঁসির সাজা মকুব করেছে। বিশেষ সিট আদালতের দেওয়া ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশও বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মৃতের পরিবার বা নিকটাত্মীয়কে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার এবং রেল মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় যাঁরা জখম হয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শুনানি হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পর রায় ঘোষণার জন্য আদালতের তরফে এদিন দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। ৬৩ জনের অভিযুক্তের অভিযোগ খারিজের জন্য সিটের তরফে যে আবেদন করা হয়েছিল, আদালত অবশ্য তা খারিজ করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১ মার্চ বিশেষ সিট আদালত গোধরা মামলায় ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয় ৬৩ জনকে। ৩১ জনের মধ্যে ১১ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। বাকি ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রত্যেকেই গুজরাত হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত অবশ্য এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মৌলানা উমরজি, গোধরা মিউনিসিপ্যালিটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ হুসেন কালোটা, মহম্মদ আনসারি এবং উত্তরপ্রদেশের গঙ্গাপুরের নানুমিয়া চৌধুরিকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছিল। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য গুজরাত সরকার বিচারপতি নানাবতীর কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন জানিয়ে দেয় দুর্ঘটনাবশত নয়, সবরমতী এক্সপ্রেসের ‘এস-৬’ কামরায় চক্রান্ত করেই আগুন লাগানো হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s