হিন্দু সংহতির উদ্যোগে কোচবিহার থেকে উদ্ধার শান্তিপুরের শ্রাবনী, গ্রেফতার শেখ অলিকুল ইসলাম

রাজ্যে নাবালিকা হিন্দু মেয়েদের ফুঁসলিয়ে অপহরণ করার প্রবণতা দিনকে দিন উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েই চলেছে।সম্প্রতি হিন্দু সংহতি’র উদ্যোগে তেমনই এক নিখোঁজ নাবালিকা উদ্ধার হল কোচবিহার থেকে। অভিযোগ, শান্তিপুর এলাকার ফুলিয়া অঞ্চলের মেয়ে ১৪ বছরের শ্রাবনী দাস’কে (নাম পরিবর্তিত) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফাঁসায় কোচবিহারের তুফানগঞ্জের লাভ জেহাদী শেখ অলিকুল। আপাতত সে বাছাধনের ঠাঁই হয়েছে শ্রীঘরে।

খবরে প্রকাশ, নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ফুলিয়ার বাসিন্দা শ্যামাপ্রসাদ দাসে’র (নাম পরিবর্তিত) ভাইয়ের তাঁত চালাতো অলিকুল, সংক্ষেপে অলি। গতবছর সেখানেই তার সঙ্গে আলাপ, বছর তেরো’র শ্রাবনী’র; যা প্রনয়ে পরিণত হতে দেরি হয়না মোটেই। বিষয়টি নজরে আসায়, বিপদ আঁচ করেই সাত-তাড়াতাড়ি বাড়ির তাঁতের কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয় অলিকুলকে।কিন্তু শিকারকে ভোলে না শিকারী। গোপনে যোগাযোগ করতে থাকে সে।

ঘটনায় প্রকাশ, হঠাৎ-ই এই বছরের ভাইফোঁটা’র দিন ১লা নভেম্বর পাশের গ্রাম ফুলিয়া পাড়ায় পিসির ছেলেকে ফোঁটা দেবার নাম করে বাড়ী থেকে বেরিয়ে আর ফেরে নি স্থানীয় ফুলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রীটি। উদ্বিগ্ন প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাশের একটি সাইকেল গ্যারেজে সাইকেল রেখেই নিরুদ্দিষ্ট হয় শ্রাবণী। তারপর থেকে মেয়েটির সঙ্গে ফোনে যতবারই যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই তার মোবাইল সুইচড অফ থাকায় পরিবারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।এরই মাঝে শ্রাবনী’র তার এক বান্ধবীকে ফোন করার সূত্র ধরেই অলিকুলে’র তাকে নিয়ে পালাবার ঘটনাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে।

শোকে প্রায় উন্মাদ হয়ে বিষয়টি থানায় জানাতে গিয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় মেয়ের বাবা পেশায় তাঁত ব্যবসায়ী শ্যামাপ্রসাদ বাবু উদভ্রান্তের মত যোগাযোগ করেন স্থানীয় হিন্দু সংহতির যুবকদের সঙ্গে।এরপরেই শুরু হয় আসল কাজ। প্রকৃত অর্থে তাদের চাপে পড়েই অবশেষে শান্তিপুর থানা এফআইআর (Shantipur PS, Case No. 564/16; Dt. 06/11/2016) নিয়ে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য হয়।পুলিশ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৬৩ এবং ৩৬৫(আইপিসি) ধারায় মামলা রজু করে। কিন্তু এর মধ্যেই পেরিয়ে গেছে ছয়-ছয়টি মহামুল্যবান দিন।অথচ এরপরেও তদন্তে গতি না আসায়, স্বভাবতই তদন্তকারী পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে ঢিলে ঢালামির অভিযোগ উঠতে থাকে।শুধু তাই নয়, এমনও কথা শোনা যায় যে, পুলিশের এই দায়সারা ভাবই নাকি সেই নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে অভিযুক্তকে সাহায্য করে।

পরবর্তি ১৯শে নভেম্বর, থানায় প্রশ্ন করে কোন সদুত্তর না পেয়ে পুনরায় ঐ মাসেরই ৩০তারিখে কেসটির বিষয়ে প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন হিন্দু সংহতির জনৈক প্রতিনিধি।কিন্তু পুলিশের তরফে অদ্ভুত উদাসীনতায় প্রমাদ গোনেন তিনি।এরপর বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে জেলাস্তরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারীকের নজরে আনা হয় পুরো বিষয়টি। শেষপর্যন্ত তারই হস্তক্ষেপে নড়েচড়ে বসে শান্তিপুর থানা।পুলিশের প্রথমিক তদন্তে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশান থেকে মেয়েটির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।দেখা যায়, সে এখন কোচবিহারে রয়েছে।

ফলতঃ ১লা ডিসেম্বরেই পুলিশের একটি অনুসন্ধানকারী দল বৃথাকালক্ষেপে শ্রাবনীর বাবাকে নিয়ে কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যায় এবং অবশেষে স্থানীয় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে শেখ অলিকুলের খপ্পর থেকে তাকে উদ্ধার করে মেয়েটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। নাবালিকা ফুঁসলিয়ে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার করা হয় লাভ জেহাদী শেখ অলিকুল ইসলাম’কে। আদালতের নির্দেশে সে বর্তমানে তুফানগঞ্জ জেল হেফাজতেই রয়েছে।