হাতকাটা নাসিরুল্লাকে জেরায় জানা গেলো – জঙ্গিদের এদেশে ঢোকার নতুন রাস্তা মুর্শিদাবাদের রামনগর

মুর্শিদাবাদের রামনগরকে এখন জঙ্গি সংগঠনগুলি নতুন করিডর হিসাবে ব্যবহার করছে। নব্য জেএমবি এবং আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের সদস্যরা এই এলাকা দিয়েই বারবার বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসছে এবং ফিরেও যাচ্ছে। তাদের সাহায্য করছে বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের হাত ধরেই জেহাদিরা পেয়ে যাচ্ছে ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে অভিযুক্ত হাতকাটা নাসিরুল্লা ধরা পড়ার আগে সীমান্ত পেরিয়ে এই এলাকা দিয়ে একাধিকবার এ রাজ্যে এসেছে। বাংলাদেশে গিয়ে তাকে জেরা করার পর এই তথ্য পেয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জঙ্গিদের পারাপারে সাহায্য করে এমন কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
বাংলাদেশ পুলিশের হাতে বন্দি রয়েছে খাগড়াগড়কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত হাতকাটা নাসিরুল্লা। ধরা পড়ার পর তাকে জেরা করে এসেছেন এনআইএ-র একটি তদন্তকারী দল। রাজ্যে নব্য জেএমবির শিকড় কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে, কারা সংগঠনের হয়ে কাজ করছে এবং স্থানীয়দের কী রকম সাহায্য মিলছে, তা নিয়েই মূলত তাকে জেরা করেন আধিকারিকরা। তখনই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে এ রাজ্যে যাতায়াত করেছে হাতকাটা নাসিরুল্লা। মুর্শিদাবাদে জেএমবির ঘাঁটি থাকায় সহজে যাতে সীমান্ত পেরিয়ে এখানে আসা যায়, সেই রাস্তা খুঁজছিল নাসিরুল্লা। স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানায়, মুর্শিদাবাদের রামনগর এলাকা পারাপারের পক্ষে অত্যন্ত নিরাপদ। এরপর থেকে এই রুটেই ভারতে আসা শুরু করে সে। এই কাজে তাকে সাহায্য করত তিনজন। যাদের নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত রয়েছে। ওপার বাংলায় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে এনআইএ জানতে পারছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা নির্দেশমতো রামনগরের কিছু বাসিন্দা জেহাদিদের ভারতে ঢোকাচ্ছে বলে খবর। জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের থাকার ঘরের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পরিচয়পত্র তৈরিতে তারাই সাহায্য করছে। এ জন্য মোটা অঙ্কের টাকা পাচ্ছে তারা। নাসিরুল্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার পরও এই রুটই ব্যবহার করেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে নতুন করিডর হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের রামনগর। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও ওপার বাংলা থেকে এই পথেই আসছে আগ্নেয়াস্ত্র। এ রাজ্য ছাড়াও নব্য জেএমবি’র সদস্যরা অন্যত্র যেসব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, তাদের কাছে যাচ্ছে এসব। নাসিরুল্লার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর এনআইএ-র তদন্তকারী একটি টিম মুর্শিদাবাদে যায়। জেলা পুলিশের সঙ্গে এই নিয়ে কথাও বলে তারা। এরপর স্থানীয় পুলিশকর্তাদের সঙ্গে নিয়েই ওই এলাকায় যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের পারাপারে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদের খোঁজ করা হয়। কয়েকজনের সঙ্গে এলাকাতেই কথা বলেন তাঁরা। পরে দু’জনকে এনআইএ অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। নাসিরুল্লার সঙ্গে তাদের পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তাদের জেরা করার পর তদন্তকারী অফিসাররা নিশ্চিত, পারাপারে সাহায্য করা ব্যক্তিদের সঙ্গে এ রাজ্য ও সীমান্তের ওপারের জঙ্গি গোষ্ঠীর বড় মাপের নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে কিছু প্রমাণ এসেছে আধিকারিকদের কাছে। একাধিকবার তাদের ফোনও গিয়েছে বাংলাদেশে। নাসিরুল্লা ছাড়াও নব্য জেএমবি’র বিভিন্ন নেতাকে তারা এই রুটেই এ রাজ্যে নিয়ে এসে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তারা কারা, তা জানার চেষ্টা করছে এনআইএ।

Advertisements