হাওড়া সহ কলকাতার আশেপাশেই ঘাঁটি গেড়েছে IS জঙ্গিরা! রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের

isisএরাজ্যে যে ক্রমশ জঙ্গি আতঙ্ক বাড়ছে সেই সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। এবার পশ্চিমবঙ্গের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এরাজ্যে কোথায় কোথায় রয়েছে জঙ্গিদের ‘স্লিপার সেল’ আর কারাই বা আইএসে নিয়োগ করছে, সেই তথ্য জানতে চাইল কেন্দ্র। কিছুদিন আগেই ঢাকার তরফ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছিল যে সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকেছে প্রচুর জেএমবি ও হুজি জঙ্গি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, অসম, ত্রিপুরার হাইলা ও কান্দি এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল, এমনকি হাওড়াতেও ঢুকে আশ্রয় নিচ্ছে জঙ্গিরা। গত দু’বছরের তুলনায় সেই অনুপ্রবেশের সংখ্যাটা বেড়েছে তিন গুন। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্ট এমন তথ্যও উঠে এসেছে যে এরাজ্যের কিছু আইএস সমর্থক নাকি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে রাক্কা, সিরিয়ার আইএস হ্যান্ডলারদের সঙ্গে। কিন্তু, কিভাবে এই যোগাযোগ করা হচ্ছে সেটা গোয়েন্দাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে এরাজ্যে আইএস জঙ্গিদের উপস্থিতির বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে।
জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে মুম্বইয়ের এক ট্রাভেল এজেন্ট জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের ২৭ জন বাসিন্দা হজে গিয়ে আর ফেরেননি। তাদের ব্যাপারে কোনও খোঁজখবরও পাওয়া যায়নি। অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াডকে এই তথ্য জানান ওই এজেন্ট। তারপরেই এপ্রিল মাসে বীরভূম থেকে ১.৮ লক্ষ ডিটোনেটর উদ্ধার করা হয়। যা তেলেঙ্গানার রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকা একটি ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ট্রাকের চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্ধমান থেকে ধৃত মহম্মদ মাসিরুদ্দিন ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইএসের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে। জানা গিয়েছে এরাজ্যে আইএসের নেটওয়ার্ক ক্রমশ শক্তপোক্ত হচ্ছে। ২০১৬-র ৪ জুলাই মুসাকে গ্রেফতার করার পর আইএসের ছক বানচাল হয়ে যায় বলে গোয়েন্দাদের দাবি। রাজ্য সরকারকে এব্যাপারে নিয়মিত বিএসএফের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্র। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।