হনুমানজয়ন্তীর মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার সিউড়ি, পুলিশের লাঠিচার্জ

hunu.gifগত ১১ই এপ্রিল হনুমান জয়ন্তীর মিছিল করা নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সিউড়ি। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন মিছিলকারীরা। লাঠিচার্জ করল পুলিশ।
হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ মিছিল করার জন্য বেশ কয়েকদিন আগে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। এরপর গত রবিবার রাতে পুলিশের তরফে মঞ্চের সদস্যদের জানানো হয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সকালে মঞ্চের সদস্য এবং মিছিলে অংশগ্রহণে ইচ্ছুকরা জমা হন ভারত সেবাসংঘের সামনে। পুলিশও হাজির হয় সেখানে। জানিয়ে দেয় কোনওভাবেই মিছিল করতে দেওয়া হবে না। কারণ পুলিশ ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর ওই মিছিল করার অনুমতি দেয়নি। এরপরেই শুরু হয় বচসা। মিছিলকারীরাও তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
এই ঘটনাটিকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হিন্দু সংহতির মাননীয় সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রী তপন কুমার ঘোষ মহাশয়। তিনি বলেছেন, “আজ বীরভূম জেলার সদর সিউড়িতে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের উপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জের ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা করছি।
জেলা প্রশাসন প্রথমে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েও পরে কোনো গোষ্ঠীর চাপে তা প্রত্যাহার করে নেয়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আরো বেশি দুর্ভাগ্যজনক যে পশ্চিমবঙ্গে শুধু হিন্দুদেরকেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। অন্য সম্প্রদায় বিনা অনুমতিতে সারা বছর উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অগণিত অনুষ্ঠান সারা রাজ্যব্যাপী প্রশাসনের বিনা হস্তক্ষেপে করে চলেছে। অথচ এই বীরভূম জেলাতেই মল্লারপুরে গত অক্টোবর মাসে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় হিন্দু যুবক ইন্দ্রজিৎ দত্ত খুন হয়েছে। নলহাটির কাংলাপাহাড়ি গ্রামে মুসলিমদের আপত্তিতে ও প্রশাসনের বাধায় দীর্ঘদিন হিন্দুরা দুর্গাপূজা করতে পারেনি। আরো কয়েকবছর আগে মহম্মদবাজারে পাঁচামিতে আদিবাসী গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। খয়রাশোল, কাঁকরতলা, দুবরাজপুর, হেতমপুরে বার বার হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছে ও হচ্ছে। এসব দেখে ও সহ্য করতে করতে হিন্দুদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে হিন্দুদের ধর্মীয় শোভাযাত্রার উপর পুলিশের লাঠিচার্জ আরো উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইন্ধন যোগাবে। তাই রাজ্য ও জেলা প্রশাসনকে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলির প্রতি আর একটু সংবেদনশীল হতে।
হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে আমার দাবী, সিউড়িতে হনুমান জয়ন্তী শোভাযাত্রার উপর বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করার আদেশ যে অফিসার দিয়েছেন তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। অত্যাচারকারী পুলিশদেরকে শাস্তি দিতে হবে, গ্রেপ্তার হওয়া সমস্ত হিন্দুদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।”

Advertisements