সার্জিকাল স্ট্রাইকের অজানা গল্প শোনালেন মেজর ট্যাঙ্গো

সার্জিকাল স্ট্রাইক! প্রথমটায় শব্দটার মানে বুঝতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল। পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে কীভাবে ভারতীয় সেনা পাক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে এসেছিল, সে গল্প ঘুরেছিল মুখে মুখে। কিন্তু যে জওয়ানদের সাহসে ভর করে সেদিন উরি হামলার বদলা নিয়েছিল ভারতীয় সেনা, তাঁদের গল্পটা কেমন? সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়াস মোস্ট ফিয়ারলেস: ট্রু স্টোরিস অব মর্ডান মিলিটারি হিরোস’ বইয়ে সার্জিকাল স্ট্রাইকের নেতৃত্বে থাকা মেজর ট্যাঙ্গো এক আশ্চর্য কাহিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত পেরিয়ে পাক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা যতটা কঠিন ছিল, তার চেয়ে কয়েকগুণ কঠিন ছিল অপারেশন সেরে প্রাণ হাতে করে ফিরে আসা।
সেনার তরফে যখন সার্জিকাল স্ট্রাইকের জন্য আলাদা করে জওয়ানদের তালিকা বাছাই করা হয়েছিল। উরি হামলায় হত ১৯ ভারতীয় সেনার সহযোদ্ধাদের নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়। ট্যাঙ্গো জানিয়েছেন, যোদ্ধাদের মধ্যে যাতে প্রতিশোধের ইচ্ছা থাকে, তাই এই পরিকল্পনা। কয়েকজন গুপ্তচর নিয়োগ করে পাক জঙ্গি ঘাঁটির খোঁজ নেয় ভারতীয় সেনা। তৈরি করা হয় হামলার নকশা। মেজর জানাচ্ছেন, শুরু থেকেই একটা আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করছিল। তিনি ভেবেছিলেন, যদিও বা ভিতরে ঢুকে হামলা চালানো যাবে, কিন্তু ফিরে আসার সময়টাই হবে সবেচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। কেননা, তখন পিঠ থাকবে পাকিস্তান সেনা ঘাঁটির দিকে। সহজেই ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারবে পাক সেনা। সেই জন্যই ফেরার রাস্তা নিয়ে একটু অন্যরকম পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। যে পথে হামলা চালানো হয়, সে পথ না নিয়ে ঘুরপথে দেশে ফেরার নকশা করা হয়। কিন্তু সে রাস্তা ছিল অনেকটাই বেশি। তিনটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে প্রথমে সেনার তিনটি দল একটি স্থানে মিলিত হয়। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে ফেরা শুরু। মেজর ট্যাঙ্গো লিখেছেন, ফিরতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর থেকেই পাক সেনা গুলি চালাতে শুরু করে। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই বর্ণনায় ট্যাঙ্গো লিখেছেন, ‘কানের পাশে দিয়ে এক একটি গুলি চলে যাচ্ছিল। মশা উড়লে যেমন বিপ বিপ শব্দ হয়, গুলির তেমনই শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। দীর্ঘ রাস্তা বুকে হেঁটে পার করে দেশে ঢুকেছিলাম ভোর সাড়ে চারটের সময়। আমাদের ক্ষতি করতে পারেনি পাক সেনা।’

Advertisements