লাভ জেহাদের শিকার অসহায় নবনীতার বর্তমান ঠিকানা সরকারী হোম

গত কালকের “এই সময়” (22.11.16) পত্রিকায় একটা খবর বেরিয়েছে যার পরিণাম হিন্দুর জন্য অশনি সংকেত। নাবালিকা হিন্দু কন্যা নবনীতা সরকার ধর্ম পাল্টে জন্নত বিবি হয়েছে। রাইসুদ্দিন শেখ তাকে বিয়ে করেছে। নবনীতার গর্ভে এখন তার আট মাসের সন্তান। রাইসুদ্দিন আগাম জামিন চাইতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
এই ঘটনা আগেও ঘটেছে হয়েছে। নাবালিকা হিন্দু মেয়ে অপহৃতা হয়েছে, অথবা লাভ জেহাদের শিকার হয়েছে। তারপর মুসলিম ছেলে বা লোক (অনেকক্ষেত্রে আগে থেকেই বিবাহিত) ওই নাবালিকা হিন্দু মেয়েটিকে বিয়ে করল। কিন্তু ওই মুসলিম ছেলেটি যথেষ্ট ধর্মপ্রাণ। কোরানের স্পষ্ট আদেশ অনুসারে কোন মুসলিম পুরুষ কোন অমুসলিম নারীকে বিবাহ করতে পারে না। সেই আদেশ মান্য করে মুসলিম ছেলেটি ওই হিন্দু মেয়েকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করল। তারপর ইসলাম ধর্মের নিয়মে নিকাহনামা স্বাক্ষর করে বিয়ে করল।

এতে অসুবিধাটা কোথায় হল? সাধারণ মানুষের সেটা নজর এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু যারা আইন জানে, সেই পুলিশ প্রশাসনের তো নজর এড়িয়ে যেতে পারে না! মেয়েটি যেহেতু নাবালিকা, তার বয়স ১৮ বছর হয়নি, সে নিজে থেকে ধর্মান্তরিত হয় কি করে? তার বাবা-মা, অথবা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি ছাড়া সে তো ধর্মান্তরিত হতে পারে না। কখনোই পারে না। তাহলে যে মৌলবী, বা ইমাম ওই নাবালিকা হিন্দু মেয়েটিকে কালিমা পড়িয়েছেন, ইসলামে ধর্মান্তরিত করেছেন – তিনি তো চরম বেআইনি কাজ করেছেন। শুধু বেআইনি নয়, ঘৃণ্য ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন! মেয়েটির বাড়ি থেকে যখনই থানায় অভিযোগ এসেছিল, এবং অভিযুক্তের নাম দিয়ে, তাকে চিহ্নিত করে অভিযোগ এসেছিল, তখন পুলিশের তা নজরে পড়েনি? যে মুসলিম ছেলেটি অপহরণ করেছে, অথবা নাবালিকাকে বিয়ে করেছে, সে তো অন্যায় করেছেই। কিন্তু যে মৌলবী নাবালিকা ধর্মান্তরণের এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন, তাঁর এই সম্পূর্ণ অবৈধ কাজের দিকে পুলিশের নজর গেল না কেন? পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে কেন তাঁকে গ্রেফতার করল না? নাকি পুলিশের দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গে ইসলামিক শাসন স্থাপিত হয়ে গেছে? এবং শরীয়ত আইন অনুসারে এখানে রাজ্য চলছে?
আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সব সময়ের আচরণ, ব্যবহার ও কথাবার্তা দেখে পুলিশ অফিসারদের হয়ত তা মনে হতে পারে। কিন্তু তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তো মনে করি, পশ্চিমবঙ্গ এখনো ভারতের অঙ্গ। এখনো এখানে ভারতের সংবিধান চলছে। শরীয়তী আইন নয়।
নাবালিকা নবনীতা সরকারকে যেভাবে মুসলিম করা হল, ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হল, তা যদি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে কি সর্বনাশ হয়ে যাবে তা কেউ কল্পনা করতে পারছেন কি? আট বছরের মেয়েকে বা ছেলেকেও তো ভুলিয়ে ভালিয়ে, একটা ক্যাডবেরি দিয়েও কলমা পড়িয়ে মুসলমান করে নেওয়া যাবে। বাড়িতে মা-বাবা একটু বকাঝকা করল। এক প্রতিবেশী মুসলমান আদর করে বাচ্চাটিকে ডেকে নিয়ে গেল। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলল। ক্যাডবেরী চকলেট দিয়ে স্থানীয় মসজিদে মৌলবীর কাছে নিয়ে গিয়ে কলমা পড়িয়ে মুসলমান করে দিল। কিছু পরে বাচ্চাটির রাগ ভাঙলে মন শান্ত হলে সে যদি বলে আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে যাবে, তখন তো সে ইসলামের চোখে ‘মুরতাদ’ হয়ে যাবে। ইসলামে তার শাস্তি তো ভয়ংকর!
এত প্রকাশ্যে আইন ভঙ্গ করে এইসব মৌলবীগুলো পার পেয়ে যাচ্ছে কি করে? মুর্শিদাবাদ জেলায় এর আগেও এই ঘটনা ঘটেছে। মুর্শিদাবাদের এস.পি. এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডি. জি. (Director General of Police)-র কাছে এর জবাব আছে কি?
আর এটাও আশ্চর্যজনক যে কলকাতা হাই কোর্টের মহামান্য বিচারপতিদেরও এটা নজর এড়িয়ে গেল কি করে? অনেক সময় আমরা দেখেছি, হাই কোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিরা ‘সুয়ো মোটো’ মামলা করেছেন। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়ংকর বিষয়ে তাঁরা অন্ততঃ পুলিশকে বা সরকারী উকিলকে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিলো যে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নাবালিকাকে কি করে ধর্মান্তরিত করা হল। আশা করা যায়- মহামান্য হাই কোর্ট এ বিষয়ে নজর দেবেন, এবং এই মহা অন্যায় বন্ধ করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। হিন্দুধর্মের উদারতার সুযোগ নিয়ে হিন্দু ধর্মকে শেষ করে দেওয়ার এই চক্রান্ত, এই অপচেষ্টা যে কোনো মূল্যে রুখতেই হবে।