রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে লস্কর-আইএসআই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মায়ানমার সফরের শুরুতেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাকিস্তানি মদতে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম৷এক্সক্লুসিভ সেই রিপোর্ট এসেছে http://www.kolkata24x7.com এর হাতে৷ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মায়ানমারের সংবাদ মাধ্যম ‘Mizzima’. তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম, Pakistan, ISIS allegedly behind Rakhine imbroglio ‘এক্সক্লুসিভ’ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি সশস্ত্র শাখার নাম আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (ARSA)৷ এই সংগঠনের প্রধান হাফিজ তোহর৷ গত ২৩ ও ২৪ অগস্ট এই জঙ্গি নেতা দীর্ঘক্ষণ আইএসআইয়ের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছে৷ তার ফোনকল সনাক্ত করেছেন ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা৷

গত মাসের এই তারিখেই নতুন করে হিংসাত্মক পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে রাখাইন প্রদেশে৷ যার জেরে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাসিন্দা ভিটেছাড়া হয়েছেন৷ এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে শরণার্থী৷

‘Mizzima’-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কীভাবে পাক গুপ্তচর সংস্থা ও লস্কর ই তইবার মদতে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জমি শক্ত করেছে স্থানীয় রোহিঙ্গা গেরিলা সংগঠন৷

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে (পূর্বতন আরাকান) ছড়িয়ে পড়া আইএসআই নেটওয়ার্ক নিয়ে আগেই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল http://www.kolkata24x7.com. সেই সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘হাফিজের মদতপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সঙ্গে খাগড়াগড় কাণ্ডের যোগ’ নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছিল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা ও ঢাকার গুলশনে জঙ্গি হামলার সঙ্গে কেমন করে জড়িত মায়ানমারের রোহিঙ্গা জাতির গেরিলা বাহিনী৷ ধৃত বাংলাদেশি নব্য জেএমবি জঙ্গি রাজীব গান্ধীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উঠে আসে, মুম্বই হামলার মূলচক্রী লস্কর ই তইবা প্রধান হাফিজ সইদের সঙ্গে রোহিঙ্গা গেরিলা সংগঠনের যোগসূত্রের বিষয়টি৷এবার ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, শুধু জমি শক্ত করাই নয়, মায়ানমারে রীতিমতো জাঁকিয়ে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদ৷ তাকে মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই(ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স)৷

সম্প্রতি বেলজিয়াম থেকে পরিচালিত International Crisis Group রাখাইন প্রদেশের রক্তাক্ত পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দেয়৷ তাদের দাবি, মায়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের উপর হামলা চালানো একটি গোষ্ঠীর নাম হারাক্কা আল ইয়াকিন (Harakah al-Yakin) ৷ এটি রোহিঙ্গাদের গেরিলা সংগঠন৷ এই সংগঠনের নেতা আতাউল্লা৷ সে জন্মসূত্রে পাকিস্তানি নাগরিক৷ করাচিতে এক উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা পরিবারে তার জন্ম৷ পরে আতাউল্লা সৌদি আরবে চলে যায়৷ তার মদতেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের সশস্ত্র সংগঠনটি রাখাইন প্রদেশে নাশকতা ঘটাচ্ছে৷২০১৪ সাল থেকেই জঙ্গি ঘাঁটি শক্তিশালী করতে লস্কর ই তইবা ও আইএসআই মায়ানমারে কাজ করে চলেছে৷ তাদের লক্ষ্য, রাখাইন প্রদেশ সংলগ্ন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম হয়ে উত্তরপূর্ব ভারতে জঙ্গি চক্র ছড়িয়ে দেওয়া৷ রোহিঙ্গা সমস্যাকে ভিত্তি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সেই কাজে তারা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে৷

হরকত উল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশ (হুজি-বি) অনুকরণে তৈরি হয়েছে হরকত উল জিহাদ আল ইসলামি আরাকানা (হুজি-এ)৷ সংগঠনের শীর্ষ নেতা আব্দুল কুদ্দুস বর্মি৷ স্থানীয় জাতি বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে মায়ানমারের সেনা বাহিনীর উপর হামলা চালায় হুজি-এ৷শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে লস্কর ইন তইবার প্রকাশ্য ভারত বিরোধী জনসভাতেও একাধিক আরাকান রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল৷ মঞ্চে হাফিজ সইদের পাশেই ছিল রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতৃত্ব৷

বিভিন্ন সূত্র থেকে ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দাবি, হুজি-আরাকানা তাদের ট্রেনিং ক্যাম্প চালাচ্ছে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়৷ এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশ৷ আইএসআইয়ের চর মেজর সালামতের নির্দেশে এই অঞ্চলে চলছে জঙ্গি শিবির৷বাংলাদেশের এই অঞ্চলটিতে একাধিক জঙ্গি শিবির চলে৷ সম্প্রতি ত্রিপুরায় ধৃত কেএলও জঙ্গিরা জেরায় কবুল করেছিল সেই সব শিবিরে প্রশিক্ষণের বিষয়টি৷ মূলত জেএমবি ও নব্য জেএমবির বড়সড় জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়৷

Advertisements