রাষ্ট্রসংঘের সনদ যাই বলুক না, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানো হবে, মন্তব্য কিরেন রিজিজুর

rohinga.JPGরোহিঙ্গাদের মতো বেআইনি অভিবাসীরা দেশের নিরাপত্তার মুখে বড়সড় চ্যালেঞ্জ৷ ভারতীয়দের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও তারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷ তাই, অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুক রাজ্য৷ প্রতিটি রাজ্য সরকারকে এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷
৮ অগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব দিলীপ কুমার যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বেআইনি অভিবাসীরা শুধু ভারতীয়দের অধিকার রক্ষার পথে অন্তরায় নয়, নিরাপত্তার জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ৷ ’ গত কয়েক দশকে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস যে ভাবে বেড়েছে, তাতে এই বেআইনি অভিবাসীদের নিয়ে চিন্তা আরও বেড়েছে৷ কেন্দ্রের যুক্তি, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অভিবাসীদেরই টার্গেট বানায়৷ বছর খানেকের মধ্যে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা ভারতে প্রবেশ করেছে৷ এর ফলে দেশের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ তো বাড়ছেই, উপরন্তু নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সমস্যা -সহ একাধিক কারণে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে অনেকে ভারতে চলে আসছেন৷ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত সাদৃশ্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এই বেআইনি অভিবাসীদের চিহ্নিত করা যায় না৷ আর সেই সুযোগে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে গুছিয়ে বসে৷’ এই বেআইনি অভিবাসীদের চিহ্নিত করে দেশে ফেরানোর জন্য রাজ্যগুলিকে জেলাস্তরে টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র৷
ভারতে বেআইনি অভিবাসীদের সংখ্যা যে বাড়ছে , তা নিয়ে ক’দিন আগে সংসদেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু৷ গত ৯ অগস্ট তিনি জানিয়েছিলেন , রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয় কমিটিতে নাম নথিভুক্ত করা অন্তত ১৪ হাজার রোহিঙ্গা ভারতে রয়েছে৷ বেসরকারি মতে, বেআইনি রোহিঙ্গা অভিবাসীর সংখ্যা যে ৪০ হাজারের বেশি, তাও জানান রিজিজু৷ সেই রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই জম্মু, হায়দরাবাদ , হরিয়ানা , উত্তরপ্রদেশ , রাজস্থান দিল্লি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে৷ তাঁর কথায় , রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ যাই বলুক না কেন , সব রোহিঙ্গাকেই দেশে ফেরত পাঠানো হবে৷
এ দিকে , এই অভিবাসীরা যে জঙ্গিদের সফট টার্গেট , তাও এর আগে একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে৷ ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন এবং লস্কর -ই -তৈবার মতো জঙ্গিগোষ্ঠী একাধিকবার রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে৷ ২০১৩ -এর ৭ জুলাই বোধগয়ার মহাবোধী মন্দিরে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন যে হামলা চালিয়েছিল , তা মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের বদলা বলেই দাবি করেছিল তারা৷ লস্করের বোমা প্রস্তুতকারক আব্দুল করিম টুন্ডা জেরার মুখে স্বীকার করেছিল , রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গিশিবিরে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা৷ হাফিজ সইদও একাধিকবার রোহিঙ্গাদের সমর্থনে কথা বলেছেন৷ এ দিকে , প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন চলছে৷ কাশ্মীরেও অশান্তি লেগে রয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে বেআইনি অভিবাসীদের নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কেন্দ্র৷ নির্দেশিকায় সেটাই স্পষ্ট৷

Advertisements