রামপুরহাটের দুটি স্কুলে হল না সরস্বতী পুজো

দুটি প্রাথমিক স্কুলে হল না সরস্বতী পুজো। যার জেরে স্কুলে বিক্ষোভ দেখাল পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের পশ্চিম চক্ররের আখিরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়ারা জানিয়েছে, প্রতিবছর সরস্বতী পুজো হয় স্কুলে। পুজোর দিনটিতে পথ চেয়ে বসে থাকে তারা। কিন্তু, এবার বিনা নোটিসে পুজো বন্ধ করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করল পুজো ? এক্ষেত্রে আখিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কালামের যুক্তি, পুজোর কোনও ফান্ড নেই। সে কারণে নাকি পুজো করা যায়নি। যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়ারা। যদিও পরে স্বরস্বতীর ফোটো নিয়ে এসে স্কুলে পুজোর আয়োজন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবছরেও পুজোর দিন স্কুলের পুজোয় অংশ নিতে আসে পশ্চিম চক্ররের আখিরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা। কিন্তু, তারা দেখে স্কুল গেটে তালা মারা। বুঝতে বাকি থাকেনি যে এবারে পুজোর আয়োজন করা হয়নি। ছাত্রছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রতিবছর স্কুলে পুজোর আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবারে কেন করা হল না ? সেই প্রশ্ন তোলে তারা। খবর যায় অভিভাবকদের কাছে। তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্কুল ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ফোন করে ডাকা হয় প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কালামকে। তিনি বলেন, ফান্ড নেই। আর স্কুল পরিদর্শক জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও ছাত্রর কাছে চাঁদা নেওয়া যাবে না। তাই অর্থের অভাবে পুজো করা হচ্ছে না। প্রায় একই যুক্তি দেন সুরেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমার সাহা। তাঁর বক্তব্য “স্কুল অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক চাঁদা তুলতে মানা করেছেন। তাই অর্থাভাবে পুজো করা যায়নি। তবে আগামী বছর থেকে যেভাবেই হোক পুজো করব।”

তবে অর্থাভাবের কারণে পুজো না হওয়ার যুক্তি ধোপে টেকেনি। কুসুম্বা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পম্পা সাহা জানান, “প্রতি বছর পুজো হয়ে আসছে। এবার পুজো হবে না সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কিছু জানাননি। অর্থের অভাব থাকলে আমাদের বলতে পারতেন।”

দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুল পরিদর্শকের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে স্বরস্বতী পুজো করেননি বলে যুক্তি দিয়েছেন। অথচ উলটো সুর গেয়েছেন রামপুরহাট পশ্চিমচক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অরুণ মণ্ডল। ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে চাঁদা না নিয়ে পুজো করতে বললেও পুজোয় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। অরুণ মণ্ডলের বক্তব্য, “স্কুল তো চাঁদা না নিয়ে পুজো করছে। ওই স্কুল কেন করেনি তা বলতে পারব না।”

Advertisements