রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভগ্নপ্রায় ফলনাপুরের শতবর্ষ পুরানো মদন মোহন মন্দির, হেরিটেজ ঘোষণার দাবি 

সাবেক ছিটমহল ফলনাপুরে শতাব্দী প্রাচীন রায় পরিবারের মদন মোহন মন্দির এখন ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় কয়েকজন মন্দিরের গায়ে থাকা আগাছার কিছুটা কেটে পরিষ্কার করে দোল পূর্ণিমায় পুজোও করেছেন। কয়েক বছর আগে ফলনাপুর থেকে চলে যাওয়া রায় পরিবারের এই মন্দির এখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক। এখান থেকে চলে যাওয়া রায় পরিবারের সদস্যদেরও একই বক্তব্য। তাঁরা জানান, মন্দিরটি সংস্কার করলে তাদের কোনও আপত্তি নেই।
ফলনাপুরের রায় পরিবারের প্রবীণ সদস্য সুধীরচন্দ্র রায় বলেন, আমাদের এই মন্দিরটি কয়েকশো বছরের প্রাচীন মন্দির। শুনেছি, তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যে আমাদের এই মন্দিরের মতো ব্যক্তিগত মন্দির আর কোথাও ছিল না। প্রশাসন এটাকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংস্কার করলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।
শীতলকুচির বিডিও অঞ্জন চৌধুরি বলেন, প্রাচীন মন্দির হেরিটেজ ঘোষণার দাবি উঠতেই পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা আমাকে লিখিত ভাবে জানালে আমি তা জেলায় পাঠাব। জেলার প্রতিনিধিরা সরজমিনে তদন্ত করার পর হেরিটেজ ঘোষণা করা যায় কিনা তা বিবেচনা করবে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাবেক ছিটমহল ফলনাপুরে রায় পরিবার থাকতেন। পরিবারের বর্তমান সদস্য এবং স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, ষোড়শ শতকের কোনও এক সময় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও এর স্বপক্ষে পরিবারের কাছে কোনও নথি নেই। তবে কোচবিহার রাজার আর্থিক আনুকূল্যে দিনহাটার গোসানি মন্দির বা ময়নাগুড়ির জল্পেশের মন্দির, কোচবিহারের মদন মোহন মন্দিরের আদলে তৈরি এই মন্দিরটি যে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী তা অনেকেই স্বীকার করেন। মন্দির লাগোয়া বিশালাকারের কুয়োও এর সাক্ষী বহন করে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এরকম প্রাচীন মন্দির কোথাও নেই এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের। সম্প্রতিক ছিটমহল বিনিময় হওয়ায় ফলনাপুর এখন এদেশের ভূখণ্ডে রয়েছে। রায় পরিবার এখান থেকে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাই মন্দিরের দেখাশুনা করছেন। তারাই দাবি তুলছেন মন্দিরটিকে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করে প্রশাসন দ্রুত সংস্কারে উদ্যোগী হোক। মন্দিরটি পরিচর্যায় অভাবে চারিদিক আগাছায় ভরে গিয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং ছিটমহলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এনিয়ে এত দিন বাসিন্দারা কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। ছিটমহলের বিনিময় হওয়ার পর মন্দিরটিকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি উঠেছে।
Advertisements