মুসলিম ব্যক্তিকে নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে অপহরণ ও ধর্মান্তকরণের অপরাধ থেকে মুক্তি দিল্লী কোর্ট

download.jpgমেয়েটি পূর্ব দিল্লীর কল্যাণপুরীর বাসিন্দা। গত বছর ৯ই জুলাই মেয়েটি মাত্র ১৭ বছর বয়সে অভিযুক্ত মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটিকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং যুবকটির সঙ্গে মুসলিম আইন মেনে ‘নিকাহ’ হয়। মেয়েটির মা পরে কল্যাণপুরী থানাতে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগে জানান যে তার সন্দেহ কেউ থাকে অপহরণ করে থাকতে পারে। সেই মতো পুলিশ অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। কোর্ট-এ পুলিশের পেশ করা তথ্য থেকে জানা গিয়েছে ,মেয়েটিকে পুলিশ প্রায় পাঁচমাস পরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত যুবকটিকে গ্রেপ্তার করে দিল্লী নিয়ে যায়। পরে মেয়েটি কোর্ট-এ জবানবন্দি দেয় যে সে নিজের ইচ্ছাতে সে ওই ব্যক্তির সঙ্গে গিয়েছিলো। এই ব্যক্তির পরিপ্রেক্ষিতে কোর্ট অভিযুক্ত যুবককে মুক্ত করার আদেশ দেয়। গত ১৮ই জুলাই অতিরিক্ত জজ অশ্বিনী সরপাল তার জানিয়েছেন ” মুসলিম আইন অনুযায়ী, একটি মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে বিয়ে করতে পারে, যা মেয়েদের মধ্যে ১৪-১৫ বয়সে চলে আসে। ধর্ম পরিবর্তনের পর,যদিও তার বয়স ১৭ বছর,তবুও মুসলিম আইন অনুযায়ী সে মুসলিম যুবকটিকে বিয়ে করার যোগ্য” । এই প্রসঙ্গে তিনি আগের দুটি কেসের রায়ের কথা উল্লেখ করেন, হাই কোর্ট-এ দিল্লী বনাম উমেশ এবং শ্যাম কুমার বনাম স্টেট এর। এই দুটি কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে কোনো মেয়ে যদি নিজের ইচ্ছেতে কাউকে বিয়ে করার জন্যে পালিয়ে যায় তখন তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও যৌন উৎপীড়ণের ধারা চাপানো যায় না। গত মার্চ দিল্লীর একটি স্পেশাল কোর্ট তার রায়ে বলেছিলো যে মুসলিম বিবাহ আইন ও POSCO দুটি পরস্পর বিরোধী আইন। কোর্ট আরও বলেছিলো, যেখানে POSCO আইন অনুযায়ী মেয়েটি নাবালিকা ও বিবাহের যোগ্য নয়, কিন্তু একই মেয়েটি মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহের যোগ্য। সরকারের উচিত এই বিষয়ে অবিলম্বে নজর দেওয়া ও আইনটির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা।

Advertisements