মাদক ইঞ্জেকশন দিয়ে নির্মম অত্যাচার চলত পাকিস্তানে, দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয় জওয়ান

chanduভুল করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল সেনা জওয়ান সেনা জওয়ান চন্দু চবন। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর সম্প্রতি তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ফিরে তিনি জানালেন, পাক সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী থাকার সময় নৃশংস ও ভয়াবহ অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। ওই জওয়ান জানান, তাঁকে নিয়মিত মাদক ইঞ্জেকশনও দেওয়া হত। চন্দুর দাদা ভূষণ একথা জানিয়েছেন। ভূষণও সেনাবাহিনীর জওয়ান।

সংবাদমাধ্যমকে ভূষণ পাকিস্তানে চন্দুর ওপর নির্মম অত্যাচারের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চন্দু তাঁদের এই অত্যাচারের কথা জানিয়েছেন। ভূষণ বলেছেন, বন্দী থাকাকালে পাক সেনারা দিনের পর দিন চন্দুকে মারধর, অত্যাচার করেছে। তারা চন্দুকে নিয়মিত মাদক ইঞ্জেকশনও দিত। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ার কারণ জানতে এভাবে অত্যাচার চালাত পাক সেনারা। এর পাশাপাশি, জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার ঘাঁটি সম্পর্কেও চন্দুর কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা চালাত পাক সেনা।

অমৃতসরের সেনা হাসপাতালে ২২ বছরের চন্দুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন দাদা ভূষণ, দাদু ধোন্ধু এবং বোনের স্বামী চেতন পাতিল। ভূষণ জানান, তাঁর ভাই চন্দুর শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ রয়েছে। হাতের আঙুলগুলো ক্ষতবিক্ষত। মুখেও আঘাত করা হয়েছে। হাঁটতেও পারছেন না চন্দু। মাদকে আচ্ছন্ন থাকার জন্য বন্দী থাকার সময়ে অনেক কিছুই মনেও করতে পারছেন না চন্দু। তাঁকে পেট ভরে খেতেও দেওয়া হত না। ভারতীয় বাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দিন তিনি ভুলবশত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিলেন।

এক সেনা আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, চন্দুকে হারিয়ে যাওয়া শিশুর মতো মনে হচ্ছিল। তিনি যে দেশে ফিরেছেন, সে কথা বুঝতেই তাঁর কয়েক ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। তিনি অন্য কারুর সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছিলেন না।