মসজিদে অনুদানের টাকায় সীমান্তে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে পাক জঙ্গিরা

Pak-Terrorist-Dipদরগা, মসজিদ ও মুসলিমদের অন্যান্য পবিত্র ধর্মস্থলে অনুদানের টাকা ব্যবহার করে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে পাকিস্তান৷ সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন রাজস্থান পুলিশের গোয়েন্দারা৷ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চররা সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলির একাধিক মাজার, মসজিদের সামনে ‘ডোনেশন বক্স’ রেখে আসছে৷ ওই বাক্সে জমা পড়া টাকা রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে জঙ্গিরা৷ গোটা পরিকল্পনার পিছনেই রয়েছে ভারতে সক্রিয় আইএসআইয়ের একটি বড় চক্র৷
গত সপ্তাহে বারমের জেলা থেকে ধৃত আইএসআই চর দীনা খানকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে৷ পুলিশের সামনে খান স্বীকার করেছে, বারমেরের ছোটান গ্রামে একটি ছোট ‘মাজার’-এর দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে৷ সেখান থেকে অনুদান বাবদ সংগৃহীত সাড়ে তিন লাখ টাকা দীনা তুলে দিয়েছিল আরও দুই পাক চর, সতরাম মাহেশ্বরী ও তার ভাইপো বিনোদ মাহেশ্বরীর হাতে৷ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক শীর্ষকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য জানিয়েছেন৷ কোথায় কত টাকা পৌঁছে দিতে হবে, তার নির্দেশ পাকিস্তান থেকে সরাসরি দীনা খানের ফোনে আসত৷
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, অনুদানের টাকা বিতরণের দায়িত্ব দীনা খানের উপর চাপায় আইএসআই৷ সতরাম ও হাজি খানের কাছে টাকা পৌঁছে দিত দীনা৷ ওই দু’জনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ রাজস্থান লাগোয়া সীমান্তের কাছে ভারতীয় সেনার গতিবিধির খবর ওই তিন চর পৌঁছে দিত ইসলামাবাদে৷ পুলিশের দাবি, মসজিদে অনুদানের টাকার কোনও হিসাব রাখা হয় না বলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ওই টাকা ব্যবহার করতে ধৃতদের কোনও অসুবিধা হত না৷ সীমান্ত লাগোয়া আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে মুসলিমদের ধর্মস্থানে এরকম ‘ডোনেশন বক্স’ রেখে এসেছে পাক চররা, অনুমান পুলিশের৷ নোট বাতিলের পর হাওয়ালার ব্যবসা বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় পাক চর ও জঙ্গিরা এই নয়া অভিনব পন্থা গ্রহণ করেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷তাই এবার গোয়েন্দাদের নজরে স্থানীয় গ্রামগুলির ধর্মস্থল, যেখানে হঠাৎ করে ভক্তদের ভিড় বেড়ে গিয়েছে৷ পুলিশের বড় কর্তারা স্পষ্ট নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন, ওই সব এলাকায় কড়া নজরদারি চালাতে৷ ডেপুটি আইজি আর সুহাসা জানিয়েছেন, ভারতে সক্রিয় পাক চরদের চক্রকে চিহ্নিত করতে পুলিশি অভিযান জারি রাখা হবে৷

Advertisements