বীরভূমে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বাড়ি

বুধবার ২৩ শে আগস্ট সকালে বীরভূমের লোকপুর থানার বারাবনে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বাড়ি। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের খবর না মিললেও ঘটনায় গ্রামজুড়ে চাপা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, বোমা মজুত ছিল বাড়িটিতে। সেখানেই কোনও কারণে অগ্নিসংযোগ ঘটনায় বিস্ফোরণ হয়। তাতেই খড়ের চালা ও ইটের তৈরি বাড়িটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে বলেও গ্রামবাসীদের দাবি। যদিও এনিয়ে মুখে কুলুপ এটেছে পুলিশ।
ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া লোকপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রাম বারাবন। এক সময়ে মাওবাদীদের আস্তানা ছিল এই গ্রামে। কিন্তু মাওবাদীরা প্রকাশ্যে তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করলেও গ্রামে শান্তি ফেরেনি। বিভিন্ন সময়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়েছে এই গ্রাম। এদিন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ হঠাৎই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গ্রাম। গ্রামের নিচুপাড়ার আইনুস খানের একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যায়। যদিও পাশের পাকা বাড়িতেই বসবাস করত আইনুস খান। এলাকার নানা দুষ্কৃতীমূলক কাজের সঙ্গে সে যুক্ত বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। বোমায় তার বাড়ি উড়ে যাওয়ায় এলাকায় চাপা আতঙ্ক ছড়ায়। প্রথমেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা শুরু হয়। বেশ কয়েকজন জখম হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ থাকতেও গ্রামে ঢুকতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয় সাংবাদিকদের।
গ্রামের কাছে কিছুটা যেতেই তীব্র আতঙ্কের ছবি ধরা পড়ে। রাস্তার ধারে মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনও কথা বলতে চাননি। এমনকী কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে তাও দেখাতে অস্বীকার করেন। ঘটনাস্থলের কিছুটা কাছে যেতেই প্রায় জনা পঞ্চাশ দুষ্কৃতী তেড়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে এলাকার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি শংকর গড়াইকে ফোন করে এলাকার পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনুস খান ওখানকার তৃণমূল বুথ সভাপতি। বাচ্চা মেয়েটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এর বেশি কিছু হয়নি। গ্রামে যাওয়ার কথা বলতেই শংকরবাবু স্পষ্ট বলে দেন, গ্রামে ঢোকা যাবে না। অসুবিধা আছে। কিন্তু কী অসুবিধা তিনি তা আর খোলসা করেননি। অন্যদিকে তৃণমূল জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। দল কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করে না। এনিয়ে জেলা পুলিশ সুপার সুধীর কুমার নীলকান্তমকে ফোন করা হলেও তিনি কোনও কথা বলেননি।
উল্লেখ্য, বছর খানেক আগেই এই থানা এলাকার ন’পাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিছু দিন পরেই ডেমুরটিটা গ্রামে একটি বাড়ি বিস্ফোরণে উড়ে যায়। অন্যদিকে চলতি মাসেরই এক তারিখে লোকপুর থানার ডেমুরটিটা গ্রামে বিস্ফোরণে বাড়ি উড়ে গিয়েছিল। সেবারও বাড়িতে বোমা রাখার অভিযোগ উঠেছিল। বোমা বিস্ফোরণের এই ধারাবাহিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। গ্রামবাসী নাসির খান, আখতার খানরা বলেন, এদিন সকালে বোমা বিস্ফোরণেই বাড়িটি উড়ে গিয়েছে। এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য বাড়িতে বোমা মজুত করা হয়েছিল।

Advertisements