বিপদে পরে গেছে কাকদ্বীপের মৎস্য শ্রমিকরা

দ: ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদনের জন্যে সারা রাজ্যে পরিচিত। এখানে ছোটোবড়ো সব মিলিয়ে প্রায় ২০০০ ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরে। এই ট্রলারগুলিতে সাধারণত বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুরা মাছ ধরার শ্রমিকের কাজ করে। একটি ট্রলারে প্রায় ১৫-১৭ জন শ্রমিক মাছ ধরার কাজে যুক্ত থাকে। এই শ্রমিকরা সকলেই পুরোপুরি মাছ ধরার ওপর  নির্ভরশীল। এদের কেউ এক দুই বা বেশ কয়েকবছর আগে এই দেশে এসেছেন। এরা প্রায় সকলেই বস্তির মতো করে কাকদ্বীপ-এর বিভিন্ন জায়গাতে গাদাগাদি করে থাকেন। এদেরকে কাকদ্বীপের  স্টেশনের দুপাশে দেখা যায়। কিন্তু মোদির নোট বাতিলের ঘোষণাতে এরা পড়েছে  সমস্যায়। কারণ টাকা অচল হয়ে গিয়েছে। আর এদের প্রায় কারোর   ব্যাঙ্ক-এ বই না থাকার কারণে মালিকের দেওয়া টাকা এরা বদল  করতে পারছে না। কারণ মালিক দাদন হিসেবে যে টাকা দিচ্ছে, তা সবই পুরোনো নোটে। তার ওপর পুরোনো নোট তেল পাম্পগুলি না নেওয়াতে প্রায় ১০০০ এর ওপর ট্রলার তেলের অভাবে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। ফলে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল এই সমস্ত হিন্দু উদ্বাস্তুরা এখন যথেষ্ট সমস্যায়। এর একটি বোরো কারণ অবশ্য মালিকের কাছে থাকা বিপুল পরিমান কালো টাকা। কারণ কাকদ্বীপের বেশিরভাগ মালিকরা বিনা ট্যাক্সে দীর্ঘদিন মাছের কারবার চালিয়ে আসছে। ফলে আয় বহির্ভুত বিপুল পরিমান টাকা পাল্টানোর সুযোগ না থাকায় সেই টাকা এখন শ্রমিকদেরকে আগামী বছরগুলির জন্যে দাদন হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকরা বিপুল সমস্যাতে রয়েছেন।

Advertisements