বাংলাদেশী মুসলিমদের দখলমুক্ত করতে গিয়ে অগ্নিগর্ভ কাজিরাঙা, সংঘর্ষে নিহত ২

8জবরদখল করে বসে থাকা বাংলাদেশী মুসলিমদের উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কাজিরাঙা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মৃত্যু হল দু’জনের। জখম প্রায় তিরিশ জন।কাজিরাঙা লাগোয়া বান্দরডুবি, দেওচুর চাঙ ও পালখোয়া গ্রামে জবরদখলকারীদের ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কংগ্রেস সরকারের আমলে কাজিরাঙায় উচ্ছেদ চালাতে গিয়ে জবরদখলকারী এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির বাধায় পিছু হঠেছিল প্রশাসন। উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনে জবরদখলকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষকমুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈ বলেন, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সময় না দিয়ে উচ্ছেদ চালাতে দেওয়া হবে না।

আজ সকাল থেকে পোষা হাতি, জেসিবি, রোলার নিয়ে বনবিভাগ উচ্ছেদ শুরু করে। ৩৮১টি পরিবারের বাড়ি ভাঙা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জিনিসপত্র নিয়ে সরে গেলেও বান্দরডুবিতে বহিরাগতদের সঙ্গে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা রাস্তা আটকায়। পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছোঁড়া হয়। পুলিশ লাঠি চালায়। কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছোঁড়ে। পরে বিক্ষোভকারীরা পিছিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে আঞ্জুনা খাতুন (১৬) ও ফকরুদ্দিন (২৬) নামে দু’জনের মৃতদেহ মেলে। ১৪ জন পুলিশকর্মী-সহ অনেকে জখম হন। বিক্ষোভকারীরা অ্যাম্বুল্যান্স থেকে মৃতদেহ নামিয়ে পথ অবরোধ শুরু করে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ডিআইজি অখিলেশ সিংহ জানান, পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে। মৃতদের দেহে গুলির ক্ষত নেই।

ওই ঘটনার জেরে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তিনি নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা ও জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। শিল্প ও পরিবহণমন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি জানান, জমির প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জবরদখলকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় না। বহিরাগতরা উত্তেজনা ছড়ায়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আজকের ঘটনার তদন্ত করবে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব বরা কমিশন। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে। শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, ময়না তদন্তে দু’জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। কিন্তু উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় আপোস করা হবে না। প্ররোচনাদাতাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

সরকারের দাবি, উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অখিলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে নগাঁও জেলা প্রশাসন। অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, পাট্টা থাকা জমির মালিকদের আগেই ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা তা মেনেও নেন। প্রকৃত অসমবাসীরা অরণ্য সংরক্ষণের স্বার্থে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সহমত ছিলেন।

এ দিকে এ দিন উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি কাজিরাঙার আশপাশে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় তাবু করে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের দাবি, ক্ষতিপূরণ না পেলে তাঁরা রাস্তা থেকে হঠবে না।