ফের কাশ্মীরের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হানা, খতম ২ জঙ্গি

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকায় সেনাঘাঁটিতে ফের আত্মঘাতী হামলা চালাল পাকিস্তান মদতপুষ্ট চার থেকে পাঁচজন ফিদায়েঁ (আত্মঘাতী জঙ্গি)৷ রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ শ্রীনগর থেকে ৫৪ কিলোমিটার দূরে বারামুলা শহর লাগোয়া জাঁবাজপোরা সেনাঘাঁটিতে এই হামলা করা হয়েছে ৷ গুলি বিনিময়ে খতম হয় দুই জঙ্গি৷

শ্রীনগর থেকে সেনাবাহিনীর ১৫ নং কোরের কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ৪৬ নং ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে দু’দিক থেকে হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ ঠিক উরিতে সেনা সদর দফতরে যেভাবে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা, এদিনও সেভাবেই হামলা চালায় তারা৷ প্রথমে বেশ কয়েকটি গ্রেনেড ছোড়ে৷ তারপর এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি শুরু করে৷ কিন্তু সেনা জওয়ানদের তৎপরতায় তারা মূল সেনা শিবিরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়৷

তখন চার জঙ্গি সেনা শিবিরের লাগোয়া বিএসএফ ক্যাম্পে ঢোকার চেষ্টা করে৷ দু’পক্ষের গুলি যুদ্ধের মধ্যে সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন৷ রাতের অন্ধকারে দু’ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় চলে৷ মুখোমুখি গুলি যু‌দ্ধে খতম হয় দুই জঙ্গি৷ জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হন এক বিএসএফ জওয়ান৷ জখম হয়েছেন আরও এক বিএসএফ জওয়ান৷ গা-ঢাকা দিয়ে থাকা বাকি জঙ্গিদের খোঁজে গোটা এলাকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনা ও বিএসএফের যৌথবাহিনী৷

বারামুলাতে হামলার খবর পাওয়ার পরই গভীর রাতে বিএসএফের ডিজির সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ পরে রাজনাথ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর গোটা বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে৷ সেনা সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধে ৭.১৫ মিনিট থেকে পাক সেনাবাহিনী পালানওয়ালা, গুরেজ ও আখনুর সেক্টরে লাগাতার গোলাগুলি চালাতে শুরু করে৷ তখনই আঁচ পাওয়া যায় রাত বাড়লে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা আছে৷ সেই মতো তৈরিই ছিল সেনাবাহিনী৷